এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ভাইয়ের মারামারি
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই ভাইয়ের মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা চত্বর ও থানার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে থানা চত্বর থেকে বের করে দেয়।
ওই নারী কয়েক দিন আগে তার দেবরের (২৫) সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। পরে ঢাকার সাভারে তার খোঁজ পাওয়া যায়। সেখান থেকে আত্মীয়স্বজন তাকে ভাঙ্গায় নিয়ে যান। এরপর থানার সামনে তাকে নিয়ে দুই ভাই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীকে নিয়ে দুই ব্যক্তি মারামারি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এ সময় আশপাশের কয়েকজন তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ওই নারীর জামাকাপড় ধরে কয়েকজন নারীকে টানাটানি করতেও দেখা যায়।
ভিডিওতে ওই নারী প্রথমে একজনকে তার স্বামী হিসেবে অস্বীকার করেন। পরে তাকেই স্বামী হিসেবে স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রথম স্বামীকে ছেড়ে তিনি ছোট ভাইকে বিয়ে করেছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।
মারামারিতে জড়ানো দুই ভাইয়ের বাড়ি ভাঙ্গার যে ইউনিয়নে, সেই ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, দুই বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। একপর্যায়ে তার দেবরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে বাড়িতে মাঝেমধ্যে ঝগড়া হতো। গত মঙ্গলবার ওই নারী দেবরের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে জানা যায়, তারা সাভারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আত্মীয়স্বজন তাদের ভাঙ্গায় নিয়ে আসেন।
ওই নারীর বাবা বলেন, বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে তারা থানায় গিয়েছিলেন। থানা প্রাঙ্গণে উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ওই নারী দাবি করেন, তার প্রথম স্বামী ও পরিবারের লোকজন তাকে অনেক নির্যাতন করতেন। সে সময় তার দেবর তাকে সহায়তা করতেন। পরে তিনি স্বামীকে ছেড়ে দেবরকে বিয়ে করেন। তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র ঘর-সংসার শুরু করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এক নারীকে নিয়ে থানার ফটকের সামনে ঝগড়াবিবাদ হয়। পরে তারা থানা চত্বরে ঢুকেও ঝগড়া করছিলেন। তখন পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাদের নিবৃত্ত করে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারা বাড়িতে গিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।



















