জুলাইয়ে ৫৫ সাংবাদিক নির্যাতন-হয়রানির শিকার: এইচআরএসএস
- আপডেট সময় : ১০:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশে ৩৬টি ঘটনায় মোট ৫৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় অন্তত ২১ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, ৯ জন লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন এবং ৮ জনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং ৮টি মামলায় ১৪ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জুলাই মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
দেশের ১৬টি জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের নিজস্ব তথ্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
জুলাইয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ৩৬ ঘটনা, জুনের চেয়ে দ্বিগুণ: এমএসএফ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশে ৪৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬৪ জন। জুন মাসের তুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এর আগের মাস জুনে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৯ জন এবং আহত হয়েছিলেন ৩৪৬ জন।
এ ছাড়া মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্বিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে জুলাই মাসে সারা দেশে ৪৯টি গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে জুলাই মাসে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন পুলিশ হেফাজতে এবং ১ জন ডিবি হেফাজতে মারা যান। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ১০ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি এবং ৮ জন হাজতি।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার রাজনীতি ডটকমের নারী সাংবাদিক
শ্রমিক নির্যাতন ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিবেদনে। এইচআরএসএসের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে ৭৯টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৭২ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় আরও ৫৫ জন শ্রমিক কর্মস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, জুলাই মাসে মোট ২৫৮ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৫ জন নারী, শিশু ও কিশোরী। তাদের মধ্যে ৬১ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এ ছাড়া ১১ জন নারী ও কন্যাশিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
একই সময়ে ৭৮ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪০টিই শিশু। যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতনের ঘটনায় ১ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতায় ৪৫ জন নারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১০ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন নারী।
সাংবাদিকতা নিয়ে এলোমেলো ভাবনা
শিশু নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ১৮০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং ১৪৬ শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, পুরো জুলাই মাস জুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল।
তিনি বলেন, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার মতে, এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।




















