ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ সংসদীয় কমিটি, ভিত্তি জুলাই সনদ

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে পুরো সংবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মতামত নিয়ে সংশোধনীর সুপারিশ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো সংশোধনীও এই সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের নবযাত্রা ও রাষ্ট্র কাঠামোর যে আমরা বিবর্তনমূলক কার্যে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে গণতান্ত্রিক সংস্কার আমরা করতে চাই, সেগুলো সবগুলো আমরা এখানে ধারণ করব, যেটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আকাঙ্ক্ষাও সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় রাখা হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রথম বৈঠকে বসে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ এই কমিটি। ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারি দল বিএনপি এর মিত্র দলগুলোর সদস্য সংখ্যা ১২। বিরোধী দল থেকে বাকি পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও বিরোধী দল থেকে এ কমিটিতে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্যপদের নাম উনারা সংসদীয় বাজেট অধিবেশনের সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে এ প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার কথাও বলেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যুক্ত করার আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও এই কমিটির পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, বিরোধী দল যখনই তাদের তালিকা দেবে, তখনই তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক জুলাই সনদে সই করা ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত আকাঙ্ক্ষাকে ভিত্তি করেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি কেবল সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে এখানে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে কমিটি খুব দ্রুতই জুলাই বিপ্লবের শহিদ পরিবার, আহত ও সংগ্রামী জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতাসহ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করবে। যারা জুলাই সনদ প্রণয়নে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের সঙ্গেও আইনি দিকগুলো নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা হবে, যেন সনদটির প্রতিটি ধারাকে সাংবিধানিক আইনের সঠিক পরিভাষায় রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়।

আসাদুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, বিরোধী দল সরাসরি বৈঠকে না থাকলেও জুলাই সনদের মধ্যেই তাদের অধিকাংশ মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত রয়েছে। আইনের দৃষ্টিতে একে ‘হারমোনিয়াস ইন্টারপ্রিটেশন’ বা অনুচ্ছেদগুলোর সুষম সমন্বয় বলা হয়। মূল কাঠামোর নীতি অক্ষুণ্ন রেখেই এই সংশোধন আনা হবে এবং কোনো ধরনের আবেগের বশে বা রাজনৈতিক আদর্শ চাপিয়ে দিয়ে মূল সংস্কার থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই।

কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে বলেন, কমিটি শুধু নিজেদের আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করবে না। সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা সংশোধনী প্রস্তাবও প্রতিবেদনে রাখার চেষ্টা করবে। যেহেতু আমরা উদার এবং ওপেন, আমরা সবার কথা শুনব। যা যা সংশোধনের প্রয়োজন, সব সংশোধনী আমরা ধারণ করে সেভাবেই প্রতিবেদন প্রণয়ন করব।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে। সেই সংবিধান সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে আলোচনা করে আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে সেই সংশোধনীটা গ্রহণ করতে চাই, যেই সংশোধনী জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে।

কমিটির কাজকে কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রত্যাশা আছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ বলতে চাই না।

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ১২ সদস্যের এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই কমিটির বিরোধিতা করে আসছে। জুলাই সনদ ও জুলাই সনদের গণভোট অনুযায়ী তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। বিএনপি সরকার সে প্রস্তাব না মেনে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করলে সে দিন সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ সংসদীয় কমিটি, ভিত্তি জুলাই সনদ

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে পুরো সংবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মতামত নিয়ে সংশোধনীর সুপারিশ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো সংশোধনীও এই সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের নবযাত্রা ও রাষ্ট্র কাঠামোর যে আমরা বিবর্তনমূলক কার্যে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে গণতান্ত্রিক সংস্কার আমরা করতে চাই, সেগুলো সবগুলো আমরা এখানে ধারণ করব, যেটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আকাঙ্ক্ষাও সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় রাখা হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রথম বৈঠকে বসে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ এই কমিটি। ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারি দল বিএনপি এর মিত্র দলগুলোর সদস্য সংখ্যা ১২। বিরোধী দল থেকে বাকি পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও বিরোধী দল থেকে এ কমিটিতে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্যপদের নাম উনারা সংসদীয় বাজেট অধিবেশনের সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে এ প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার কথাও বলেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যুক্ত করার আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও এই কমিটির পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, বিরোধী দল যখনই তাদের তালিকা দেবে, তখনই তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক জুলাই সনদে সই করা ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত আকাঙ্ক্ষাকে ভিত্তি করেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি কেবল সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে এখানে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে কমিটি খুব দ্রুতই জুলাই বিপ্লবের শহিদ পরিবার, আহত ও সংগ্রামী জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতাসহ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করবে। যারা জুলাই সনদ প্রণয়নে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের সঙ্গেও আইনি দিকগুলো নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা হবে, যেন সনদটির প্রতিটি ধারাকে সাংবিধানিক আইনের সঠিক পরিভাষায় রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়।

আসাদুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, বিরোধী দল সরাসরি বৈঠকে না থাকলেও জুলাই সনদের মধ্যেই তাদের অধিকাংশ মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত রয়েছে। আইনের দৃষ্টিতে একে ‘হারমোনিয়াস ইন্টারপ্রিটেশন’ বা অনুচ্ছেদগুলোর সুষম সমন্বয় বলা হয়। মূল কাঠামোর নীতি অক্ষুণ্ন রেখেই এই সংশোধন আনা হবে এবং কোনো ধরনের আবেগের বশে বা রাজনৈতিক আদর্শ চাপিয়ে দিয়ে মূল সংস্কার থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই।

কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে বলেন, কমিটি শুধু নিজেদের আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করবে না। সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা সংশোধনী প্রস্তাবও প্রতিবেদনে রাখার চেষ্টা করবে। যেহেতু আমরা উদার এবং ওপেন, আমরা সবার কথা শুনব। যা যা সংশোধনের প্রয়োজন, সব সংশোধনী আমরা ধারণ করে সেভাবেই প্রতিবেদন প্রণয়ন করব।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে। সেই সংবিধান সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে আলোচনা করে আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে সেই সংশোধনীটা গ্রহণ করতে চাই, যেই সংশোধনী জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে।

কমিটির কাজকে কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রত্যাশা আছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ বলতে চাই না।

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ১২ সদস্যের এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই কমিটির বিরোধিতা করে আসছে। জুলাই সনদ ও জুলাই সনদের গণভোট অনুযায়ী তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। বিএনপি সরকার সে প্রস্তাব না মেনে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করলে সে দিন সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।