ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতে ট্রাম্পের নীতি আদালতে বাতিল সীমান্ত নিয়ে আলোচনায় চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের অজিত দোভাল শাকিল-ফারজানা দম্পতিকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দুদকের জাতিসংঘ অধিবেশন: সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ: গোসম্পদ, দুধ উৎপাদন ও ডেইরি অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র সাফল্য ও সমালোচনায় ভরা সরকারের ছয় মাস সার সংকট: গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেল কৃষকরা দুই দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল, ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার সামরিক পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, দক্ষতা-সততার মূল্যায়ন: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতে ট্রাম্পের নীতি আদালতে বাতিল সীমান্ত নিয়ে আলোচনায় চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের অজিত দোভাল শাকিল-ফারজানা দম্পতিকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দুদকের জাতিসংঘ অধিবেশন: সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ: গোসম্পদ, দুধ উৎপাদন ও ডেইরি অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র সাফল্য ও সমালোচনায় ভরা সরকারের ছয় মাস সার সংকট: গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেল কৃষকরা দুই দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল, ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার সামরিক পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, দক্ষতা-সততার মূল্যায়ন: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতে ট্রাম্পের নীতি আদালতে বাতিল

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। বিচারক তার রায়ে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আইনি ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনি বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের জানুয়ারিতে ঘোষিত এই নীতি ছিল ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। এটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থি। কারণ, ওই আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্বের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিচারক জ্যানেট ভার্গাস ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যে নীতিতে কেবল আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসী ভিসা দেওয়া ক্যাটাগরি অনুযায়ী পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা এই সংবিধিবদ্ধ আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ; ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়েসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো; বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো বলকান অঞ্চলের দেশগুলো; এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশের ভিসা আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট সে সময় দাবি করেছিল, এসব দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। তবে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা এবং নির্ধারিত এসব দেশের নাগরিক ও তাদের স্বজনদের জন্য ভিসার আবেদন করা মার্কিন নাগরিকদের দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় এলো।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছেন। গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয়-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপমুখপাত্র টমি পিগট সে সময় বলেন, ‘স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে।’ ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত গত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছিল।

অন্যদিকে অধিকার রক্ষায় কাজ করা গোষ্ঠীগুলোর মতে, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য এটি একটি অনিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা থেকে বর্ণবৈষম্যের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতে ট্রাম্পের নীতি আদালতে বাতিল

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। বিচারক তার রায়ে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আইনি ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনি বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের জানুয়ারিতে ঘোষিত এই নীতি ছিল ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। এটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থি। কারণ, ওই আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্বের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিচারক জ্যানেট ভার্গাস ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যে নীতিতে কেবল আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসী ভিসা দেওয়া ক্যাটাগরি অনুযায়ী পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা এই সংবিধিবদ্ধ আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ; ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়েসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো; বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো বলকান অঞ্চলের দেশগুলো; এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশের ভিসা আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট সে সময় দাবি করেছিল, এসব দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। তবে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা এবং নির্ধারিত এসব দেশের নাগরিক ও তাদের স্বজনদের জন্য ভিসার আবেদন করা মার্কিন নাগরিকদের দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় এলো।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছেন। গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয়-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপমুখপাত্র টমি পিগট সে সময় বলেন, ‘স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে।’ ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত গত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছিল।

অন্যদিকে অধিকার রক্ষায় কাজ করা গোষ্ঠীগুলোর মতে, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য এটি একটি অনিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা থেকে বর্ণবৈষম্যের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।