ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটিপতির ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ শিক্ষকের শেখ হাসিনা যে দিক দিয়েই আসবে সেই দিক দিয়েই বরণ করবো: এসএম জিলানী ইএসডিওর গবেষণা: বাজারের ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবার দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি বানাবে বিএনপি মিরাজের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘বিশ্বকাপ বয়কট ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ একবছরে খেলাপি ঋণের হিসাব বেড়ে দ্বিগুণের বেশি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সেনাসদস্যদের পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করব: বার্নহ্যাম ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু ২৭ জুলাই
সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটিপতির ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ শিক্ষকের শেখ হাসিনা যে দিক দিয়েই আসবে সেই দিক দিয়েই বরণ করবো: এসএম জিলানী ইএসডিওর গবেষণা: বাজারের ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবার দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি বানাবে বিএনপি মিরাজের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘বিশ্বকাপ বয়কট ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ একবছরে খেলাপি ঋণের হিসাব বেড়ে দ্বিগুণের বেশি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সেনাসদস্যদের পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করব: বার্নহ্যাম ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু ২৭ জুলাই

তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ শিক্ষকের

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত সাত শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যানার নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বদলি হওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন। তাকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এ সময় করজোড়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আমার চাকরি খাইও না। তোমাদের কাছে আমি মাফ চাই। তোমরা আমাদের কোনও ক্ষতি কইরো না।’

একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোহাম্মদ মহসীন। করজোড়ে তিনি শিক্ষার্থীদের বলতে থাকেন, ‘সরকারি চাকরি করি। আমার বদলি হইছে। তোমরা আন্দোলন করে আমার চাকরিটা খাইও না। আমি পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরবো। তোমরা আমার সঙ্গে আসো। আমার চাকরিটা থাকবে না।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছুটির দিন হলেও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে শনিবার সকালে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের দাবি, জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ায় তাদের কলেজের সাত শিক্ষককে অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বদলির প্রতিবাদে এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন। বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে তারা ‘শিক্ষকদের বদলি নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে’, ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে, চলবে না চলবে না’, ‘শিক্ষকদের বদলি কেন, মাউশি জবাব চাই’, ‘শিক্ষকদের বদলির আদেশ, মানি না মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বদলি হওয়া সাত শিক্ষকের একজন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন। তিনি এসেই করজোড়ে মিনতি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের স্লোগান ও আন্দোলন বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি পালনে অনড় থাকেন।

শিক্ষকের এমন কথায় কর্মসূচিতে থাকা শিক্ষার্থীরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা তখন শিক্ষককে বলতে থাকেন, তিনি তাদের বাবার মতো। তাদের আন্দোলনের কারণে তার চাকরির সমস্যা হলে, তারা থেমে থাকবেন না।

গত ১৩ জুলাই জলাবদ্ধতার মধ্যে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে। এ ঘটনার ১০ দিনের মাথায় ২৩ জুলাই কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে বদলি করা হয়। তাদের ছয় জন এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আরেকজন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদদূস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বদলির তথ্য জানানো হয়। আদেশে তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে একই সঙ্গে বিভিন্ন কলেজে বদলির মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। তবে বদলির আদেশে কোনও কারণ উল্লেখ নেই।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তাফসিলা আজমির বলেন, ‘সেদিন জলাবদ্ধতা শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজেই হয়নি, সারা শহরই পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন করা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়, এটি সিটি করপোরেশনের কাজ। আমাদের কলেজের পাশেই কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, তারা কি সেদিন জলাবদ্ধতা দেখেনি? তাহলে যারা জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন আমাদের সাত মেধাবী শিক্ষককে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে?’

সাত শিক্ষকের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।

তবে সাত জনের মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না; তবে তিনি ওই সময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে ছিলেন। তার ছেলে ওই কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তিনি কোনও দায়িত্বে ছিলেন না। আবদুল মালেক ছিলেন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আর কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। বদলির আদেশ হওয়া মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ শিক্ষকের

আপডেট সময় : ১১:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত সাত শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যানার নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বদলি হওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন। তাকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এ সময় করজোড়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আমার চাকরি খাইও না। তোমাদের কাছে আমি মাফ চাই। তোমরা আমাদের কোনও ক্ষতি কইরো না।’

একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোহাম্মদ মহসীন। করজোড়ে তিনি শিক্ষার্থীদের বলতে থাকেন, ‘সরকারি চাকরি করি। আমার বদলি হইছে। তোমরা আন্দোলন করে আমার চাকরিটা খাইও না। আমি পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরবো। তোমরা আমার সঙ্গে আসো। আমার চাকরিটা থাকবে না।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছুটির দিন হলেও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে শনিবার সকালে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের দাবি, জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ায় তাদের কলেজের সাত শিক্ষককে অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বদলির প্রতিবাদে এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন। বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে তারা ‘শিক্ষকদের বদলি নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে’, ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে, চলবে না চলবে না’, ‘শিক্ষকদের বদলি কেন, মাউশি জবাব চাই’, ‘শিক্ষকদের বদলির আদেশ, মানি না মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বদলি হওয়া সাত শিক্ষকের একজন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন। তিনি এসেই করজোড়ে মিনতি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের স্লোগান ও আন্দোলন বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি পালনে অনড় থাকেন।

শিক্ষকের এমন কথায় কর্মসূচিতে থাকা শিক্ষার্থীরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা তখন শিক্ষককে বলতে থাকেন, তিনি তাদের বাবার মতো। তাদের আন্দোলনের কারণে তার চাকরির সমস্যা হলে, তারা থেমে থাকবেন না।

গত ১৩ জুলাই জলাবদ্ধতার মধ্যে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে। এ ঘটনার ১০ দিনের মাথায় ২৩ জুলাই কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে বদলি করা হয়। তাদের ছয় জন এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আরেকজন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদদূস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বদলির তথ্য জানানো হয়। আদেশে তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে একই সঙ্গে বিভিন্ন কলেজে বদলির মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। তবে বদলির আদেশে কোনও কারণ উল্লেখ নেই।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তাফসিলা আজমির বলেন, ‘সেদিন জলাবদ্ধতা শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজেই হয়নি, সারা শহরই পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন করা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়, এটি সিটি করপোরেশনের কাজ। আমাদের কলেজের পাশেই কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, তারা কি সেদিন জলাবদ্ধতা দেখেনি? তাহলে যারা জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন আমাদের সাত মেধাবী শিক্ষককে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে?’

সাত শিক্ষকের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।

তবে সাত জনের মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না; তবে তিনি ওই সময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে ছিলেন। তার ছেলে ওই কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তিনি কোনও দায়িত্বে ছিলেন না। আবদুল মালেক ছিলেন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আর কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। বদলির আদেশ হওয়া মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।