ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর ‘হামলা’র অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ত্যাগ আখতারের তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল ঢাকাসহ ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি ওপরে: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ সংসদীয় কমিটি, ভিত্তি জুলাই সনদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৭০: তদন্ত কমিটি গঠন পাকিস্তানে আল-জাজিরা নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষক কার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর ‘হামলা’র অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ত্যাগ আখতারের তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল ঢাকাসহ ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি ওপরে: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ সংসদীয় কমিটি, ভিত্তি জুলাই সনদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৭০: তদন্ত কমিটি গঠন পাকিস্তানে আল-জাজিরা নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষক কার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পাকিস্তানে আল-জাজিরা নিষিদ্ধ

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইট পাকিস্তানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (পিওকে) নির্বাচন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব ঘটনায় আল-জাজিরার প্রতিবেদনকে ‘বাছাই করা’ ও ‘বিকৃত উপস্থাপন’ বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, মুজাফফরাবাদের কয়েকটি নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্র থেকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ সাক্ষাৎকার ও নির্দিষ্ট সময়ের ফুটেজ ব্যবহার করে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা (ইয়েলো জার্নালিজম) বহিরাগত স্বার্থান্বেষী পক্ষগুলোর উদ্দেশ্যকেই প্রতিষ্ঠা করছে। তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক রায়কে খাটো করার চেষ্টা করছে।’

বেলুচিস্তানের ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ হওয়ার দাবি ঘিরে পাকিস্তানে তোলপাড়

তবে এ বিষয়ে আল-জাজিরার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইসলামাবাদ এখনো প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার মুজাফফরাবাদ থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে দাবি করেন, নির্বাচনের সময় ব্যাপক বিক্ষোভ, কম ভোটার উপস্থিতি, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সড়ক অবরোধ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে স্থানীয় এক বাসিন্দার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘মানুষ এই ব্যবস্থার ওপর বিরক্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছে।’

এদিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আল জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইটে তারা আর প্রবেশ করতে পারছেন না। প্রথম এ দাবি করেন জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) সাবেক নেতা সোহাইব খান।

পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ইমরান খানের দলের

অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক নেতা ফাইজা মুরাদ অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিদেশি সাংবাদিকদের এখন থেকে সরকারের আগাম অনুমতি নিতে হবে। তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো নির্দেশনার সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং অভিযোগটির স্বাধীনভাবে যাচাইও সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সংস্কার, অধিক স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বেসামরিক মৃত্যুর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র হয়েছে। এসব আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে (জেএএসি) পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছে।

জেএএসি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেছে, আল জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর আঘাত। সংগঠনটির ভাষ্য, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিকল্প কখনো সেন্সরশিপ হতে পারে না।’

সূত্র: এনডিটিভি, দ্য প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানে আল-জাজিরা নিষিদ্ধ

আপডেট সময় : ০২:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইট পাকিস্তানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (পিওকে) নির্বাচন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব ঘটনায় আল-জাজিরার প্রতিবেদনকে ‘বাছাই করা’ ও ‘বিকৃত উপস্থাপন’ বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, মুজাফফরাবাদের কয়েকটি নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্র থেকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ সাক্ষাৎকার ও নির্দিষ্ট সময়ের ফুটেজ ব্যবহার করে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা (ইয়েলো জার্নালিজম) বহিরাগত স্বার্থান্বেষী পক্ষগুলোর উদ্দেশ্যকেই প্রতিষ্ঠা করছে। তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক রায়কে খাটো করার চেষ্টা করছে।’

বেলুচিস্তানের ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ হওয়ার দাবি ঘিরে পাকিস্তানে তোলপাড়

তবে এ বিষয়ে আল-জাজিরার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইসলামাবাদ এখনো প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার মুজাফফরাবাদ থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে দাবি করেন, নির্বাচনের সময় ব্যাপক বিক্ষোভ, কম ভোটার উপস্থিতি, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সড়ক অবরোধ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে স্থানীয় এক বাসিন্দার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘মানুষ এই ব্যবস্থার ওপর বিরক্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছে।’

এদিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আল জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইটে তারা আর প্রবেশ করতে পারছেন না। প্রথম এ দাবি করেন জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) সাবেক নেতা সোহাইব খান।

পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ইমরান খানের দলের

অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক নেতা ফাইজা মুরাদ অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিদেশি সাংবাদিকদের এখন থেকে সরকারের আগাম অনুমতি নিতে হবে। তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো নির্দেশনার সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং অভিযোগটির স্বাধীনভাবে যাচাইও সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সংস্কার, অধিক স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বেসামরিক মৃত্যুর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র হয়েছে। এসব আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে (জেএএসি) পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছে।

জেএএসি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেছে, আল জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর আঘাত। সংগঠনটির ভাষ্য, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিকল্প কখনো সেন্সরশিপ হতে পারে না।’

সূত্র: এনডিটিভি, দ্য প্রিন্ট