সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, আশাবাদ সিইসির
- আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করা যায়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি।
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন মাঠে নামতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্যও সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটা তফসিল দিতে পারব।’
নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণে দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও আইনি সময়সীমাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘তবে এটা নিশ্চিত যে, আমাদের এই বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে। আইনি বিষয় আছে এখানে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোট ডিসেম্বরের দিকে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলে নভেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ের স্লট খুবই শর্ট। এরপর রমজান চলে আসবে। রমজানের পরে ঈদুল আজহা, তারপর বর্ষাকাল— নানাবিধ জটিলতা আছে। সবকিছু মিলিয়েই আমাদের নির্বাচন করতে হবে।’
উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সংশ্লিষ্ট একটি আসনের উপনির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আইনিভাবে যেসব নির্বাচন আগে করার প্রয়োজন, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগের ধাপের নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের ১০ জুন প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।
সিইসি বলেন, ‘যেসব এলাকায় নির্বাচন আগে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আমাদের প্রথমে বিবেচনায় নিতে হবে। আর হিল রিজিয়ন বা দুর্গম অঞ্চল যেখানে আছে, সেখানে যদি নির্বাচন পড়ে, সেগুলো শুকনো মৌসুমে করার চেষ্টা থাকবে।
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, তারচেয়ে ভালো, খারাপ নয়— ওই স্ট্যান্ডার্ডে আমরা কাজ করতে চাই। প্রফেশনালি, ইনডিপেনডেন্টলি এবং নিউট্রালি যাতে কাজ করতে পারি এবং আমাদের প্রতিটা পদক্ষেপ যাতে ক্রেডিবল হয়, সেভাবেই কাজ করতে চাই।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আগামী নির্বাচনগুলো আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।



















