বাগবিতণ্ডার জেরে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ: এজি
- আপডেট সময় : ০৬:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
তথ্য গোপন ও আদালতের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবী ও মামলার আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ওই বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
এই ঘটনার বিষয়ে বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে কাজী নিয়োগসংক্রান্ত একটি মামলার সূত্র ধরে একই আদেশের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিট আবেদন করা হয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হাইকোর্টের বিধিমালা অনুযায়ী কোনো মামলা আগে দায়ের হয়ে খারিজ হলে পরবর্তী আবেদনে সেই মামলার তথ্য উল্লেখ করতে হয় এবং নতুন কারণ দেখাতে হয়। কিন্তু একই বিষয়ে একাধিক রিট আবেদনে আগের খারিজ হওয়া মামলার তথ্য গোপন করা হয়েছিল বলে আদালত মনে করেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী এবং মামলার আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। জরিমানার অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আদালত বিষয়টিকে গুরুতর প্রতারণা হিসেবে দেখেছে। তাঁর ভাষায়, শুধু আদালতের সঙ্গেই নয়, আপিল বিভাগের আগের আদেশের ক্ষেত্রেও প্রতারণা করা হয়েছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল।
সকালে জরিমানার আদেশ দেওয়ার সময় ব্যারিস্টার খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সামনে কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, খোকন জরিমানার প্রসঙ্গ তোলার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, সবকিছু বিবেচনা করেই আদালত আদেশ দিয়েছেন এবং সেই আদেশ পরিবর্তন করা হবে না।
এরপর ব্যারিস্টার খোকন মন্তব্য করেন, প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবীদের আয় কমে গেছে। প্রথমে বিষয়টি হালকাভাবে নিলেও প্রধান বিচারপতি পরে জানতে চান, তিনি সত্যিই এ মন্তব্যের অর্থ সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন কি না।
খোকন একই বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। এরপর তিনি জানান, এমন মন্তব্যের পর তিনি সেদিন আর আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
এ কথা বলেই প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। তাঁর সঙ্গে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরাও এজলাস ছাড়েন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনজীবীদের পেশাগত অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আদালতে মতভেদ বা ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তবে এসব বিষয় আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।



















