ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মৌখিকে নম্বর বাড়লে নিয়োগে ‘দলীয়করণের’ সুযোগ তৈরি হবে—নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছরের বৃদ্ধের আত্মসমর্পণ চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিলেন ড. খলিল বাগবিতণ্ডার জেরে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ: এজি ওসমানীর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি ও জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি বেনজীরকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, আয়োজক গ্রেপ্তার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর, সেরা কোচের তালিকায় কারা একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭১, বছরের সর্বোচ্চ
সংবাদ শিরোনাম ::
মৌখিকে নম্বর বাড়লে নিয়োগে ‘দলীয়করণের’ সুযোগ তৈরি হবে—নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছরের বৃদ্ধের আত্মসমর্পণ চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিলেন ড. খলিল বাগবিতণ্ডার জেরে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ: এজি ওসমানীর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি ও জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি বেনজীরকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, আয়োজক গ্রেপ্তার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর, সেরা কোচের তালিকায় কারা একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭১, বছরের সর্বোচ্চ

শুল্ক কাঠামোয় সংস্কার না হলে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে: বিশ্বব্যাংক

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উচ্চ শুল্ক ও প্যারা-ট্যারিফ বাংলাদেশের রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈষম্য তৈরি করছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, বর্তমান শুল্ক কাঠামোর কারণে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রি অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানির চেয়ে বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। এতে অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে ‘রপ্তানি-বিরোধী প্রবণতা’। এলডিসি থেকে উত্তরণকে সামনে রেখে তাই বাণিজ্যনীতি সংস্কার এবং শুল্ক কমানোর তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ আয়োজনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ‘বাংলাদেশ ট্রেড পলিসি অ্যাট আ ক্রসরোডস’ শীর্ষক ওই আলোচনায় বাণিজ্যনীতি, এলডিসি উত্তরণ এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্যভিত্তিক গড় এমএফএন শুল্ক ৭ শতাংশ হলেও প্যারা-ট্যারিফ যুক্ত হওয়ার পর কার্যকর গড় সীমান্ত সুরক্ষা দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে। জুতা, চামড়াজাত পণ্য, পাথর ও কাচ এবং পরিবহন খাতের সুরক্ষায় প্যারা-ট্যারিফের ভূমিকা তুলনামূলক বেশি।

২০২৫ অর্থবছরে দেশের মোট আমদানির প্রায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ছাড় বা অব্যাহতি নিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। এসব পণ্যের বড় অংশ এসেছে ভারত ও চীন থেকে।

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েনী সাত্তার বলেন, শুধু আমদানি শুল্ক বিবেচনা করলে কার্যকর সুরক্ষার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। তার হিসাবে, ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় নামমাত্র সুরক্ষা হার প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছাবে, যার প্রায় অর্ধেক আসবে প্যারা-ট্যারিফ থেকে।

বিশ্বব্যাংক মধ্যবর্তী কাঁচামালের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিলেও ড. জায়েনী সাত্তার বলেন, শুধু কাঁচামালের শুল্ক কমালে চূড়ান্ত পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর সুরক্ষা আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাঁচামালের পাশাপাশি চূড়ান্ত পণ্যের শুল্কও কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আলোচনায় ২০২৯ সালের মধ্যে দুই ধাপে শুল্ক সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে সব রেগুলেটরি ডিউটি বাতিল এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ছাড়া ২০ শতাংশের বেশি সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে কাস্টমস ডিউটি কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, এলডিসি উত্তরণের পর প্রয়োজনীয় বাণিজ্য সংস্কার না হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে। অন্যদিকে নয়টি আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে জিডিপিতে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বক্তারা মনে করেন, বর্তমান শুল্ক কাঠামো বহাল রেখে কার্যকর এফটিএ করা কঠিন। এজন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শুল্ক কাঠামো সংস্কার জরুরি।

শুল্ক কমালে স্বল্প মেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয় কমতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব বলেও মত দেন বক্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শুল্ক কাঠামোয় সংস্কার না হলে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে: বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০১:২৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উচ্চ শুল্ক ও প্যারা-ট্যারিফ বাংলাদেশের রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈষম্য তৈরি করছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, বর্তমান শুল্ক কাঠামোর কারণে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রি অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানির চেয়ে বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। এতে অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে ‘রপ্তানি-বিরোধী প্রবণতা’। এলডিসি থেকে উত্তরণকে সামনে রেখে তাই বাণিজ্যনীতি সংস্কার এবং শুল্ক কমানোর তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ আয়োজনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ‘বাংলাদেশ ট্রেড পলিসি অ্যাট আ ক্রসরোডস’ শীর্ষক ওই আলোচনায় বাণিজ্যনীতি, এলডিসি উত্তরণ এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্যভিত্তিক গড় এমএফএন শুল্ক ৭ শতাংশ হলেও প্যারা-ট্যারিফ যুক্ত হওয়ার পর কার্যকর গড় সীমান্ত সুরক্ষা দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে। জুতা, চামড়াজাত পণ্য, পাথর ও কাচ এবং পরিবহন খাতের সুরক্ষায় প্যারা-ট্যারিফের ভূমিকা তুলনামূলক বেশি।

২০২৫ অর্থবছরে দেশের মোট আমদানির প্রায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ছাড় বা অব্যাহতি নিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। এসব পণ্যের বড় অংশ এসেছে ভারত ও চীন থেকে।

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েনী সাত্তার বলেন, শুধু আমদানি শুল্ক বিবেচনা করলে কার্যকর সুরক্ষার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। তার হিসাবে, ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় নামমাত্র সুরক্ষা হার প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছাবে, যার প্রায় অর্ধেক আসবে প্যারা-ট্যারিফ থেকে।

বিশ্বব্যাংক মধ্যবর্তী কাঁচামালের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিলেও ড. জায়েনী সাত্তার বলেন, শুধু কাঁচামালের শুল্ক কমালে চূড়ান্ত পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর সুরক্ষা আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাঁচামালের পাশাপাশি চূড়ান্ত পণ্যের শুল্কও কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আলোচনায় ২০২৯ সালের মধ্যে দুই ধাপে শুল্ক সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে সব রেগুলেটরি ডিউটি বাতিল এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ছাড়া ২০ শতাংশের বেশি সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে কাস্টমস ডিউটি কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, এলডিসি উত্তরণের পর প্রয়োজনীয় বাণিজ্য সংস্কার না হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে। অন্যদিকে নয়টি আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে জিডিপিতে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বক্তারা মনে করেন, বর্তমান শুল্ক কাঠামো বহাল রেখে কার্যকর এফটিএ করা কঠিন। এজন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শুল্ক কাঠামো সংস্কার জরুরি।

শুল্ক কমালে স্বল্প মেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয় কমতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব বলেও মত দেন বক্তারা।