সীমান্ত নিয়ে আলোচনায় চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের অজিত দোভাল
- আপডেট সময় : ০৩:০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে চীনের রাজধানী বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সীমান্ত নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে সংকট নিরসনে ২০০৩ সাল থেকে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই বৈঠক হয়ে আসছে। এবারের বৈঠকটি হবে এ পর্যায়ের ২৫তম আয়োজন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২৪ আগস্ট) বেইজিং যাচ্ছেন অজিত দোভাল। সফরে ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। অন্যদিকে চীনের সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আগামী মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুই দেশের মধ্যে বৈঠকটি হবে।
চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ দীর্ঘ দিনের, যা প্রায় অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। কিছুদিন পরপরই দুই দেশের সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। সবশেষ ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত ঘিরে দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে বিতণ্ডা তৈরি হয়েছে।
সীমান্ত সংঘাতের পাশাপাশি অজিত দোভালের এ সফরকে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এ জোটের অন্যতম সদস্য হিসেবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মেলনে থাকার কথা, যদিও চীন সে তথ্য এখনো নিশ্চিত করেনি।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তারা জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী। দোভালের বেইজিং সফর সেই আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেটি হলে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আলাদা বৈঠকও হতে পারে, যা দুই দেশের অনেক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখবে।
চীনের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্কের মধ্যে সীমান্তকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। শনিবার দিল্লিতে এক আলোচনা সভায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। দুই দেশের সম্পর্ক কেমন হবে, তা স্বাভাবিক ভাবেই অনেকাংশে স্থির করবে সীমান্ত পরিস্থিতি।
সীমান্ত পরস্থিতিকে এমন গুরুত্ব দেওয়ার কারণও রয়েছে। দুই দেশ সীমান্ত নিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে একাধিকবার। সবশেষ ২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে চীনা সেনাদের সংঘর্ষ কঠোর আকার ধারণ করেছিল।
ওই সময় থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা চলে আসে। চার বছরেরও বেশি সময় পর ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে জিনপিং-মোদি বৈঠকের পর সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।



















