সেমিতে ফকল্যান্ড ব্যানার-ফাইনাল শেষে মারামারি: শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন এবং ফাইনালের পর মাঠে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পর মাঠে সংঘর্ষে জড়িত কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আলাদা অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর উদ্যাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার হাতে তুলে ধরেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’— অর্থাৎ মালভিনাস বা ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার।
ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জকে যুক্তরাজ্যে ‘ফকল্যান্ড আইল্যান্ডস’ এবং আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ বলা হয়। দীর্ঘদিনের এই বিরোধ দুই দেশের মধ্যে ১৯৮২ সালে ৭৪ দিনের যুদ্ধেও রূপ নিয়েছিল। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশসহ ৯ শতাধিক মানুষ নিহত হন।
ইংলিশ বধের পর ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ ব্যানার, শাস্তি দিতে পারে ফিফা
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডে কোনো ক্রীড়া আয়োজনকে ‘ক্রীড়াবহির্ভূত প্রকৃতির প্রদর্শন’ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ। ফলে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ওই ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে আটলান্টিকের দুই পাড়েই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।
তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
‘ফকল্যান্ড’ ব্যানার ইস্যুতে ফিফার তদন্ত, আর্জেন্টিনাকে সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের
ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনার ফুটবলে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে লা প্লাতায় একটি প্রীতি ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা আরও বড় একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। সে ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
এবারের অভিযোগ অবশ্য শুধু ওই ব্যানারেই সীমাবদ্ধ নয়। ফিফার বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত অভিযোগপত্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি’, দেরিতে ম্যাচ শুরু করা, ম্যাচ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রোটোকল না মানা, খেলোয়াড় ও দর্শকদের মাধ্যমে অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং কয়েকটি ম্যাচে দর্শকদের মাঠে বস্তু নিক্ষেপের মতো অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর বাইরে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পর মাঠে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ফিফা পৃথকভাবে তদন্ত করছে। অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করার পর স্পেনের খেলোয়াড়রা উদ্যাপন শুরু করলে নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামের মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
ফাইনাল হেরে মারমুখী পারেদেস, কী হয়েছিল গাভির সঙ্গে
এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি ‘অ্যাসল্ট’ বা আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে মাটিতে ফেলে জড়িয়ে ধরতে দেখা গিয়েছিল তাকে।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি অ্যাসল্টের অভিযোগ রয়েছে— এর একটি সম্পন্ন এবং অন্যটি চেষ্টার অভিযোগ। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একটি ‘আনস্পোর্টসম্যানলাইক বিহেভিয়ার’ বা অসৌজন্যমূলক ক্রীড়াচরণের অভিযোগও রয়েছে।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও একটি অ্যাসল্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফাইনালে মাঠে না নামা বদলি খেলোয়াড় থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে রয়েছে অসৌজন্যমূলক ক্রীড়াচরণের অভিযোগ। একই ধরনের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে স্পেনের গাভির বিরুদ্ধেও।
ফাইনাল শেষে মারপিট: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার তদন্ত শুরু
ফিফা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়ার পর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।
অর্থাৎ এখনই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা হয়নি। তবে বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচ ঘিরে একাধিক ঘটনায় একসঙ্গে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ আর্জেন্টিনার সামনে এখন অপেক্ষা করছে আরেকটি অস্বস্তিকর অধ্যায়।



















