ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় আগুনে মৃত্যু: ‘শিখা ইন’ হোটেলের মালিক গ্রেপ্তার তিন দিন পর এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন: বিকেএমইএ এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ভাইয়ের মারামারি মামলায় হার, বাদীদের ডেইলি মেইল প্রকাশককে দিতে হবে ১৫৯ কোটি টাকা মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্বপন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘরে-ছাদে-সিঁড়িতে ছড়িয়ে ছিল দম্পতি ও ২ সন্তানের মরদেহ মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা শরীফুল ঝড়ে তছনছ অস্ট্রেলিয়া— দিন শেষে হাতে ২ উইকেট, লিড ১০১
সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় আগুনে মৃত্যু: ‘শিখা ইন’ হোটেলের মালিক গ্রেপ্তার তিন দিন পর এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন: বিকেএমইএ এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ভাইয়ের মারামারি মামলায় হার, বাদীদের ডেইলি মেইল প্রকাশককে দিতে হবে ১৫৯ কোটি টাকা মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্বপন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘরে-ছাদে-সিঁড়িতে ছড়িয়ে ছিল দম্পতি ও ২ সন্তানের মরদেহ মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা শরীফুল ঝড়ে তছনছ অস্ট্রেলিয়া— দিন শেষে হাতে ২ উইকেট, লিড ১০১

তিন দিন পর এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তিন দিন বন্ধ থাকার পর মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনালে আগে থেকে মজুত থাকা এলএনজি ব্যবহার করে শনিবার এক্সিলারেটর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। এর আগে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বুধবার দুপুরের পর টার্মিনালটি থেকে গ্যাস দেওয়া বন্ধ ছিল।

এদিকে শনিবার দুপুরে নতুন একটি এলএনজি কার্গো মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কার্গো থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়নি। আরপিজিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত ১০টা থেকে কার্গো থেকে গ্যাস খালাস শুরু হতে পারে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টায় দেশের দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। সন্ধ্যা ৬টায় তা ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়।

একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ১ হাজার ৬২১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে দুপুরে মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ২০২ মিলিয়ন ঘনফুট। ছয় ঘণ্টায় ১০৯ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়ে সন্ধ্যায় তা ২ হাজার ৩১১ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়। অর্থাৎ মোট সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে শনিবার সন্ধ্যায় চাহিদার প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। শনিবার সন্ধ্যায় সরবরাহ ছিল সেই সক্ষমতার প্রায় ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ।

দুপুরেই ভিড়েছে নতুন কার্গো

আরপিজিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে নতুন এলএনজি কার্গো এক্সিলারেটরের টার্মিনালে ভিড়লেও সেটি থেকে গ্যাস খালাস শুরু হতে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এর মধ্যে টার্মিনালের ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউতে) মজুত থাকা এলএনজি ব্যবহার করে দুপুর ২টা থেকে এক্সিলারেটর দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। তখন সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন এবং এক্সিলারেটর থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট— দুই টার্মিনাল মিলিয়ে সরবরাহ ছিল প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিকেল ৪টায় পেট্রোবাংলার হিসাবে দুই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৬৮৬ মিলিয়ন এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়।

পেট্রোবাংলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আগের সমস্যার কারণে এক্সিলারেটর একবারে পূর্ণ হারে সরবরাহ বাড়াচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরের পর মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এক্সিলারেটরের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে তখন শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬০ থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। এতে দেশে আবার গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কলকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে।

এর আগে গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটরের একটি টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর গত ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করা হয়। এরপর কারিগরি সমস্যা ও এলএনজি কার্গোর স্বল্পতার কারণে সেখানকার গ্যাস সরবরাহে কয়েক দফা হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তিন দিন পর এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

তিন দিন বন্ধ থাকার পর মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনালে আগে থেকে মজুত থাকা এলএনজি ব্যবহার করে শনিবার এক্সিলারেটর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। এর আগে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বুধবার দুপুরের পর টার্মিনালটি থেকে গ্যাস দেওয়া বন্ধ ছিল।

এদিকে শনিবার দুপুরে নতুন একটি এলএনজি কার্গো মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কার্গো থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়নি। আরপিজিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত ১০টা থেকে কার্গো থেকে গ্যাস খালাস শুরু হতে পারে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টায় দেশের দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। সন্ধ্যা ৬টায় তা ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়।

একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ১ হাজার ৬২১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে দুপুরে মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ২০২ মিলিয়ন ঘনফুট। ছয় ঘণ্টায় ১০৯ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়ে সন্ধ্যায় তা ২ হাজার ৩১১ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়। অর্থাৎ মোট সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে শনিবার সন্ধ্যায় চাহিদার প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। শনিবার সন্ধ্যায় সরবরাহ ছিল সেই সক্ষমতার প্রায় ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ।

দুপুরেই ভিড়েছে নতুন কার্গো

আরপিজিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে নতুন এলএনজি কার্গো এক্সিলারেটরের টার্মিনালে ভিড়লেও সেটি থেকে গ্যাস খালাস শুরু হতে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এর মধ্যে টার্মিনালের ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউতে) মজুত থাকা এলএনজি ব্যবহার করে দুপুর ২টা থেকে এক্সিলারেটর দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। তখন সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন এবং এক্সিলারেটর থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট— দুই টার্মিনাল মিলিয়ে সরবরাহ ছিল প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিকেল ৪টায় পেট্রোবাংলার হিসাবে দুই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৬৮৬ মিলিয়ন এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়।

পেট্রোবাংলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আগের সমস্যার কারণে এক্সিলারেটর একবারে পূর্ণ হারে সরবরাহ বাড়াচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরের পর মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এক্সিলারেটরের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে তখন শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬০ থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। এতে দেশে আবার গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কলকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে।

এর আগে গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটরের একটি টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর গত ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করা হয়। এরপর কারিগরি সমস্যা ও এলএনজি কার্গোর স্বল্পতার কারণে সেখানকার গ্যাস সরবরাহে কয়েক দফা হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।