দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকটের সমাধান, সরকারের অঙ্গীকার: রিজভী
- আপডেট সময় : ০২:২৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
চলমান গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এর সমাধান হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এটিকে সরকারের অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের কাছে মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রিজভী বলেন, মহেশখালীর গ্যাসের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি হয়েছিল। সেটা এখন ঠিক হয়ে এসেছে। সেখানে গ্যাস পুনর্ভরণ হলে আপনারা দেখবেন, এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ গ্যাসের সচল সরবরাহ হবে, গ্যাস সংকটের নিরসন হবে।’
তিনি বলেন, ‘রান্নাঘরে এখন গ্যাসের অভাবে যে চুলা অল্প জ্বলছে, সেই চুলা আবার জ্বলতে থাকবে। মিল-কল-কারখানার জন্য যে পর্যাপ্ত জ্বালানি দরকার, সেটির ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে। এটা সরকারের কমিটমেন্ট।’
রিজভী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য ইতিমধ্যেই দ্রুত এলএনজি কেনা এবং জ্বালানি কেনার জন্য সরকার আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বাজেটে জ্বালানি খাতে যে বরাদ্দ রয়েছে, তার অতিরিক্ত এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। ‘সরকার বসে নেই’ বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
জ্বালানি সংকট বর্তমান সরকারের ‘ত্রুটির কারণে নয়’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, ‘এই সংকট সরকারের ত্রুটির কারণে নয়। আপনারা জানেন, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে সবচেয়ে বেশি জ্বালানির জাহাজ আসে, কার্গো আসে। সেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ।’
তিনি বলেন, ‘সেখানে সবাই ভয় পাচ্ছে যে মাইন পাতা আছে, বোমা পাতা আছে। আবার আকাশ দিয়ে বোমা পড়ছে। যেহেতু যুদ্ধ চলছে, সেজন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ আছে।’
রিজভীর ভাষায়, এটি বৈশ্বিক একটি সংকট। তিনি বলেন, ‘এই সংকট কীভাবে নিরসন করা যায়, সেজন্য মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের সরকার উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেছে। দ্রুত যাতে এটা মোকাবিলা করা যায়, সেই ব্যবস্থা তারা নিয়েছে।
গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যদি কনস্ট্রাক্টিভ বিরোধী দল হন, তাহলে সেই কথাগুলো (গ্যাসের সংকটের কারণ) বলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আর যদি সরকারকে বিপাকে ফেলা এবং ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের ব্যাপার হয়, তাহলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার। সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়, জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেয়নি। যার কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘এই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ নিরসন করতে হলে আমাদের বৃক্ষরোপণ করতে হবে। আমাদের হাজা-মজা যেসব জলাভূমি আছে, সেগুলো পুনঃখনন করতে হবে, সেগুলোকে আরও বেশি নিষ্কলুষ করতে হবে। অর্থাৎ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির কেমিক্যালের বর্জ্য ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ গিয়ে সেই পানিকে নষ্ট করছে। আমাদের নদী, নালা, খাল, বিল—সেগুলো মুক্ত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুরুদায়িত্ব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি সারা দেশের মানুষ ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিশুদের বৃক্ষরোপণ করতে বলেছেন। একজন শিশু তার বাড়ির আঙিনায় বৃক্ষ রোপণ করবে।’
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, মহানগর উত্তরের মোস্তফা জামানসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।















