ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মৌখিকে নম্বর বাড়লে নিয়োগে ‘দলীয়করণের’ সুযোগ তৈরি হবে—নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছরের বৃদ্ধের আত্মসমর্পণ চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিলেন ড. খলিল বাগবিতণ্ডার জেরে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ: এজি ওসমানীর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি ও জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি বেনজীরকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, আয়োজক গ্রেপ্তার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর, সেরা কোচের তালিকায় কারা একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭১, বছরের সর্বোচ্চ
সংবাদ শিরোনাম ::
মৌখিকে নম্বর বাড়লে নিয়োগে ‘দলীয়করণের’ সুযোগ তৈরি হবে—নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছরের বৃদ্ধের আত্মসমর্পণ চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিলেন ড. খলিল বাগবিতণ্ডার জেরে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ: এজি ওসমানীর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি ও জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি বেনজীরকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, আয়োজক গ্রেপ্তার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর, সেরা কোচের তালিকায় কারা একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭১, বছরের সর্বোচ্চ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ‘ধরে আনতে চায়’ সরকার

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে সরকার দেশে ‘ধরে নিয়ে আসতে চায়’। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: বাসস

জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তোলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ওই দাবির মুখে গত বছরের ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।

এর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তার দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীদের কেউ কেউ দেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অনেকে পলাতক, যাদের একটি বড় অংশ শেখ হাসিনার মতোই ভারতে অবস্থান করছেন।

ছাত্র-জনতার ওই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচারে চালানো গুলিতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী সেই আন্দোলন দমনে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হতে পারেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন আদালত। ওই সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়।

গত জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে তার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশি দুই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ‘আগামীর সময়ে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন না। অন্যদিকে ‘টাইম অব বাংলাদেশে’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডিসেম্বরের ‘প্রথম সপ্তাহেই’ দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত আগামীর সময়ের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ডিসেম্বরে ফেরা হচ্ছে না হাসিনার’। এতে বলা হয়, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও ভারতে অবস্থানকারী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবে ফিরছেন না। বাস্তব পরিস্থিতি, ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সমীকরণ এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, তার দেশে ফেরার পথ আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক— তিন দিক থেকেই বন্ধ।

আগামীর সময় জানায়, ঢাকা এখন শুধু শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রশ্নে আটকে নেই। সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করতে পারেন; তবে সেখান থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া কিংবা কোনো ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ যেন তাকে দেওয়া না হয়।

গত জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। এতে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ে নতুন আশার সঞ্চার হলেও, আগামীর সময় বলছে, সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

আগামীর সময়ের প্রতিবেদনে বিদেশে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার বরাত দিয়ে বলা হয়, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা এবং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দিতে বছরের শেষভাগে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার যে বার্তা প্রচার করা হয়েছিল, সেটি এখন মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ।

দলীয় পর্যায়ে তার ফেরাকে কেন্দ্র করে দৃশ্যমান কোনো বড় প্রস্তুতিও নেই। বরং আওয়ামী লীগের ভেতরেই ধরে নেওয়া হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারছেন না। ফলে তিনি না ফিরলে দল কী ব্যাখ্যা দেবে এবং নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা কীভাবে সামাল দেবে— এখন সেটিই নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন প্রশ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদনে এর সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফিরতে চান হাসিনা’। এতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বরাত দিয়ে বলা হয়, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষে অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন শেখ হাসিনা।

ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নেতা আব্বাস চৌধুরী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করবেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

গত রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে টাইমস অব বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে। ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফিরলে আমাকে হত্যা করা হতে পারে। আমাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হতে পারে। তবুও দেশের মানুষের স্বার্থে আমাকে ফিরতেই হবে।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতার সঙ্গে কথা বলেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শেখ হাসিনা কাউকে ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরতে না বলতেও পারেন। তবে বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা দেশে ফিরতে চান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন দেশে অবস্থান করা প্রায় ৬০ জন আওয়ামী লীগ নেতা ইতিমধ্যে কলকাতায় সমবেত হয়েছেন। সেখানে তারা নিয়মিত বৈঠক করছেন, অনলাইনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সমন্বয় করছেন এবং কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিচ্ছেন। আরও ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতাও তাদের সঙ্গে কাজ করছেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশি দুটি সংবাদমাধ্যমের এমন বিপরীতধর্মী তথ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একদিকে আগামীর সময় বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই; অন্যদিকে টাইমস অব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতাদের বরাত দিয়ে বলছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে শেখ হাসিনা।

‘মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে’

আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আপিল করারও সুযোগ নেই বলে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মলেনে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা খেয়াল করেছেন আইসিটির আমাদের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন তারা এখন আর আপিল করারও সুযোগ নাই যে উনি এসে আপিল করে আবার তিনি তার যে বিচার হয়েছে সেটা পুনর্বিবেচনা করাবেন সে সময়ও নাই। তার মানে ব্যাপারটা টেকনিক্যালি এখন এরকম— তিনি আসবেন এবং তার জন্য। মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে, আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, কেউ কেউ এ ধরনের স্পোরুলেট করছেন। এটা আসলে চায় না, ইন্ডিয়ার ওপর একটা চাপ তৈরির জন্য। আমরা একটা কথা খুব ক্লিয়ারটি বানাতে চাই— প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সাথে যখন এটাকে কন্ডিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে, ইউ হ্যান্ড টু টেক ইট সিরিয়াসলি।’

সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এখন সাম্প্রতিক সময়ে আবার। তিনি-একটা সময় তো প্রেস কনফারেন্স করেছিলেন, যেটি নিয়ে আমরা খুব স্ট্রংলি রিয়্যাকশন নিয়েছি। এখন তিনি কিছু মিডিয়ার সাথে কথা বলছেন, সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, ভারতের প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার সাথে। বুঝতেই পারেন। এটা আনএক্সপেক্টেড। আমরা তাকে প্রত্যর্পণের আগ পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এগুলো করতে না পারেন, আমরা এক্সপেক্ট করেছিলাম, এক্সপেক্ট করব ভারত সরকার এই ব্যাপারে তাকে একটা বার দেবেন।’

শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ঠিক হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ। বলেন, ‘তিনি ওখানে পালিয়ে অ্যাবসকাঝেও হয়ে কাছেন এবং তাকে তার স্ট্যাটাসটাও আমরা জমি না যে তিনি এই রাইটগুলো আসলে এনজয় করতে পারেন কি না-এগুলোরও ব্লারিফিকেশন নাই। সো আমি মনে করি যে এটা তাদের দিক থেকে সঠিক হচ্ছে না। আর আমরা তাকে আনতে চাইছি প্রত্যর্পণের দাবিটা স্ট্রং।

ভারত সরকারকে শেখ হাসিনার মুখ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) আসুন, তিনি নিজে আসুন বা আমরা আনি— আমরা এটা করাতেই চাই, এর মধ্যে কোনো জৌশল নেই। আর ইন্ডিয়ান সরকার এই যে সম্পর্কটি যে জায়গায় চলে গিয়েছিল, তাকে উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ কিন্তু ইমিডিয়েটলি তারা নিতে পারতেন, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।’

সম্প্রতি দীনেশ ত্রিবেদীর ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব আপনারা তাকে এটুকু জিজ্ঞেস করুন যে, শেখ হাসিনার ব্যাপারে তো আমাদের সেনসিটিভিটি আছে। তিনি (হাসিনা) যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন, শুধু তাই নয়, যেমন ধরুন আজমেরী হক বাঁধনের কথা বললাম, এটা না শুধু এর আগেও যারা গেছেন আমরা যে কেউ গেলে কিন্তু এই হামলার শিকার হতে পারি।’

এর আগে ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে ‘হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশ সময় সোমবার গভীররাতে ভেনিস শহরের মেস্ত্রে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই অভিনেত্রী ফেসবুক লাইভে বলেন, আওয়ামী লীগের একদল কর্মী তাকে গায়ে পানি ও কোক ছুড়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে। আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে…তারা বলেছে যে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তারা বলেছে যে, তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল।

আজমেরী হক বাঁধনকে লাঞ্ছিত করার প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইটস আ মাফিয়া গ্যাং। এই যে মাফিয়া গ্যাং বলছি, এটার একটা প্রমাণ হচ্ছে, কেউ কেউ তাদেরকে রাজনৈতিক দল বলে, তাদের এক ধরনের অধিকার আছে, রাজনীতি করবে না কেন, এই আলাপ তুলতে আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যা হল, আমার মনে হয়— এটা আবার বোঝাল ওদের আদৌ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে কোনোভাবে আমাদের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না।’

তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, ‘আজমেরি হক বাঁধনের উপরে হামলা হয়েছে, আমরা ভিডিও দেখেছি— সেটা উনি না, যারা হামলা করেছেন তারা নিজেরাও ভিডিও-টিডিও করে এটা পাবলিশ করেছেন। মানে আমার কাছে এভাবে বলতে ইচ্ছা করে, যারা এটা করেছেন তাদেরকে একটু ধন্যবাদও দেওয়ার আছে। আওয়ামী লীগ কী বস্তু, আওয়ামী লীগ তারা কারা করেন, আওয়ামী লীগ কী— তারা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন।’

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাকে এটা নিশ্চিত করছি, এই ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া— এটার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেবো না, এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’

হামলার ঘটনাকে বাঁধনের জন্য এক ধরনের প্রাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেন জাহেদ উর রহমান। বলেন, “বাঁধন তার ফেসবুক লাইভে বলছিলেন যে, তো জুলাই যোদ্ধা— তখন উনি বলছিলেন, ‘ইয়েস আই অ্যাম’। একইভাবে আমরা অনেকেই সেরকম আছি, আমরা হামলার শিকার হতে পারি, বাট উই ডোন্ট কেয়ার! একেবারেই না।”

‘এই ঘটনাগুলো যখন ঘটছে তখন শেখ হাসিনাকে মিডিয়ায় কথা বলতে দেখা আমাদের ক্ষুদ্ধ করে সেটা তো তাদের (ভারত) বোঝা উচিত,’ যোগ করেন তিনি। জাহেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা যখন সংবাদ সম্মেলন করেছিল আমাদের যে প্রতিবাদলিপি ছিল, সে প্রাতিবাদলিপিতে। এই কথাটাই বলা হয়েছে যে একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে, আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে আপনি আসলে আমার সাথে যথোট এনা এনগেইজ করতে চাইছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ‘ধরে আনতে চায়’ সরকার

আপডেট সময় : ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে সরকার দেশে ‘ধরে নিয়ে আসতে চায়’। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: বাসস

জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তোলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ওই দাবির মুখে গত বছরের ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।

এর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তার দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীদের কেউ কেউ দেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অনেকে পলাতক, যাদের একটি বড় অংশ শেখ হাসিনার মতোই ভারতে অবস্থান করছেন।

ছাত্র-জনতার ওই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচারে চালানো গুলিতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী সেই আন্দোলন দমনে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হতে পারেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন আদালত। ওই সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়।

গত জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে তার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশি দুই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ‘আগামীর সময়ে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন না। অন্যদিকে ‘টাইম অব বাংলাদেশে’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডিসেম্বরের ‘প্রথম সপ্তাহেই’ দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত আগামীর সময়ের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ডিসেম্বরে ফেরা হচ্ছে না হাসিনার’। এতে বলা হয়, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও ভারতে অবস্থানকারী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবে ফিরছেন না। বাস্তব পরিস্থিতি, ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সমীকরণ এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, তার দেশে ফেরার পথ আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক— তিন দিক থেকেই বন্ধ।

আগামীর সময় জানায়, ঢাকা এখন শুধু শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রশ্নে আটকে নেই। সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করতে পারেন; তবে সেখান থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া কিংবা কোনো ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ যেন তাকে দেওয়া না হয়।

গত জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। এতে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ে নতুন আশার সঞ্চার হলেও, আগামীর সময় বলছে, সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

আগামীর সময়ের প্রতিবেদনে বিদেশে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার বরাত দিয়ে বলা হয়, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা এবং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দিতে বছরের শেষভাগে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার যে বার্তা প্রচার করা হয়েছিল, সেটি এখন মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ।

দলীয় পর্যায়ে তার ফেরাকে কেন্দ্র করে দৃশ্যমান কোনো বড় প্রস্তুতিও নেই। বরং আওয়ামী লীগের ভেতরেই ধরে নেওয়া হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারছেন না। ফলে তিনি না ফিরলে দল কী ব্যাখ্যা দেবে এবং নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা কীভাবে সামাল দেবে— এখন সেটিই নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন প্রশ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদনে এর সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফিরতে চান হাসিনা’। এতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বরাত দিয়ে বলা হয়, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষে অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন শেখ হাসিনা।

ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নেতা আব্বাস চৌধুরী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করবেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

গত রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে টাইমস অব বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে। ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফিরলে আমাকে হত্যা করা হতে পারে। আমাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হতে পারে। তবুও দেশের মানুষের স্বার্থে আমাকে ফিরতেই হবে।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতার সঙ্গে কথা বলেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শেখ হাসিনা কাউকে ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরতে না বলতেও পারেন। তবে বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা দেশে ফিরতে চান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন দেশে অবস্থান করা প্রায় ৬০ জন আওয়ামী লীগ নেতা ইতিমধ্যে কলকাতায় সমবেত হয়েছেন। সেখানে তারা নিয়মিত বৈঠক করছেন, অনলাইনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সমন্বয় করছেন এবং কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিচ্ছেন। আরও ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতাও তাদের সঙ্গে কাজ করছেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশি দুটি সংবাদমাধ্যমের এমন বিপরীতধর্মী তথ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একদিকে আগামীর সময় বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই; অন্যদিকে টাইমস অব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতাদের বরাত দিয়ে বলছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে শেখ হাসিনা।

‘মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে’

আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আপিল করারও সুযোগ নেই বলে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মলেনে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা খেয়াল করেছেন আইসিটির আমাদের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন তারা এখন আর আপিল করারও সুযোগ নাই যে উনি এসে আপিল করে আবার তিনি তার যে বিচার হয়েছে সেটা পুনর্বিবেচনা করাবেন সে সময়ও নাই। তার মানে ব্যাপারটা টেকনিক্যালি এখন এরকম— তিনি আসবেন এবং তার জন্য। মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে, আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, কেউ কেউ এ ধরনের স্পোরুলেট করছেন। এটা আসলে চায় না, ইন্ডিয়ার ওপর একটা চাপ তৈরির জন্য। আমরা একটা কথা খুব ক্লিয়ারটি বানাতে চাই— প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সাথে যখন এটাকে কন্ডিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে, ইউ হ্যান্ড টু টেক ইট সিরিয়াসলি।’

সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এখন সাম্প্রতিক সময়ে আবার। তিনি-একটা সময় তো প্রেস কনফারেন্স করেছিলেন, যেটি নিয়ে আমরা খুব স্ট্রংলি রিয়্যাকশন নিয়েছি। এখন তিনি কিছু মিডিয়ার সাথে কথা বলছেন, সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, ভারতের প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার সাথে। বুঝতেই পারেন। এটা আনএক্সপেক্টেড। আমরা তাকে প্রত্যর্পণের আগ পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এগুলো করতে না পারেন, আমরা এক্সপেক্ট করেছিলাম, এক্সপেক্ট করব ভারত সরকার এই ব্যাপারে তাকে একটা বার দেবেন।’

শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ঠিক হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ। বলেন, ‘তিনি ওখানে পালিয়ে অ্যাবসকাঝেও হয়ে কাছেন এবং তাকে তার স্ট্যাটাসটাও আমরা জমি না যে তিনি এই রাইটগুলো আসলে এনজয় করতে পারেন কি না-এগুলোরও ব্লারিফিকেশন নাই। সো আমি মনে করি যে এটা তাদের দিক থেকে সঠিক হচ্ছে না। আর আমরা তাকে আনতে চাইছি প্রত্যর্পণের দাবিটা স্ট্রং।

ভারত সরকারকে শেখ হাসিনার মুখ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) আসুন, তিনি নিজে আসুন বা আমরা আনি— আমরা এটা করাতেই চাই, এর মধ্যে কোনো জৌশল নেই। আর ইন্ডিয়ান সরকার এই যে সম্পর্কটি যে জায়গায় চলে গিয়েছিল, তাকে উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ কিন্তু ইমিডিয়েটলি তারা নিতে পারতেন, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।’

সম্প্রতি দীনেশ ত্রিবেদীর ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব আপনারা তাকে এটুকু জিজ্ঞেস করুন যে, শেখ হাসিনার ব্যাপারে তো আমাদের সেনসিটিভিটি আছে। তিনি (হাসিনা) যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন, শুধু তাই নয়, যেমন ধরুন আজমেরী হক বাঁধনের কথা বললাম, এটা না শুধু এর আগেও যারা গেছেন আমরা যে কেউ গেলে কিন্তু এই হামলার শিকার হতে পারি।’

এর আগে ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে ‘হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশ সময় সোমবার গভীররাতে ভেনিস শহরের মেস্ত্রে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই অভিনেত্রী ফেসবুক লাইভে বলেন, আওয়ামী লীগের একদল কর্মী তাকে গায়ে পানি ও কোক ছুড়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে। আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে…তারা বলেছে যে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তারা বলেছে যে, তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল।

আজমেরী হক বাঁধনকে লাঞ্ছিত করার প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইটস আ মাফিয়া গ্যাং। এই যে মাফিয়া গ্যাং বলছি, এটার একটা প্রমাণ হচ্ছে, কেউ কেউ তাদেরকে রাজনৈতিক দল বলে, তাদের এক ধরনের অধিকার আছে, রাজনীতি করবে না কেন, এই আলাপ তুলতে আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যা হল, আমার মনে হয়— এটা আবার বোঝাল ওদের আদৌ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে কোনোভাবে আমাদের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না।’

তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, ‘আজমেরি হক বাঁধনের উপরে হামলা হয়েছে, আমরা ভিডিও দেখেছি— সেটা উনি না, যারা হামলা করেছেন তারা নিজেরাও ভিডিও-টিডিও করে এটা পাবলিশ করেছেন। মানে আমার কাছে এভাবে বলতে ইচ্ছা করে, যারা এটা করেছেন তাদেরকে একটু ধন্যবাদও দেওয়ার আছে। আওয়ামী লীগ কী বস্তু, আওয়ামী লীগ তারা কারা করেন, আওয়ামী লীগ কী— তারা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন।’

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাকে এটা নিশ্চিত করছি, এই ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া— এটার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেবো না, এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’

হামলার ঘটনাকে বাঁধনের জন্য এক ধরনের প্রাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেন জাহেদ উর রহমান। বলেন, “বাঁধন তার ফেসবুক লাইভে বলছিলেন যে, তো জুলাই যোদ্ধা— তখন উনি বলছিলেন, ‘ইয়েস আই অ্যাম’। একইভাবে আমরা অনেকেই সেরকম আছি, আমরা হামলার শিকার হতে পারি, বাট উই ডোন্ট কেয়ার! একেবারেই না।”

‘এই ঘটনাগুলো যখন ঘটছে তখন শেখ হাসিনাকে মিডিয়ায় কথা বলতে দেখা আমাদের ক্ষুদ্ধ করে সেটা তো তাদের (ভারত) বোঝা উচিত,’ যোগ করেন তিনি। জাহেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা যখন সংবাদ সম্মেলন করেছিল আমাদের যে প্রতিবাদলিপি ছিল, সে প্রাতিবাদলিপিতে। এই কথাটাই বলা হয়েছে যে একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে, আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে আপনি আসলে আমার সাথে যথোট এনা এনগেইজ করতে চাইছেন।’