ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান, আইআরজিসি বলছে হরমুজ ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হরমুজ প্রণালি খোলা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শুক্রবার ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে ‘স্পষ্ট মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার পর জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে যুক্তরাষ্ট্র পালটা অবরোধ আরোপ করে। ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। কয়েকবার যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধও ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, তেলের বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করতেই মার্কিন কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে আইআরজিসি। তারা বলেছে, এই জলপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ ‘সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত’। তেহরানের অনুমতি ছাড়া যেকোনো জাহাজের চলাচলে কড়াকড়ি ‘পূর্ণ শক্তিতে’ বহাল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত এবং চুক্তি অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি না মানা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বজায় থাকবে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের নৌযান চলাচলের ওপর তাদের অবরোধ বহাল রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখান থেকে মাইন অপসারণ করা হয়েছে।

তবে মার্কিন দাবির সঙ্গে শিপিং ডেটার চিত্র মিলছে না। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতো, সেখানে বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন ১৭টি জাহাজ পার হয়েছিল। তবে কিছু জাহাজ ‘ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ রেখে চলায় প্রকৃত সংখ্যায় কিছুটা হেরফের হতে পারে।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। চলমান এই অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন প্রণালিটি এড়িয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও রপ্তানির পথ তৈরির পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করছে।

প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পরিচালনা এবং এ-সংক্রান্ত রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, চূড়ান্ত কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে।

এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ওমানের সঙ্গে একটি নৌপথে একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে নির্ধারিত একটি চ্যানেল ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

এ ছাড়া কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় বাণিজ্যিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। এদিকে যুদ্ধ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপের মুখে জনগণকে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান, আইআরজিসি বলছে হরমুজ ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

আপডেট সময় : ০৫:১৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খোলা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শুক্রবার ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে ‘স্পষ্ট মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার পর জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে যুক্তরাষ্ট্র পালটা অবরোধ আরোপ করে। ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। কয়েকবার যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধও ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, তেলের বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করতেই মার্কিন কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে আইআরজিসি। তারা বলেছে, এই জলপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ ‘সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত’। তেহরানের অনুমতি ছাড়া যেকোনো জাহাজের চলাচলে কড়াকড়ি ‘পূর্ণ শক্তিতে’ বহাল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত এবং চুক্তি অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি না মানা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বজায় থাকবে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের নৌযান চলাচলের ওপর তাদের অবরোধ বহাল রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখান থেকে মাইন অপসারণ করা হয়েছে।

তবে মার্কিন দাবির সঙ্গে শিপিং ডেটার চিত্র মিলছে না। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতো, সেখানে বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন ১৭টি জাহাজ পার হয়েছিল। তবে কিছু জাহাজ ‘ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ রেখে চলায় প্রকৃত সংখ্যায় কিছুটা হেরফের হতে পারে।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। চলমান এই অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন প্রণালিটি এড়িয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও রপ্তানির পথ তৈরির পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করছে।

প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পরিচালনা এবং এ-সংক্রান্ত রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, চূড়ান্ত কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে।

এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ওমানের সঙ্গে একটি নৌপথে একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে নির্ধারিত একটি চ্যানেল ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

এ ছাড়া কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় বাণিজ্যিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। এদিকে যুদ্ধ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপের মুখে জনগণকে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি।