ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর ‘হামলা’র অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ত্যাগ আখতারের তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল ঢাকাসহ ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি ওপরে: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ সংসদীয় কমিটি, ভিত্তি জুলাই সনদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৭০: তদন্ত কমিটি গঠন পাকিস্তানে আল-জাজিরা নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষক কার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর ‘হামলা’র অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ত্যাগ আখতারের তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল ঢাকাসহ ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি ওপরে: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ সংসদীয় কমিটি, ভিত্তি জুলাই সনদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৭০: তদন্ত কমিটি গঠন পাকিস্তানে আল-জাজিরা নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষক কার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্বেচ্ছায় মুসলিম হয়ে পছন্দের মানুষকে বিয়েতে কেউ বাধা দিতে পারে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চাওয়া দুই বোনকে ঘিরে বিরোধের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দুই প্রাপ্তবয়স্ক নারী যদি স্বাধীন ইচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বাবাসহ অন্য কেউ এতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। তবে তাদের ধর্মান্তর ও বিয়ের সিদ্ধান্ত সত্যিই স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আগামী ৬ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, বিচারপতি সন্দীপ জৈন ২০ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই বোনের করা এক আবেদনের শুনানি করতে গিয়ে গত ৩১ জুলাই এ আদেশ দেন। আদালতে ওই দুই বোন দাবি করেন, তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আদালত তার আদেশে বলেন, “যদি শেষ পর্যন্ত এসব দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে চতুর্থ বিবাদী (বাবা) বা অন্য কারও পক্ষ থেকে তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা তাদের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মর্যাদা, গোপনীয়তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং নিজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

ভারতে বেকারদের ৩ জনে ২ জনই স্নাতক ডিগ্রিধারী: গবেষণা

নিজেদের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের দাবি

দুই বোন আদালতে বলেন, তারা সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক এবং কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি, প্রলোভন বা অযাচিত প্রভাব ছাড়াই স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন, যা তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন থেকে উদ্ভূত সাংবিধানিক অধিকার।

তাদের আইনজীবী আলি বিন সাইফ ও দিনেশ কুমার যাদব আদালতে জানান, মেয়েদের স্বাধীন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তাদের বাবা ২০২৫ সালের ৪ মে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৮৭ ধারায় একটি মিথ্যা ও বিদ্বেষপ্রসূত এফআইআর দায়ের করেন। ওই ধারায় নারীকে অপহরণ, তুলে নেওয়া বা বিয়েতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে প্ররোচিত করার অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইনজীবীদের দাবি, ওই অভিযোগের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল দুই বোনের আইনসম্মত অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করা। তারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে দুই নারীকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয় এবং তাদের স্বাধীন চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়।

তাদের আইনজীবীরা আদালতকে আরও বলেন, যেহেতু ধর্মান্তর স্বেচ্ছায় হয়েছে, তাই উত্তর প্রদেশের অবৈধ ধর্মান্তর নিষিদ্ধ আইন, ২০২১-এর বিধান এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া নথিপত্রে এমন কোনো অভিযোগ বা প্রমাণও নেই, যা থেকে বোঝা যায় জোরপূর্বক, মিথ্যা তথ্য, অযাচিত প্রভাব, ভয়ভীতি, প্রলোভন বা প্রতারণার মাধ্যমে তাদের ধর্মান্তর করা হয়েছে।

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন, সর্বোচ্চ সাজা বেড়ে ১০ বছর

‘প্রথম দায়িত্ব স্বাধীন ইচ্ছা নিশ্চিত করা’

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দুই বোনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং ধর্ম, বিয়ে, বসবাস ও ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের ইচ্ছামতো বিয়ে করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।

আদালতের মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই স্বাধীন ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, নাকি বেআইনিভাবে আটক বা কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছেন—তা নিশ্চিত করাই আদালতের প্রথম দায়িত্ব। তাই তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সিদ্ধান্তগুলো স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়েছে কি না এবং তারা আইনসম্মতভাবে অবস্থান করছেন কি না, তা যাচাই করার জন্য আদালতে তাদের উপস্থিতি অপরিহার্য।

এ অবস্থায় উত্তর প্রদেশ সরকার ও দুই বোনের বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে তাদের বাবার কাছে নোটিশ পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ বসতি বিতর্ক: ভারতের অরুণাচলে ‘অননুমোদিত’ ১৫টি মসজিদ সিলগালা

আদালত আরও নির্দেশ দেন, নির্ধারিত দিনে যদি ওই দুই বোনকে আদালতে হাজির করা না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিল করতে হবে। সেখানে কেন আদালতের নির্দেশ পালন করা যায়নি, তাদের আদালতে হাজির করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের হাজির নিশ্চিত করতে আর কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে।

বিচারপতি সন্দীপ জৈন বলেন, হলফনামায় অবশ্যই সৎ উদ্দেশ্যে, যথাযথ নিষ্ঠা ও কার্যকরভাবে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি আদালতের সামনে ওই দুই নারীকে হাজির নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে কী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাও উল্লেখ করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে। ফক্স নিউজের ‘@ Night’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সারাদিন আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তবে তারা যদি আবার পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হতে পারে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে কাতারও যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনবিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি— তার কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছে। এর আগে কাতার জানিয়েছিল, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি অর্জন করছেন। ইরান ইস্যুতে এখনো যে বড় ভুলটি করেননি ট্রাম্প মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরি দপ্তর জানিয়েছে, দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত রুট এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে ইরান ও ওমান— উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ইরান। তাদের দাবি, বিপরীত তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। ওই প্রস্তাবে যৌথ তদারকি এবং জাহাজ থেকে স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতায় আসাটাই শেষ সুযোগ, ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম লোহিত সাগরেও উত্তেজনা এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বহাল রেখেছে। এতে তেল রপ্তানির পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেন এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরানকে শায়েস্তা করতে সেনাদের কাছেই ‘সৃজনশীল’ কৌশল চাইল মার্কিন সেনাবাহিনী অন্যদিকে ইরান সরকারের হিসাবে জুনের শেষ দিকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় দেশটিতে ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে তেহরান আরও জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

স্বেচ্ছায় মুসলিম হয়ে পছন্দের মানুষকে বিয়েতে কেউ বাধা দিতে পারে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ১২:০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চাওয়া দুই বোনকে ঘিরে বিরোধের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দুই প্রাপ্তবয়স্ক নারী যদি স্বাধীন ইচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বাবাসহ অন্য কেউ এতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। তবে তাদের ধর্মান্তর ও বিয়ের সিদ্ধান্ত সত্যিই স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আগামী ৬ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, বিচারপতি সন্দীপ জৈন ২০ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই বোনের করা এক আবেদনের শুনানি করতে গিয়ে গত ৩১ জুলাই এ আদেশ দেন। আদালতে ওই দুই বোন দাবি করেন, তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আদালত তার আদেশে বলেন, “যদি শেষ পর্যন্ত এসব দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে চতুর্থ বিবাদী (বাবা) বা অন্য কারও পক্ষ থেকে তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা তাদের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মর্যাদা, গোপনীয়তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং নিজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

ভারতে বেকারদের ৩ জনে ২ জনই স্নাতক ডিগ্রিধারী: গবেষণা

নিজেদের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের দাবি

দুই বোন আদালতে বলেন, তারা সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক এবং কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি, প্রলোভন বা অযাচিত প্রভাব ছাড়াই স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন, যা তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন থেকে উদ্ভূত সাংবিধানিক অধিকার।

তাদের আইনজীবী আলি বিন সাইফ ও দিনেশ কুমার যাদব আদালতে জানান, মেয়েদের স্বাধীন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তাদের বাবা ২০২৫ সালের ৪ মে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৮৭ ধারায় একটি মিথ্যা ও বিদ্বেষপ্রসূত এফআইআর দায়ের করেন। ওই ধারায় নারীকে অপহরণ, তুলে নেওয়া বা বিয়েতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে প্ররোচিত করার অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইনজীবীদের দাবি, ওই অভিযোগের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল দুই বোনের আইনসম্মত অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করা। তারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে দুই নারীকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয় এবং তাদের স্বাধীন চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়।

তাদের আইনজীবীরা আদালতকে আরও বলেন, যেহেতু ধর্মান্তর স্বেচ্ছায় হয়েছে, তাই উত্তর প্রদেশের অবৈধ ধর্মান্তর নিষিদ্ধ আইন, ২০২১-এর বিধান এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া নথিপত্রে এমন কোনো অভিযোগ বা প্রমাণও নেই, যা থেকে বোঝা যায় জোরপূর্বক, মিথ্যা তথ্য, অযাচিত প্রভাব, ভয়ভীতি, প্রলোভন বা প্রতারণার মাধ্যমে তাদের ধর্মান্তর করা হয়েছে।

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন, সর্বোচ্চ সাজা বেড়ে ১০ বছর

‘প্রথম দায়িত্ব স্বাধীন ইচ্ছা নিশ্চিত করা’

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দুই বোনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং ধর্ম, বিয়ে, বসবাস ও ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের ইচ্ছামতো বিয়ে করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।

আদালতের মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই স্বাধীন ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, নাকি বেআইনিভাবে আটক বা কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছেন—তা নিশ্চিত করাই আদালতের প্রথম দায়িত্ব। তাই তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সিদ্ধান্তগুলো স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়েছে কি না এবং তারা আইনসম্মতভাবে অবস্থান করছেন কি না, তা যাচাই করার জন্য আদালতে তাদের উপস্থিতি অপরিহার্য।

এ অবস্থায় উত্তর প্রদেশ সরকার ও দুই বোনের বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে তাদের বাবার কাছে নোটিশ পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ বসতি বিতর্ক: ভারতের অরুণাচলে ‘অননুমোদিত’ ১৫টি মসজিদ সিলগালা

আদালত আরও নির্দেশ দেন, নির্ধারিত দিনে যদি ওই দুই বোনকে আদালতে হাজির করা না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিল করতে হবে। সেখানে কেন আদালতের নির্দেশ পালন করা যায়নি, তাদের আদালতে হাজির করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের হাজির নিশ্চিত করতে আর কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে।

বিচারপতি সন্দীপ জৈন বলেন, হলফনামায় অবশ্যই সৎ উদ্দেশ্যে, যথাযথ নিষ্ঠা ও কার্যকরভাবে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি আদালতের সামনে ওই দুই নারীকে হাজির নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে কী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাও উল্লেখ করতে হবে।