জুলাইয়ের বিরোধিতা: সাদেকা হালিমসহ ৩ ঢাবি শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনকে অব্যাহতি
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। এর সঙ্গে চার শিক্ষককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ‘জুলাইয়ের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে’ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন।
দুদিন পর আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
জুলাইয়ে ‘বিতর্কিত’ ৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গান গেয়ে ভাইরাল ঢাবি শিক্ষককেও অব্যাহতি
ঢাবি সিন্ডিকেট সদস্য ও উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ আছে। তবে জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটা কমন। এটি অবশ্যই একটি মূল কারণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পৃথক পৃথক অভিযোগে তিনজন শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চারজন শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জবির সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম প্রসঙ্গে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাবি সিন্ডিকেট।
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বলা হয়েছে, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকেও একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।
এ ছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিষয়ে অভিযোগ, তিনি নানা অনিয়মে জড়িত এবং এমফিল ও পিএইচডি থিসিসের মধ্যে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তি করেছেন। তাই তাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’ ও শিক্ষার্থীদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঢাবি প্রশাসন।










