ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় আগুনে মৃত্যু: ‘শিখা ইন’ হোটেলের মালিক গ্রেপ্তার তিন দিন পর এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন: বিকেএমইএ এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ভাইয়ের মারামারি মামলায় হার, বাদীদের ডেইলি মেইল প্রকাশককে দিতে হবে ১৫৯ কোটি টাকা মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্বপন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘরে-ছাদে-সিঁড়িতে ছড়িয়ে ছিল দম্পতি ও ২ সন্তানের মরদেহ মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা শরীফুল ঝড়ে তছনছ অস্ট্রেলিয়া— দিন শেষে হাতে ২ উইকেট, লিড ১০১
সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় আগুনে মৃত্যু: ‘শিখা ইন’ হোটেলের মালিক গ্রেপ্তার তিন দিন পর এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন: বিকেএমইএ এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ভাইয়ের মারামারি মামলায় হার, বাদীদের ডেইলি মেইল প্রকাশককে দিতে হবে ১৫৯ কোটি টাকা মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্বপন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘরে-ছাদে-সিঁড়িতে ছড়িয়ে ছিল দম্পতি ও ২ সন্তানের মরদেহ মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা শরীফুল ঝড়ে তছনছ অস্ট্রেলিয়া— দিন শেষে হাতে ২ উইকেট, লিড ১০১

মেঘনার ওপর ১৭৮ কোটি টাকার সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বাঙালপাড়া-চাতলপাড় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সেতুর বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। এতে হাওর অঞ্চলের অবহেলিত বিপুল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগের আকাঙ্ক্ষা এখন চরম ভোগান্তি ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।

উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত সেতুটি নির্মাণের কথা রয়েছে। হাওর অঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার কারণে সারা বছর সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। সেতুটি নির্মিত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর ২০২৩ সালে ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে তৎকালীন ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবং তৎকালীন নাসিরনগর এলাকার সংসদ সদস্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের উদ্বোধন করেন। সে সময় দ্রুত কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

শুরুর দিকে দ্রুতগতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পে স্থবিরতা নেমে আসে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই কাজের গতি কমতে থাকে। একপর্যায়ে নির্মাণকাজ পুরোপুরি থমকে যায়। পরে তমা কনস্ট্রাকশনের নিয়োজিত লোকজন তাদের সব যন্ত্রপাতি ও মালামাল গুটিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে এলাকা ত্যাগ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

বর্তমানে মেঘনা নদীর বুকে সেতুটির কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে। হাওরবাসীর কাছে এসব পিলার এখন তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।

বর্ষা মৌসুমে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিতে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার কিংবা ছোট ছোট নৌকাই স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা। শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ নিয়ে নদী পার হতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সংকটাপন্ন রোগীদের।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়ার নোয়াগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণস্থলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকজন নেই। সেতু নির্মাণের জন্য আনা অধিকাংশ মালামালও সেখানে নেই।

এ সময় উপস্থিত বিমাকর্মী প্রদীপ দাস বলেন, সেতুটি নির্মাণ হলে হাওরের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা ছিল। এটি শুধু দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, পুরো হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক মানিক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন চুক্তিভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ আশা করছে।

এদিকে হাওর অঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে সেতু নির্মাণের কাজ পুনরায় চালু করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মেঘনার ওপর ১৭৮ কোটি টাকার সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বাঙালপাড়া-চাতলপাড় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সেতুর বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। এতে হাওর অঞ্চলের অবহেলিত বিপুল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগের আকাঙ্ক্ষা এখন চরম ভোগান্তি ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।

উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত সেতুটি নির্মাণের কথা রয়েছে। হাওর অঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার কারণে সারা বছর সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। সেতুটি নির্মিত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর ২০২৩ সালে ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে তৎকালীন ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবং তৎকালীন নাসিরনগর এলাকার সংসদ সদস্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের উদ্বোধন করেন। সে সময় দ্রুত কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

শুরুর দিকে দ্রুতগতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পে স্থবিরতা নেমে আসে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই কাজের গতি কমতে থাকে। একপর্যায়ে নির্মাণকাজ পুরোপুরি থমকে যায়। পরে তমা কনস্ট্রাকশনের নিয়োজিত লোকজন তাদের সব যন্ত্রপাতি ও মালামাল গুটিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে এলাকা ত্যাগ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

বর্তমানে মেঘনা নদীর বুকে সেতুটির কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে। হাওরবাসীর কাছে এসব পিলার এখন তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।

বর্ষা মৌসুমে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিতে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার কিংবা ছোট ছোট নৌকাই স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা। শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ নিয়ে নদী পার হতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সংকটাপন্ন রোগীদের।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়ার নোয়াগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণস্থলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকজন নেই। সেতু নির্মাণের জন্য আনা অধিকাংশ মালামালও সেখানে নেই।

এ সময় উপস্থিত বিমাকর্মী প্রদীপ দাস বলেন, সেতুটি নির্মাণ হলে হাওরের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা ছিল। এটি শুধু দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, পুরো হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক মানিক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন চুক্তিভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ আশা করছে।

এদিকে হাওর অঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে সেতু নির্মাণের কাজ পুনরায় চালু করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।