ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক জামিনে মুক্ত

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আজ বুধবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

খায়রুল হকের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বি এম খায়রুল হক কারাগার থেকে তার ধানমন্ডির বাসায় যাবেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলাতেই তিনি জামিন পেয়েছেন।

নয়টি মামলার মধ্যে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে এই মামলায়ও তার জামিন বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়েই তার মুক্তির পথ খুলে যায়।

এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খায়রুল হকের জামিনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন আদালত।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান তিনি। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন।

এই সাবেক প্রধান বিচারপতি আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের সপ্তাহখানেক পর, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন।

এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওই রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

গত এক বছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, রায় ‘জালিয়াতি’ ও দুর্নীতির অভিযোগে মোট নয়টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একাধিকবার তার নামে থাকা সর্বশেষ মামলায় জামিন হলেও এর পরপরই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ফলে এতদিন কারামুক্ত হতে পারেননি তিনি।

সবশেষ গত ৩০ জুন নিজের নামে থাকা অষ্টম মামলায় জামিন পেয়েছিলেন খায়রুল হক। সেদিনও তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, আগের সাতটি মামলায় আগেই জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। তবে ২ জুলাই পুলিশ নতুন একটি মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। পরে ৮ জুলাই শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুর রহমানের আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন। ফলে সেবারও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি খায়রুল হক।

খায়রুল হকের আইনজীবীর তথ্যমতে, পৃথক ছয় মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন করে অন্য মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৭ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন আদালত।

এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে এবং লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি) চায়। লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে গত ৯ আগস্ট আপিল বিভাগ আদেশ দেন। আপিল বিভাগের আদেশে এ-সংক্রান্ত রুল দ্রুত হাইকোর্টে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া খায়রুল হক দেশত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ তার ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক জামিনে মুক্ত

আপডেট সময় : ০৩:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আজ বুধবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

খায়রুল হকের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বি এম খায়রুল হক কারাগার থেকে তার ধানমন্ডির বাসায় যাবেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলাতেই তিনি জামিন পেয়েছেন।

নয়টি মামলার মধ্যে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে এই মামলায়ও তার জামিন বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়েই তার মুক্তির পথ খুলে যায়।

এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খায়রুল হকের জামিনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন আদালত।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান তিনি। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন।

এই সাবেক প্রধান বিচারপতি আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের সপ্তাহখানেক পর, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন।

এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওই রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

গত এক বছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, রায় ‘জালিয়াতি’ ও দুর্নীতির অভিযোগে মোট নয়টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একাধিকবার তার নামে থাকা সর্বশেষ মামলায় জামিন হলেও এর পরপরই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ফলে এতদিন কারামুক্ত হতে পারেননি তিনি।

সবশেষ গত ৩০ জুন নিজের নামে থাকা অষ্টম মামলায় জামিন পেয়েছিলেন খায়রুল হক। সেদিনও তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, আগের সাতটি মামলায় আগেই জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। তবে ২ জুলাই পুলিশ নতুন একটি মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। পরে ৮ জুলাই শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুর রহমানের আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন। ফলে সেবারও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি খায়রুল হক।

খায়রুল হকের আইনজীবীর তথ্যমতে, পৃথক ছয় মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন করে অন্য মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৭ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন আদালত।

এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে এবং লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি) চায়। লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে গত ৯ আগস্ট আপিল বিভাগ আদেশ দেন। আপিল বিভাগের আদেশে এ-সংক্রান্ত রুল দ্রুত হাইকোর্টে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া খায়রুল হক দেশত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ তার ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।