ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতে ট্রাম্পের নীতি আদালতে বাতিল সীমান্ত নিয়ে আলোচনায় চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের অজিত দোভাল শাকিল-ফারজানা দম্পতিকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দুদকের জাতিসংঘ অধিবেশন: সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ: গোসম্পদ, দুধ উৎপাদন ও ডেইরি অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র সাফল্য ও সমালোচনায় ভরা সরকারের ছয় মাস সার সংকট: গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেল কৃষকরা দুই দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল, ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার সামরিক পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, দক্ষতা-সততার মূল্যায়ন: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতে ট্রাম্পের নীতি আদালতে বাতিল সীমান্ত নিয়ে আলোচনায় চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের অজিত দোভাল শাকিল-ফারজানা দম্পতিকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দুদকের জাতিসংঘ অধিবেশন: সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ: গোসম্পদ, দুধ উৎপাদন ও ডেইরি অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র সাফল্য ও সমালোচনায় ভরা সরকারের ছয় মাস সার সংকট: গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেল কৃষকরা দুই দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল, ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার সামরিক পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, দক্ষতা-সততার মূল্যায়ন: প্রধানমন্ত্রী

সাফল্য ও সমালোচনায় ভরা সরকারের ছয় মাস

ড. জাহাঙ্গীর আলম
  • আপডেট সময় : ০২:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ছয় মাসে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নয়া সরকার অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে সাফল্য আছে। ঘাটতিও আছে। সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান সাফল্য হচ্ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস। বর্তমানে বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ধীরগতিতে কমছে। কখনও দুই মাস কমে তো পরে আবার বেড়েও যায়। কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি, আমদানি ও বাজারে পণ্য সরবরাহের তারতম্যের কারণে এমনটি ঘটে। আবহাওয়ার বৈপরীত্য তথা বন্যা ও খরার কারণে কৃষির উৎপাদন প্রায়ই বিঘ্নিত হয়। তখন বৃদ্ধি পায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি। আবার সুদিন এলে ভালো ফসল হয়। হ্রাস পায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল সর্বাধিক ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। তখন সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর পর তা হ্রাস পায়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এর পর ধীরে তা হ্রাস পেতে থাকে। গত মে মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। জুন এবং জুলাই মাসে তা যথাক্রমে ৮ দশমিক শূন্য ৬ ও ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে হ্রাস পায়। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারির ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ থেকে জুলাই মাসে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে হ্রাস পায়। এবার হাওড়ের বন্যায় বোরো ধান মার খেয়েছে। পরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান। তাতে শাক-সব্জির উৎপাদনও বিঘ্নিত হয়েছে। তার পরও ভালো ব্যবস্থাপনার কারণে খাদ্যমূল্যস্ফীতি গত দুই মাস ক্রমাগতভাবে কমেছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে খাদ্য মজুদের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টন। এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশি মজুদ।  

খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনায় ২০২১ সালের জুন থেকে বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান। ২০২১ সালের মে মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর পর থেকে এ হার ক্রমাগতভাবে ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এখনও তার ব্যতিক্রম নয়। অর্থাৎ বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার কমে ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওরা এখন উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতেও পিছিয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছর আমাদের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এটা বাস্তবায়নযোগ্য। আগামীতে তা ৫ শতাংশের নিচে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা দরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করা ও পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। 

বাজারে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কারসাজি বন্ধ করে খাদ্য পণ্যের উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার মূল্য ফারাক যথাসম্ভব কমিয়ে আনা দরকার।

নয়া সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বন্ধ্যত্ব এখনও কাটেনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরে কভিড মহামারির সময় তা হ্রাস পায়। ২০২৪-২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হ্রাস পায় ২ দশমিক ৪২ শতাংশে। গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে তা এখনও সন্তোষজনক নয়। আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে জিডিপির আকার বর্তমান প্রায় অর্ধ ট্র্রিলিয়ন ডলার থেকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে এর প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতেও উন্নতি করতে হবে। চলতি অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তা অর্জনের জন্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
সরকার এ বছর একটি সম্প্রসারিত বাজেট অনুসরণ করছে। এর আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের মূল বাজেটের তুলনায় তা ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। অন্যান্য কারণের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অভিপ্রায় বাজেটের আকার এত বেশি সম্প্রসারিত করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে কি না? এবারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এটি অনেক বড় লক্ষ্যমাত্রা। এ পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের গতি খুবই শ্লথ। গত ছয় মাসে সরকার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে ব্যাংক খাত থেকে। প্রতি মাসে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতির হার এখনও অনেক চড়া। এ পরিস্থিতিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রায় শতভাগেরও বেশি বেতন-ভাতা বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সুদিনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।  

দেশের কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের সুবিধার্থে কিছু ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নয়া বিএনপি সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তারা ঋণগ্রস্ত কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদে-আসলে মওকুফ করে দিয়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার্থে গ্রহণ করেছে খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি। কৃষকদের শনাক্তকরণ ও সুরক্ষার জন্য চালু করেছে কৃষক কার্ড। 

বাংলা ১৪৩৩ সালের গত পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেন কৃষক কার্ড।  প্রথম ধাপে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষি কার্ড মূলত কৃষকদের শনাক্তকরণ কার্ড। এটিকে কৃষকদের জন্য মর্যাদার স্বীকৃতি ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেছেন অনেকে। এ কার্ডের মাধ্যমে ১০ প্রকার সুবিধা পাবেন একজন কৃষক। এর মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদ দেওয়া হবে। 

নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে প্রশংসনীয় কাজটি করে, সেটা হলো ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের ১৯৯১ থেকে ৯৬ মেয়াদকালে ৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। তারও আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সত্তরের দশকের শেষ ভাগে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ কৃষিঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। এবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন নয়া সরকারের ১০ হাজার টাকা মওকুফের বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সন্বিবেশিত ছিল। এই উদ্যোগে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন। যা তাদের কর্মস্পৃহাকে বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তাছাড়া চলতি অর্থবছরে মোট কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে দেশের কৃষকদের অর্থায়ন সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে। 

নতুন সরকারের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ খাল-নদী খনন ও পুনর্খননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোলে সাহাপাড়া খাল পুনর্খনন কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল-বিল খনন বা পুনর্খনন করে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো। শুষ্ক মৌসুমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ ও বৃষ্টির পানি ধরে রেখে কাজে লাগানো এর প্রধান উদ্দেশ্য। এ কর্মসূচি স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খনন সম্পন্ন হয়েছে। এটি ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ বলে জানা গেছে। 

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির সূত্রপাত হয় ১৯৭৬ সালে, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। পরবর্তী ছয় বছর নাগাদ প্রায় পৌনে ৬ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পুনর্খননের কাজ সম্পন্ন হয়। তার ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর। ১৯৮১ সালে  দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভর বলে ঘোষণা করা হয়। ওই বছর ১০ হাজার টন চাল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে পরিচালিত উলাশী যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাসে এবং স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯৭৬ সালের পহেলা নভেম্বর তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী যদুনাথপুর এলাকায় এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। এটি ছিল স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির প্রথম প্রকল্প। 
 
কৃষি উপকরণ বিতরণে সরকারের সফলতার ঘাটতি আছে। ডিজেল সংকটের কারণে গত বোরো মৌসুমে সেচ কাজ বিঘ্নিত হয়েছে। বিদ্যুতের অপ্রতুলতায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ লোডশেডিং মেনে নিচ্ছে। অনেক স্থানে তারা সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছে। সাম্প্রতিক রাসায়নিক সার সরবরাহে অপর্যাপ্ততা কৃষকদের নরুৎসাহিত করেছে। অনেক স্থানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে সার সংগ্রহ করতে হয়েছে কৃষকদের। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে সার আমদানি বিপর্যস্ত হয়েছে। এরই মাঝে গ্যাস সংকটের কারণে এখন দেশের সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একটি মাত্র কারখানায় উৎপাদন চলমান আছে। বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হলে আমদানি কমানো যেত। রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া সারের সংকট অনেকটাই দূরীভূত হতো।  

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাফল্য ও সমালোচনায় ভরা সরকারের ছয় মাস

আপডেট সময় : ০২:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

গত ছয় মাসে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নয়া সরকার অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে সাফল্য আছে। ঘাটতিও আছে। সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান সাফল্য হচ্ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস। বর্তমানে বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ধীরগতিতে কমছে। কখনও দুই মাস কমে তো পরে আবার বেড়েও যায়। কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি, আমদানি ও বাজারে পণ্য সরবরাহের তারতম্যের কারণে এমনটি ঘটে। আবহাওয়ার বৈপরীত্য তথা বন্যা ও খরার কারণে কৃষির উৎপাদন প্রায়ই বিঘ্নিত হয়। তখন বৃদ্ধি পায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি। আবার সুদিন এলে ভালো ফসল হয়। হ্রাস পায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল সর্বাধিক ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। তখন সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর পর তা হ্রাস পায়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এর পর ধীরে তা হ্রাস পেতে থাকে। গত মে মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। জুন এবং জুলাই মাসে তা যথাক্রমে ৮ দশমিক শূন্য ৬ ও ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে হ্রাস পায়। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারির ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ থেকে জুলাই মাসে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে হ্রাস পায়। এবার হাওড়ের বন্যায় বোরো ধান মার খেয়েছে। পরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান। তাতে শাক-সব্জির উৎপাদনও বিঘ্নিত হয়েছে। তার পরও ভালো ব্যবস্থাপনার কারণে খাদ্যমূল্যস্ফীতি গত দুই মাস ক্রমাগতভাবে কমেছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে খাদ্য মজুদের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টন। এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশি মজুদ।  

খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনায় ২০২১ সালের জুন থেকে বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান। ২০২১ সালের মে মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর পর থেকে এ হার ক্রমাগতভাবে ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এখনও তার ব্যতিক্রম নয়। অর্থাৎ বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার কমে ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওরা এখন উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতেও পিছিয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছর আমাদের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এটা বাস্তবায়নযোগ্য। আগামীতে তা ৫ শতাংশের নিচে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা দরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করা ও পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। 

বাজারে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কারসাজি বন্ধ করে খাদ্য পণ্যের উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার মূল্য ফারাক যথাসম্ভব কমিয়ে আনা দরকার।

নয়া সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বন্ধ্যত্ব এখনও কাটেনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরে কভিড মহামারির সময় তা হ্রাস পায়। ২০২৪-২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হ্রাস পায় ২ দশমিক ৪২ শতাংশে। গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে তা এখনও সন্তোষজনক নয়। আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে জিডিপির আকার বর্তমান প্রায় অর্ধ ট্র্রিলিয়ন ডলার থেকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে এর প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতেও উন্নতি করতে হবে। চলতি অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তা অর্জনের জন্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
সরকার এ বছর একটি সম্প্রসারিত বাজেট অনুসরণ করছে। এর আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের মূল বাজেটের তুলনায় তা ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। অন্যান্য কারণের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অভিপ্রায় বাজেটের আকার এত বেশি সম্প্রসারিত করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে কি না? এবারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এটি অনেক বড় লক্ষ্যমাত্রা। এ পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের গতি খুবই শ্লথ। গত ছয় মাসে সরকার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে ব্যাংক খাত থেকে। প্রতি মাসে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতির হার এখনও অনেক চড়া। এ পরিস্থিতিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রায় শতভাগেরও বেশি বেতন-ভাতা বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সুদিনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।  

দেশের কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের সুবিধার্থে কিছু ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নয়া বিএনপি সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তারা ঋণগ্রস্ত কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদে-আসলে মওকুফ করে দিয়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার্থে গ্রহণ করেছে খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি। কৃষকদের শনাক্তকরণ ও সুরক্ষার জন্য চালু করেছে কৃষক কার্ড। 

বাংলা ১৪৩৩ সালের গত পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেন কৃষক কার্ড।  প্রথম ধাপে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষি কার্ড মূলত কৃষকদের শনাক্তকরণ কার্ড। এটিকে কৃষকদের জন্য মর্যাদার স্বীকৃতি ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেছেন অনেকে। এ কার্ডের মাধ্যমে ১০ প্রকার সুবিধা পাবেন একজন কৃষক। এর মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদ দেওয়া হবে। 

নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে প্রশংসনীয় কাজটি করে, সেটা হলো ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের ১৯৯১ থেকে ৯৬ মেয়াদকালে ৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। তারও আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সত্তরের দশকের শেষ ভাগে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ কৃষিঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। এবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন নয়া সরকারের ১০ হাজার টাকা মওকুফের বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সন্বিবেশিত ছিল। এই উদ্যোগে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন। যা তাদের কর্মস্পৃহাকে বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তাছাড়া চলতি অর্থবছরে মোট কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে দেশের কৃষকদের অর্থায়ন সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে। 

নতুন সরকারের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ খাল-নদী খনন ও পুনর্খননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোলে সাহাপাড়া খাল পুনর্খনন কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল-বিল খনন বা পুনর্খনন করে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো। শুষ্ক মৌসুমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ ও বৃষ্টির পানি ধরে রেখে কাজে লাগানো এর প্রধান উদ্দেশ্য। এ কর্মসূচি স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খনন সম্পন্ন হয়েছে। এটি ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ বলে জানা গেছে। 

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির সূত্রপাত হয় ১৯৭৬ সালে, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। পরবর্তী ছয় বছর নাগাদ প্রায় পৌনে ৬ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পুনর্খননের কাজ সম্পন্ন হয়। তার ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর। ১৯৮১ সালে  দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভর বলে ঘোষণা করা হয়। ওই বছর ১০ হাজার টন চাল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে পরিচালিত উলাশী যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাসে এবং স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯৭৬ সালের পহেলা নভেম্বর তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী যদুনাথপুর এলাকায় এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। এটি ছিল স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির প্রথম প্রকল্প। 
 
কৃষি উপকরণ বিতরণে সরকারের সফলতার ঘাটতি আছে। ডিজেল সংকটের কারণে গত বোরো মৌসুমে সেচ কাজ বিঘ্নিত হয়েছে। বিদ্যুতের অপ্রতুলতায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ লোডশেডিং মেনে নিচ্ছে। অনেক স্থানে তারা সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছে। সাম্প্রতিক রাসায়নিক সার সরবরাহে অপর্যাপ্ততা কৃষকদের নরুৎসাহিত করেছে। অনেক স্থানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে সার সংগ্রহ করতে হয়েছে কৃষকদের। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে সার আমদানি বিপর্যস্ত হয়েছে। এরই মাঝে গ্যাস সংকটের কারণে এখন দেশের সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একটি মাত্র কারখানায় উৎপাদন চলমান আছে। বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হলে আমদানি কমানো যেত। রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া সারের সংকট অনেকটাই দূরীভূত হতো।