ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কে হতে যাচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী দেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাগরিককে চড়-লাঠিপেটার ক্ষমতা নেই: আসক ইউরোপে ফের তীব্র তাপপ্রবাহ, পুড়ছে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু, ক্লাস ১২ নভেম্বর বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দাপট, অস্ট্রেলিয়া সফরে স্বপ্নের সূচনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা বিএনপির জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড
সংবাদ শিরোনাম ::
কে হতে যাচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী দেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাগরিককে চড়-লাঠিপেটার ক্ষমতা নেই: আসক ইউরোপে ফের তীব্র তাপপ্রবাহ, পুড়ছে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু, ক্লাস ১২ নভেম্বর বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দাপট, অস্ট্রেলিয়া সফরে স্বপ্নের সূচনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা বিএনপির জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড

ইউরোপে ফের তীব্র তাপপ্রবাহ, পুড়ছে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউরোপ জুড়ে চলতি গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়েছে। গোটা মহাদেশে অন্তত সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ মুখোমুখি হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি তাপমাত্রার মুখে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা উঠেছে ৩৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ এবং দেশটির ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এদিকে একই সময়ে ফ্রান্সের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। আর গ্রিসে ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে উপকূলীয় এলাকা থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইউরোপ জুড়ে দেখা গেছে তাপপ্রবাহের এমন চিত্র। বলতে গেলে গোটা ইউরোপই গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে।

খবর বলছে, লন্ডনের কিউ গার্ডেনে ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বৃহস্পতিবারে। দিনটি যুক্তরাজ্যের এ বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো দেশটিতে ৩৮ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রা ওঠার ঘটনা ঘটল— এমনটি এর আগে কেবল ২০২২ সালে এক বছরে দুবার ঘটেছিল।

ইউরোপে গ্রীষ্মের খরতাপে পথে বেরোলেই হাতে থাকছে পাখা। লন্ডনের ওয়াটারলু ব্রিজে। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে পাশের পারশোরে তাপমাত্রাও ৩৮ ডিগ্রিতে পৌঁছায় এবং মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের অন্তত ৪০টি স্থানে ৩৬ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। চলতি বছর ইংল্যান্ডে ৩৫ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রার নবম দিনও ছিল বৃহস্পতিবার, যা এ ধরনের দিনের নতুন বার্ষিক রেকর্ড।

তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ডের আরও বিস্তৃত এলাকায় অ্যাম্বার হিট সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও জরুরি সেবায় চাপ বাড়ার পাশাপাশি খরার পরিস্থিতিও আরও গুরুতর হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা স্যার ডেভিড কিং সতর্ক করে বলেছেন, এবারের ‘ভয়াবহ’ গরম ভবিষ্যতে ইউরোপকে যে ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তার কেবল শুরু।

ফ্রান্সেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। লিও, নঁত, তুলুজ ও ল্য মঁতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে, প্যারিসে ছিল প্রায় ৩৭ ডিগ্রি। পশ্চিমাঞ্চলের দুটি শহরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির বর্তমান তাপপ্রবাহ এরই মধ্যে ইতিহাসের তৃতীয় দীর্ঘতম— ১৭ দিন ধরে চলা এই দাবদাহের অবসান অবশ্য সপ্তাহান্তে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মেতেও-ফ্রঁস।

জুনে ফ্রান্সে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পর দেশটি এবার আবারও তীব্র গরমের মুখে। সাম্প্রতিক দাবানলের পর ফরাসি অগ্নিনির্বাপকদের ইউনিয়নগুলোও জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে সরকারের কাছে আরও সহায়তা দাবি করেছে।

গ্রিসে তাপের সঙ্গে লড়াইয়ে দাবানল

তীব্র গরমের পাশাপাশি গ্রিসে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতির ঝোড়ো বাতাস। উত্তরাঞ্চলের হালকিডিকিতে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে বাড়িঘর ও বনাঞ্চলের দিকে। আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে সিভিরির সমুদ্রসৈকত থেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের সরিয়ে নিতে ১৫টি নৌকা ব্যবহার করা হয়। শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বন কমান্ডো ও পানি ছিটানো বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

গ্রিসের পেলোপনিসসহ আরও কয়েকটি এলাকাতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বিশাল অংশে ‘রেড কোড’ বা সর্বোচ্চ অগ্নিঝুঁকি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি কেবল আবহাওয়ার একটি সাময়িক চরম ঘটনা নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা অঞ্চল এবং গত চার বছরে তাপের কারণে সেখানে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। চলতি গ্রীষ্মেই পাঁচটি দেশের হিসাবে প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

ফলে ইউরোপের এবারের গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানল এখন আর বিচ্ছিন্ন সংকট নয়— পরস্পরকে আরও তীব্র করে তোলা এক বৃহত্তর জলবায়ু-ঝুঁকির চিত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইউরোপে ফের তীব্র তাপপ্রবাহ, পুড়ছে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ইউরোপ জুড়ে চলতি গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়েছে। গোটা মহাদেশে অন্তত সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ মুখোমুখি হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি তাপমাত্রার মুখে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা উঠেছে ৩৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ এবং দেশটির ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এদিকে একই সময়ে ফ্রান্সের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। আর গ্রিসে ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে উপকূলীয় এলাকা থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইউরোপ জুড়ে দেখা গেছে তাপপ্রবাহের এমন চিত্র। বলতে গেলে গোটা ইউরোপই গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে।

খবর বলছে, লন্ডনের কিউ গার্ডেনে ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বৃহস্পতিবারে। দিনটি যুক্তরাজ্যের এ বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো দেশটিতে ৩৮ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রা ওঠার ঘটনা ঘটল— এমনটি এর আগে কেবল ২০২২ সালে এক বছরে দুবার ঘটেছিল।

ইউরোপে গ্রীষ্মের খরতাপে পথে বেরোলেই হাতে থাকছে পাখা। লন্ডনের ওয়াটারলু ব্রিজে। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে পাশের পারশোরে তাপমাত্রাও ৩৮ ডিগ্রিতে পৌঁছায় এবং মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের অন্তত ৪০টি স্থানে ৩৬ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। চলতি বছর ইংল্যান্ডে ৩৫ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রার নবম দিনও ছিল বৃহস্পতিবার, যা এ ধরনের দিনের নতুন বার্ষিক রেকর্ড।

তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ডের আরও বিস্তৃত এলাকায় অ্যাম্বার হিট সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও জরুরি সেবায় চাপ বাড়ার পাশাপাশি খরার পরিস্থিতিও আরও গুরুতর হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা স্যার ডেভিড কিং সতর্ক করে বলেছেন, এবারের ‘ভয়াবহ’ গরম ভবিষ্যতে ইউরোপকে যে ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তার কেবল শুরু।

ফ্রান্সেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। লিও, নঁত, তুলুজ ও ল্য মঁতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে, প্যারিসে ছিল প্রায় ৩৭ ডিগ্রি। পশ্চিমাঞ্চলের দুটি শহরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির বর্তমান তাপপ্রবাহ এরই মধ্যে ইতিহাসের তৃতীয় দীর্ঘতম— ১৭ দিন ধরে চলা এই দাবদাহের অবসান অবশ্য সপ্তাহান্তে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মেতেও-ফ্রঁস।

জুনে ফ্রান্সে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পর দেশটি এবার আবারও তীব্র গরমের মুখে। সাম্প্রতিক দাবানলের পর ফরাসি অগ্নিনির্বাপকদের ইউনিয়নগুলোও জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে সরকারের কাছে আরও সহায়তা দাবি করেছে।

গ্রিসে তাপের সঙ্গে লড়াইয়ে দাবানল

তীব্র গরমের পাশাপাশি গ্রিসে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতির ঝোড়ো বাতাস। উত্তরাঞ্চলের হালকিডিকিতে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে বাড়িঘর ও বনাঞ্চলের দিকে। আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে সিভিরির সমুদ্রসৈকত থেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের সরিয়ে নিতে ১৫টি নৌকা ব্যবহার করা হয়। শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বন কমান্ডো ও পানি ছিটানো বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

গ্রিসের পেলোপনিসসহ আরও কয়েকটি এলাকাতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বিশাল অংশে ‘রেড কোড’ বা সর্বোচ্চ অগ্নিঝুঁকি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি কেবল আবহাওয়ার একটি সাময়িক চরম ঘটনা নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা অঞ্চল এবং গত চার বছরে তাপের কারণে সেখানে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। চলতি গ্রীষ্মেই পাঁচটি দেশের হিসাবে প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

ফলে ইউরোপের এবারের গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানল এখন আর বিচ্ছিন্ন সংকট নয়— পরস্পরকে আরও তীব্র করে তোলা এক বৃহত্তর জলবায়ু-ঝুঁকির চিত্র।