জুলাই যোদ্ধাদের ওপর ‘হামলা’র অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ত্যাগ আখতারের
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে গেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তার অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই যোদ্ধাদের মারধর ও অপমান করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নীরবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
বক্তব্যে আখতার হোসেন দাবি করেন, অনুষ্ঠান চলাকালেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মাহিন সরকারকে হলরুম থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছে। তার ভাষ্য, মাহিন সরকারের পাশাপাশি রিফাত রশিদ, আব্দুল কাদের ও আব্দুল হান্নান মাসুদসহ আন্দোলনের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
জুলাই যোদ্ধাদের মারধর করে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত কর্মসূচিতে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা এনসিপি ও অন্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিয়েছেন।
আখতার বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে কোনোভাবেই দলীয় কর্মসূচিতে পরিণত করা উচিত নয়। তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল রাষ্ট্রের সব অংশীজনের আন্দোলন। তাই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ ও অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির সদস্য সচিব। তিনি বলেন, সেখানে আন্দোলনের প্রধান প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতা, ঐতিহাসিক নয় দফা এবং ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঘোষিত এক দফা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও বাদ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয় উল্লেখ করে আখতার বলেন, বিএনপি, জামায়াত, বামপন্থী দল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণেই আন্দোলন সফল হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় নথি ও আয়োজনে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেমন একসময় একপেশেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও একইভাবে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এটি অনিচ্ছাকৃত নয়, বরং সচেতনভাবে ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা।
তবে অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান আখতার হোসেন। সেই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান রেখেই তিনি অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।



















