ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর ‘হামলা’র অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ত্যাগ আখতারের তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল ঢাকাসহ ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি ওপরে: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ সংসদীয় কমিটি, ভিত্তি জুলাই সনদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৭০: তদন্ত কমিটি গঠন পাকিস্তানে আল-জাজিরা নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষক কার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর ‘হামলা’র অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ত্যাগ আখতারের তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল ঢাকাসহ ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি ওপরে: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ সংসদীয় কমিটি, ভিত্তি জুলাই সনদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৭০: তদন্ত কমিটি গঠন পাকিস্তানে আল-জাজিরা নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষক কার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিহার ও মধ্যপ্রদেশে বিজেপির দুর্গে হানা, ভোট কমল গুজরাটেও

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে গুজরাটের মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে সক্ষম হলেও আগের নির্বাচনের তুলনায় ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল বিজেপির জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণেরও ইঙ্গিত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেসহ একাধিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকিপুরে ভোটগণনার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। ৩০ দফা গণনা শেষে তিনি বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে পরাজিত করেন। মোট ৬৩ হাজার ২০৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী গুপ্তা তৃতীয় স্থানে থাকেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই গোটা ভারতের নজর ছিল বাঁকিপুরের ফলের দিকে। প্রথম দফা গণনায় প্রশান্ত কিশোর পান ২ হাজার ২২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা পান ১ হাজার ৩৯৩ ভোট এবং আরজেডির রেখা কুমারী গুপ্তা পান ৫০১ ভোট।

এরপর ধাপে ধাপে ব্যবধান বাড়তে থাকে। ২৭ দফা গণনা শেষে প্রশান্ত প্রায় ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে যান এবং ৩০ দফা শেষে তার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ফল ঘোষণার আগেই জন সুরাজ পার্টির কার্যালয়ের সামনে উৎসব শুরু হয়। হলুদ আবির, মিষ্টি বিতরণ এবং ঢাক-ঢোলের মধ্য দিয়ে কর্মীরা বিজয় উদযাপন করেন।

এই জয়ের মাধ্যমে শুধু বিজেপির তিন দশকেরও বেশি সময়ের দুর্গ ভেঙে দেননি প্রশান্ত কিশোর, একই সঙ্গে বিহার বিধানসভায় প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে তার দল জন সুরাজ পার্টি। এটিই ছিল ভোটের মাঠে প্রশান্ত কিশোরের প্রথম সরাসরি নির্বাচনি লড়াই।

বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিহারে বিজেপির সবচেয়ে নিরাপদ আসনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা ৩১ বছর ধরে আসনটি ধরে রেখেছিল দলটি। সর্বশেষ এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। পরে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। এর আগে তার বাবা নবীন কিশোরও একই কেন্দ্র থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে এই আসন ধরে রাখা বিজেপির জন্য ছিল মর্যাদার প্রশ্ন।

এই নির্বাচনে মূল লড়াই হয় প্রশান্ত কিশোর, বিজেপি এবং আরজেডির মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ‘জন সুরাজ’ অভিযানের মাধ্যমে বিকল্প রাজনীতির বার্তা দিয়ে আসা প্রশান্ত কিশোরের জন্য এটি ছিল রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রথম বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বড় জয় তাকে বিহারের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।

জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, মাত্র ৩০ দিনের প্রচারণায় তিনি বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গ ভেঙে দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই ফল প্রমাণ করেছে বিহারের মানুষ এখন বিনামূল্যের রেশন কিংবা জাতপাতের রাজনীতির চেয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রশান্ত কিশোর বলেন, “বিহারের মানুষ চায় সরকার চার-পাঁচ কেজি বিনামূল্যের রেশন আর জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করুক। যেসব সরকার মানুষের এসব উদ্বেগ উপেক্ষা করবে, তারা ভবিষ্যতেও একই ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”

প্রশান্ত আরও বলেন, তার লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং উন্নততর শাসনের জন্য। তিনি স্বীকার করেন, বিহার শাসনের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর জনাদেশ রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিহারের উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম এমন একজন যোগ্য ও সৎ মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা উচিত।

তিনি দাবি করেন, এই ফলের মাধ্যমে বাঁকিপুরের মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বিহারের জন্য একজন যোগ্য, সৎ ও উন্নয়নমুখী মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজন।তিনি দাবি করেন, এই ফলের মাধ্যমে বাঁকিপুরের মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বিহারের জন্য একজন যোগ্য, সৎ ও উন্নয়নমুখী মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজন।

অন্যদিকে পরাজয় মেনে নিয়ে বিহারের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বিজয় কুমার সিনহা বলেন, “এটি গণতন্ত্রের দেশ। আমরা জনগণের রায়কে সম্মান করি। ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশন কিংবা ইভিএমকে দোষারোপ করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করি এবং জনগণের রায় মেনে নিই।”

বিহার বিজেপির সভাপতি সঞ্জয় সরাওগীও প্রশান্ত কিশোরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমরা বাঁকিপুরের উন্নয়নে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। কেন ভোট কমল, তা পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, কয়েক মাস আগেই বিহারে বিজেপি বড় ব্যবধানে সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই সাফল্যের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁকিপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হারানো বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর।

শুধু বিহার নয়, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া উপনির্বাচনেও চাপে পড়েছে বিজেপি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এই আসনটি জিতেছিল। পরে কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী জালিয়াতির মামলায় তিন বছরের সাজা পাওয়ায় তার সদস্যপদ বাতিল হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

এবার বিজেপি আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করলেও দলীয় বিদ্রোহ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত গণনায় কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং প্রায় ৯ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

অন্যদিকে গুজরাটের মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে পারছে বিজেপি। তবে আগের নির্বাচনে যেখানে দলটি এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল, এবার ব্যবধান নেমে এসেছে প্রায় ২৭ হাজারে। ফলে জয় পেলেও ভোটের ব্যবধান কমে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতে সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। তাই নতুন প্রজন্মের ভোট কোন দিকে যায়, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশেষ করে বিহারে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির বদলে প্রশান্ত কিশোরকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে

বিশ্লেষকদের মতে, তিন রাজ্যের এই উপনির্বাচনের ফল শুধু তিনটি আসনের হিসাব নয়; বরং বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিরোধী রাজনীতির নতুন সম্ভাবনা এবং আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিবর্তিত জনমতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

বিহার ও মধ্যপ্রদেশে বিজেপির দুর্গে হানা, ভোট কমল গুজরাটেও

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে গুজরাটের মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে সক্ষম হলেও আগের নির্বাচনের তুলনায় ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল বিজেপির জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণেরও ইঙ্গিত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেসহ একাধিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকিপুরে ভোটগণনার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। ৩০ দফা গণনা শেষে তিনি বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে পরাজিত করেন। মোট ৬৩ হাজার ২০৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী গুপ্তা তৃতীয় স্থানে থাকেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই গোটা ভারতের নজর ছিল বাঁকিপুরের ফলের দিকে। প্রথম দফা গণনায় প্রশান্ত কিশোর পান ২ হাজার ২২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা পান ১ হাজার ৩৯৩ ভোট এবং আরজেডির রেখা কুমারী গুপ্তা পান ৫০১ ভোট।

এরপর ধাপে ধাপে ব্যবধান বাড়তে থাকে। ২৭ দফা গণনা শেষে প্রশান্ত প্রায় ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে যান এবং ৩০ দফা শেষে তার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ফল ঘোষণার আগেই জন সুরাজ পার্টির কার্যালয়ের সামনে উৎসব শুরু হয়। হলুদ আবির, মিষ্টি বিতরণ এবং ঢাক-ঢোলের মধ্য দিয়ে কর্মীরা বিজয় উদযাপন করেন।

এই জয়ের মাধ্যমে শুধু বিজেপির তিন দশকেরও বেশি সময়ের দুর্গ ভেঙে দেননি প্রশান্ত কিশোর, একই সঙ্গে বিহার বিধানসভায় প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে তার দল জন সুরাজ পার্টি। এটিই ছিল ভোটের মাঠে প্রশান্ত কিশোরের প্রথম সরাসরি নির্বাচনি লড়াই।

বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিহারে বিজেপির সবচেয়ে নিরাপদ আসনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা ৩১ বছর ধরে আসনটি ধরে রেখেছিল দলটি। সর্বশেষ এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। পরে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। এর আগে তার বাবা নবীন কিশোরও একই কেন্দ্র থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে এই আসন ধরে রাখা বিজেপির জন্য ছিল মর্যাদার প্রশ্ন।

এই নির্বাচনে মূল লড়াই হয় প্রশান্ত কিশোর, বিজেপি এবং আরজেডির মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ‘জন সুরাজ’ অভিযানের মাধ্যমে বিকল্প রাজনীতির বার্তা দিয়ে আসা প্রশান্ত কিশোরের জন্য এটি ছিল রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রথম বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বড় জয় তাকে বিহারের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।

জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, মাত্র ৩০ দিনের প্রচারণায় তিনি বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গ ভেঙে দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই ফল প্রমাণ করেছে বিহারের মানুষ এখন বিনামূল্যের রেশন কিংবা জাতপাতের রাজনীতির চেয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রশান্ত কিশোর বলেন, “বিহারের মানুষ চায় সরকার চার-পাঁচ কেজি বিনামূল্যের রেশন আর জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করুক। যেসব সরকার মানুষের এসব উদ্বেগ উপেক্ষা করবে, তারা ভবিষ্যতেও একই ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”

প্রশান্ত আরও বলেন, তার লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং উন্নততর শাসনের জন্য। তিনি স্বীকার করেন, বিহার শাসনের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর জনাদেশ রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিহারের উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম এমন একজন যোগ্য ও সৎ মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা উচিত।

তিনি দাবি করেন, এই ফলের মাধ্যমে বাঁকিপুরের মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বিহারের জন্য একজন যোগ্য, সৎ ও উন্নয়নমুখী মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজন।তিনি দাবি করেন, এই ফলের মাধ্যমে বাঁকিপুরের মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বিহারের জন্য একজন যোগ্য, সৎ ও উন্নয়নমুখী মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজন।

অন্যদিকে পরাজয় মেনে নিয়ে বিহারের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বিজয় কুমার সিনহা বলেন, “এটি গণতন্ত্রের দেশ। আমরা জনগণের রায়কে সম্মান করি। ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশন কিংবা ইভিএমকে দোষারোপ করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করি এবং জনগণের রায় মেনে নিই।”

বিহার বিজেপির সভাপতি সঞ্জয় সরাওগীও প্রশান্ত কিশোরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমরা বাঁকিপুরের উন্নয়নে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। কেন ভোট কমল, তা পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, কয়েক মাস আগেই বিহারে বিজেপি বড় ব্যবধানে সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই সাফল্যের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁকিপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হারানো বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর।

শুধু বিহার নয়, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া উপনির্বাচনেও চাপে পড়েছে বিজেপি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এই আসনটি জিতেছিল। পরে কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী জালিয়াতির মামলায় তিন বছরের সাজা পাওয়ায় তার সদস্যপদ বাতিল হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

এবার বিজেপি আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করলেও দলীয় বিদ্রোহ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত গণনায় কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং প্রায় ৯ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

অন্যদিকে গুজরাটের মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে পারছে বিজেপি। তবে আগের নির্বাচনে যেখানে দলটি এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল, এবার ব্যবধান নেমে এসেছে প্রায় ২৭ হাজারে। ফলে জয় পেলেও ভোটের ব্যবধান কমে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতে সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। তাই নতুন প্রজন্মের ভোট কোন দিকে যায়, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশেষ করে বিহারে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির বদলে প্রশান্ত কিশোরকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে

বিশ্লেষকদের মতে, তিন রাজ্যের এই উপনির্বাচনের ফল শুধু তিনটি আসনের হিসাব নয়; বরং বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিরোধী রাজনীতির নতুন সম্ভাবনা এবং আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিবর্তিত জনমতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।