বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ, ম্যানেজিং কমিটি নয়
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে যাচ্ছে না। আগের মতোই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়া এবং সেই সনদের ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন পরীক্ষা আগের নিয়মেই হবে। অর্থাৎ এনটিআরসিএর মাধ্যমেই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই পরিপত্র জারি করা হবে।
এর আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছ থেকে নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে— এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনও এর প্রতিবাদ জানায়। এমন সিদ্ধান্ত হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন মহল থেকে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর অধীনে পরীক্ষা ও সুপারিশের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কর্মচারী পদে নিয়োগ এতদিন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হয়ে আসছিল।
সম্প্রতি এসব পদেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। পরে ওই সভার কার্যবিবরণী ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ওই কার্যবিবরণীতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়েছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ এখন থেকে শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আর সুপারিশ করবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের কথাও বলা হয়েছিল।
সভায় এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে আগের মতো শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবও আসে। সেই সঙ্গে এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রত্যয়ন পাওয়া শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছিল।
তবে মঙ্গলবারের সভায় সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আগের ব্যবস্থাই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রার্থীদের আবারও এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এনটিআরসিএর ভূমিকা বহাল থাকবে।














