ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মৌখিকে নম্বর বাড়লে নিয়োগে ‘দলীয়করণের’ সুযোগ তৈরি হবে—নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছরের বৃদ্ধের আত্মসমর্পণ চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিলেন ড. খলিল বাগবিতণ্ডার জেরে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ: এজি ওসমানীর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি ও জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি বেনজীরকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, আয়োজক গ্রেপ্তার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর, সেরা কোচের তালিকায় কারা একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭১, বছরের সর্বোচ্চ
সংবাদ শিরোনাম ::
মৌখিকে নম্বর বাড়লে নিয়োগে ‘দলীয়করণের’ সুযোগ তৈরি হবে—নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছরের বৃদ্ধের আত্মসমর্পণ চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিলেন ড. খলিল বাগবিতণ্ডার জেরে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ: এজি ওসমানীর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি ও জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি বেনজীরকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, আয়োজক গ্রেপ্তার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর, সেরা কোচের তালিকায় কারা একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭১, বছরের সর্বোচ্চ

কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত পেলেন বিদিশা

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতারণার মামলায় জামিনের একদিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক সামরিক শাসক প্রয়াত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর নারী হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার জামিনে মুক্ত হন তিনি।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিদিশার জামিনের সব কাগজপত্র কারাগারে আসার পর যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সব নথিপত্র ঠিকঠাক থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের একটি মামলায় গত ২৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০৮ সালে দায়ের করা এ মামলায় গত মে মাসে বিচারক বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড সাজা দেন।

গ্রেপ্তারের পরদিন ২৬ আগস্ট বিদিশাকে সাজা পরোয়ানা মূলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতে বিদিশার পক্ষে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ সে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।

পরে দুই বছরের কারাদণ্ড রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন বিদিশা। গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির বিদিশার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদনের নাকচ করে দেন। পরে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট বিদিশাকে জামিন দেন। এই আদেশের অনুলিপি কারাগারে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার জামিনে মুক্ত হলেন তিনি।

বিদিশার বিরুদ্ধে মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী গুলশান থানায় মামলাটি করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে, ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী মোশাররফ হোসেনকে ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের ওই ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয় তাদের মধ্যে।

এজাহারে উল্লেখ, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। পরে তার বন্ধু আব্দুর রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করলে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল।

বাদীর অভিযোগ, ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ২০ মে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার মহানগর হাকিম জামসেদ আলম। রায়ে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড সাজা দেন। বিদিশা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সেদিনই সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত পেলেন বিদিশা

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতারণার মামলায় জামিনের একদিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক সামরিক শাসক প্রয়াত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর নারী হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার জামিনে মুক্ত হন তিনি।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিদিশার জামিনের সব কাগজপত্র কারাগারে আসার পর যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সব নথিপত্র ঠিকঠাক থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের একটি মামলায় গত ২৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০৮ সালে দায়ের করা এ মামলায় গত মে মাসে বিচারক বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড সাজা দেন।

গ্রেপ্তারের পরদিন ২৬ আগস্ট বিদিশাকে সাজা পরোয়ানা মূলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতে বিদিশার পক্ষে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ সে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।

পরে দুই বছরের কারাদণ্ড রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন বিদিশা। গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির বিদিশার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদনের নাকচ করে দেন। পরে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট বিদিশাকে জামিন দেন। এই আদেশের অনুলিপি কারাগারে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার জামিনে মুক্ত হলেন তিনি।

বিদিশার বিরুদ্ধে মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী গুলশান থানায় মামলাটি করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে, ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী মোশাররফ হোসেনকে ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের ওই ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয় তাদের মধ্যে।

এজাহারে উল্লেখ, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। পরে তার বন্ধু আব্দুর রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করলে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল।

বাদীর অভিযোগ, ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ২০ মে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার মহানগর হাকিম জামসেদ আলম। রায়ে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড সাজা দেন। বিদিশা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সেদিনই সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।