সার সংকট: গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেল কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকটকে কেন্দ্র করে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। প্রতি বস্তায় ছিল ৫০ কেজি করে সার। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক দফা ডিলারের কাছে গিয়েও তারা সার পাননি। অথচ খোলাবাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছিল। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা দলবদ্ধ হয়ে ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার সরবরাহের জন্য তিলাই ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ ছিল। চলতি আমন মৌসুমে ডিলার ওই বরাদ্দ থেকে ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া উত্তোলন করে গুদামে রাখেন।
তবে কৃষকেরা একাধিকবার গুদামে গিয়েও সার না পাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছিল। রোববার সকালে সেই ক্ষোভ থেকেই গুদামে ভাঙচুর করে সার নিয়ে যান তাঁরা।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কৃষকদের সার ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হলে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা ইউরিয়া ফেরত দেন। আরও ১৬৪ বস্তা সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় সারের চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা। এর বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৩২০ বস্তা। আবার বরাদ্দের তুলনায় ডিলারের সার উত্তোলনও কম ছিল। ফলে সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, ডিলারের নামে ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা গুদাম থেকে নিয়ে যান কৃষকেরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
ইউএনও অমৃত দেবনাথ বলেন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অনেকগুলো সারের বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন।
এদিকে কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



















