পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ সংবিধান মেনেই: আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তার দ্বৈত নাগরিকত্ব (বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য) ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে তিনি জানিয়েছেন, সংবিধান মেনেই সরকার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদে তাকে নিয়োগ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ প্রতিক্রিয়া জানান।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রথমত, আইনে যেটা আছে, সেটা আছে। দ্বিতীয়ত, সরকার যেটা করেছে সংবিধান মেনেই করেছে। এখানে (সংবিধানের) ব্যত্যয়ের কিছু ঘটেনি। সুতরাং আমরা যা করেছি, সাংবিধানিকভাবেই করেছি। তিনি বলেন, এটাকে বলে ডিমিং ক্লজ। যখন শপথ দেওয়া হয়েছে, সেটা সাংবিধানিকভাবেই দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির। তিনি ‘টেকনোক্র্যাট’ হিসেবে, তথা সংসদ সদস্য না হয়েও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। সংবিধানের ৫৬ (২) ধারায় সংসদ সদস্যের বাইরের কাউকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বিধান রয়েছে।
সংবিধানের ওই ধারায় বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য নন— এমন ব্যক্তিদের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৬ (২) (গ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না।
হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ওঠে— বাংলাদেশের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাজ্যেরও নাগরিক। অর্থাৎ তার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় তার প্রতিমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ নিয়ে গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সিলেটে জন্ম নিলেও মাত্র আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান হুমায়ুন কবির। সেখানেই বড় হয়েছেন তিনি, পড়ালেখা করেছেন। যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে লেবার পার্টির রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
প্রশ্ন ওঠে— প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন কি না।
এ নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি প্রতিমন্ত্রী। বরং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি পালটা প্রশ্ন করেন— ‘এ নিয়ে কে নিউজ করেছে? কার এত জ্বালা?’
প্রতিমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রীর পালটা প্রশ্ন করার ধরনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, জনস্বার্থে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংবাদকর্মীরা যখন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, প্রতিমন্ত্রী তার সরাসরি উত্তর না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়াকে তিনি যেভাবে ক্ষোভ ও বিদ্বেষমূলকভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাকে পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের মতো ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার’ চর্চার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাক্স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার খর্ব করার এমন ‘আত্মঘাতী প্রয়াস’ পরিহারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান সুস্পষ্ট করার আহ্বানও জানিয়েছে টিআইবি।



















