ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্ত্রীর মৃত্যুর এক মাস না যেতেই সাংবাদিক কাজিম রেজার প্রয়াণ তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত তার নিজের ওপরই: দীনেশ ত্রিবেদী ঢাবি অধ্যাপক অহিদুজ্জামানসহ ৩ শিক্ষককে বরখাস্তে প্রতিবাদ, উদ্বেগ খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসনসহ ৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকটের সমাধান, সরকারের অঙ্গীকার: রিজভী ফের ইরানে মার্কিন হামলা, হরমুজ ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের ঝুঁকি নতুন হামলায় উদ্বেগ, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মাটিতে রুশ ‘হাইব্রিড হামলা’, কনস্যুলেট বন্ধের পথে বার্লিন
সংবাদ শিরোনাম ::
স্ত্রীর মৃত্যুর এক মাস না যেতেই সাংবাদিক কাজিম রেজার প্রয়াণ তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত তার নিজের ওপরই: দীনেশ ত্রিবেদী ঢাবি অধ্যাপক অহিদুজ্জামানসহ ৩ শিক্ষককে বরখাস্তে প্রতিবাদ, উদ্বেগ খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসনসহ ৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকটের সমাধান, সরকারের অঙ্গীকার: রিজভী ফের ইরানে মার্কিন হামলা, হরমুজ ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের ঝুঁকি নতুন হামলায় উদ্বেগ, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মাটিতে রুশ ‘হাইব্রিড হামলা’, কনস্যুলেট বন্ধের পথে বার্লিন

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকায়, যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মূলত খেলাপি ঋণের সঙ্গে সুদ যুক্ত হওয়ায় এর পরিমাণ বেড়েছে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে পুনঃ তফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ছয় মাসে বেড়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। এরপর মার্চ প্রান্তিকেই খেলাপি ঋণ বেড়ে যায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। জুন প্রান্তিকে আরও ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা যুক্ত হওয়ায় ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা।

তবে গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছিল। পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

সম্প্রতি একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ব্যাংকগুলো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা বলছেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির প্রভাব খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে সরকার পতনের আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশ করা শুরু হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রহীতার অনেকে প্রকাশ্যে না থাকায় তাদের ঋণ আদায়ে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ দেয়। এর ফলে এক পর্যায়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক দুই প্রান্তিকে তা আবার বাড়ছে।

জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকায়, যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মূলত খেলাপি ঋণের সঙ্গে সুদ যুক্ত হওয়ায় এর পরিমাণ বেড়েছে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে পুনঃ তফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ছয় মাসে বেড়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। এরপর মার্চ প্রান্তিকেই খেলাপি ঋণ বেড়ে যায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। জুন প্রান্তিকে আরও ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা যুক্ত হওয়ায় ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা।

তবে গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছিল। পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

সম্প্রতি একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ব্যাংকগুলো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা বলছেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির প্রভাব খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে সরকার পতনের আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশ করা শুরু হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রহীতার অনেকে প্রকাশ্যে না থাকায় তাদের ঋণ আদায়ে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ দেয়। এর ফলে এক পর্যায়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক দুই প্রান্তিকে তা আবার বাড়ছে।

জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।