বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দাপট, অস্ট্রেলিয়া সফরে স্বপ্নের সূচনা বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ১১:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনটা স্বপ্নের মতো কাটল বাংলাদেশ দলের। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ। দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলেছে নাজমুল হোসেনের দল। মুমিনুল হক ৩৫ ও তানজিদ হাসান ৩২ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থেকে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের এই সুবিধাজনক অবস্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান পেসারদের। অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের সব ১০ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার। নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের অনুপস্থিতি বুঝতেই দেননি হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন।
হাসান মাহমুদ ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলার হিসেবে এক ইনিংসে অন্তত পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েছেন হাসান। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন ইবাদত ও তাসকিন— দুজনই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে স্টিভেন স্মিথ ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান ২৫ রানও করতে পারেননি। স্মিথের ৭১ রানের ইনিংসই মূলত অস্ট্রেলিয়ার স্কোরকে দুই শ পার করিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
টস হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। টসের সময় বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বলেছিলেন, এখানে থাকতে পেরে তিনি ভীষণ গর্বিত এবং খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন। কামিন্সও জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।
নতুন বলে বাংলাদেশের আক্রমণ শুরু করেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। প্রথম ওভারে তাসকিন দেন ৫ রান। ট্রাভিস হেডকে একবার পায়ের ওপর দিয়ে পরাস্তও করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ধারাভাষ্যে তাসকিনের ওভারের প্রশংসা করেন। হাসানও দ্বিতীয় ওভারে জেক ওয়েদারাল্ডকে পরাস্ত করে জানান দেন, উইকেটের ঘাসের সুবিধা কাজে লাগাতে প্রস্তুত বাংলাদেশের পেসাররা।
মারারা স্টেডিয়ামের উইকেটে ঘাস ছিল। খেলা শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্রাভিস হেডও উইকেট দেখে বলেছিলেন, এটি বেশ শক্ত এবং ঘাসও রয়েছে। হাসানের তৃতীয় ওভারেই সেই ঘাসের প্রভাব স্পষ্ট হয়। বল কিছুটা উঠছিল, পাশাপাশি সুইংও করছিল। হেডের ব্যাটের কানায় লেগে একটি ক্যাচ উঠলেও সেটি নিরাপদ জায়গায় পড়ে। ওয়েদারাল্ডের বিপক্ষে হাসানের আরেকটি বল ছিল দুর্দান্ত— ভালো লেংথ থেকে ছোবল মেরে ভেতরে ঢুকে তার ব্যাটকে পরাস্ত করে।
অষ্টম ওভারে ওয়েদারাল্ডকে আবারও অস্বস্তিতে ফেলেন হাসান। তবে শেষ বলে হাফ ভলি পেয়ে চার মেরে ফেলেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার। এরপর নবম ওভারে আক্রমণে আসেন ইবাদত হোসেন। ট্রাভিস হেডকে দুবার দারুণ ডেলিভারিতে পরাস্ত করেন তিনি। পঞ্চম বলে এলবিডব্লুর আবেদন করে রিভিউ নিয়েছিল বাংলাদেশ, তবে সফল হয়নি। মেডেন দিয়ে শুরু করেন ইবাদত।
হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের পুরস্কার আসে ১২তম ওভারে। অফ স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভের লোভ দেখানো কয়েকটি বলের পর সেই একই জায়গায় বল করেন তিনি। ওয়েদারাল্ড ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ভুল করেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। ২৩ রানে ফেরেন ওয়েদারাল্ড। অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ৪৫।
এরপর ট্রাভিস হেডও বেশি সময় টিকতে পারেননি। ১৪তম ওভারের চতুর্থ বলে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা হাসানের ভালো লেংথের বল ভেতরে ঢুকে হেডের ব্যাটে লাগে এবং স্টাম্পের বেলস ফেলে দেয়। ২২ রান করে ফেরেন হেড। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন স্টিভেন স্মিথ।
অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় উইকেটও আসে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ধারাবাহিকতায়। ১৯তম ওভারে ইবাদতের করা বল মারনাস লাবুশেন ছেড়ে দিলেই পারতেন। কিন্তু অভ্যাসবশত ব্যাট চালিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১ রান করে ফেরেন লাবুশেন। ইবাদত উইকেটটি নিয়ে স্যালুট দিয়ে উদ্যাপন করেন। ধারাভাষ্যকার ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার মার্ক ওয়াহ মন্তব্য করেন, ‘নাথিং শট… বাংলাদেশ আর অন টপ হেয়ার!’
এর আগে অবশ্য স্মিথের উইকেট পাওয়ার সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। ইবাদতের ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তৃতীয় স্লিপে স্মিথের ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ হাসান। তখন স্মিথের রান ছিল মাত্র ২। নিচু হয়ে আসা ক্যাচটি নেওয়া সম্ভব ছিল। পরে সেই সুযোগের মূল্যও দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
১১.৪ ওভার থেকে ১৮.২ ওভার পর্যন্ত মাত্র ৪০ বলের মধ্যে ১৬ রান দিয়ে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ২২তম ওভারের শেষ বলে তাসকিন আহমেদের বলে ক্যামেরন গ্রিনও ফেরেন। অন সাইডে ওপরে খেলতে গিয়ে শর্ট মিডউইকেটে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন গ্রিন। ১৩ রান করেন তিনি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেট।
প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার চার উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ২২ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৭৪। তাসকিন ৮ ওভারে ২৬ রানে ১ উইকেট, হাসান ৭ ওভারে ২৫ রানে ২ উইকেট এবং ইবাদত ৭ ওভারে ১৭ রানে ১ উইকেট নেন। ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো জুটি বড় হয়নি। প্রথম সেশনটি ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের।
স্মিথ-ক্যারির জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
মধ্যাহ্নভোজের পর অস্ট্রেলিয়া দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করে। স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারির জুটি বাংলাদেশকে কিছুটা চাপে ফেলে। ডানহাতি-বাঁহাতি এই জুটির কারণে বাংলাদেশের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে একই জায়গায় বল করতে পারছিলেন না। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ১২ ওভারে ৫২ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া।
তবে ইবাদত হোসেন শেষ পর্যন্ত ক্যারির দুর্বলতা কাজে লাগান। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়া বলটি কিছুটা ভেতরে ঢুকে যায়। কাভারের দিকে পাঞ্চ করতে গিয়ে ক্যারি ব্যাটের ভেতরের কানায় বল লাগিয়ে স্টাম্পে পাঠান। বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। আগেও একই চ্যানেলের বলে অস্বস্তিতে দেখা গিয়েছিল ক্যারিকে। তার ইনিংস থামে ১৯ রানে।
এরপর বো ওয়েবস্টারের সঙ্গে স্মিথের জুটি থেকে আসে ১৫ বলে ২৩ রান। তবে তাসকিন আহমেদ দারুণ এক ডেলিভারিতে ওয়েবস্টারকে বোল্ড করে দেন। অফ স্টাম্পের বাইরে ব্যাক অব লেংথের আদর্শ টেস্ট বলটিতে ভুল লাইনে ব্যাট চালিয়েছিলেন ওয়েবস্টার। এটি ছিল ম্যাচে তাসকিনের দ্বিতীয় উইকেট। এর আগে তিনি ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়েছিলেন।
ওয়েবস্টার ফেরার পর ফিফটি পূর্ণ করেন স্মিথ। টেস্টে এটি তার ৪৫তম ফিফটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে এখনো সেঞ্চুরি নেই স্মিথের। একসময় ২ রানে জীবন পাওয়া এই ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত ৭১ রান করেন।
এরপর বাকি কাজটা করেন হাসান মাহমুদ। প্যাট কামিন্সকে অফ স্টাম্পের বাইরে ব্যাক অব লেংথের বল করেছিলেন তিনি। বলটি বাইরে সিম করে বেরিয়ে গেলে কামিন্স ব্যাট চালান এবং লিটন দাসের হাতে সহজ ক্যাচ দেন। এটি ছিল ম্যাচে হাসানের তৃতীয় উইকেট।
এরপর মিচেল স্টার্কও হাসানের শিকার হন। অফ স্টাম্পের বাইরে গুড লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন স্টার্ক। ম্যাচে এটি হাসানের চতুর্থ উইকেট।
হাসানের পঞ্চম উইকেট আসে স্টিভেন স্মিথকে ফিরিয়ে। ৫১তম ওভারের পঞ্চম বলে এগিয়ে এসে হাসানকে মারতে চেয়েছিলেন স্মিথ। কিন্তু ক্যাচ তুলে দেন। ৭১ রানে ফেরেন তিনি। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে হাসান ৫ উইকেট পূর্ণ করেন। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে প্রতিপক্ষের মাটিতে টেস্টে এটি তার তৃতীয় পাঁচ উইকেটের ইনিংস।
শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে হাসান মাহমুদ ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন। টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের তৃতীয় সেরা বোলিং এটি। তাসকিন ও ইবাদত নেন দুটি করে উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার রান আরও কম হতে পারত। দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেসারদের মতো কার্যকর হতে পারেননি। ফিল্ডিংয়েও ছিল কিছুটা গড়পড়তা মান। তাসকিনের বলে অযথা থ্রো করে চার দেন তাইজুল। এর আগে স্লিপে স্মিথের ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ। মিরাজও স্লিপে ফিল্ডিং মিস করে বাউন্ডারি দেন। তবু তিন পেসারের দাপটে ডারউইন টেস্টে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের
১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বমানের দুই পেসারকে সামলে শুরুতে সাবলীল ছিলেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান। ৭ ওভারে ২৭ রান তোলেন দুজন। সাদমান ছিলেন ১৬ এবং তানজিদ ৫ রানে অপরাজিত।
তানজিদ অবশ্য শুরুতেই জীবন পান। টি-টোয়েন্টি স্টাইলে বড় শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ তুলেছিলেন তিনি। নাথান লায়ন ক্যাচটি নিতে পারেননি। পরে সেই জীবন কাজে লাগান তানজিদ।
সাদমান ৩০ বল খেলে নতুন বলের কঠিন সময় পার করার পর বড় ইনিংসের স্বপ্ন দেখছিলেন হয়তো। কিন্তু সেটি আর পূরণ হয়নি। স্টার্কের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২০ রানে ফেরেন তিনি। ৮.২ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৩৬।
সাদমান ফেরার পর ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক। এরপর তানজিদের সঙ্গে মিলে ইনিংস গুছিয়ে নেন তিনি। ১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৫৩। দুজনই সাবলীলভাবে ব্যাট করতে থাকেন।
২১তম ওভারের পঞ্চম বলে হ্যাজলউডকে দারুণ শটে চার মারেন তানজিদ। সেই সঙ্গে মুমিনুল-তানজিদের দ্বিতীয় উইকেট জুটি পঞ্চাশ ছুঁয়ে যায়। তখন মুমিনুল ৩৩ ও তানজিদ ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের খেলা শেষ হয় বাংলাদেশের ৯৬ রানে। মুমিনুল ৩৫ ও তানজিদ ৩২ রানে অপরাজিত। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৬০। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের শুরুটা তাই শুধু স্বস্তির নয়, আত্মবিশ্বাস জাগানোর মতোও। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থেকে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে
২০০৩ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও চারটি টেস্ট হয়েছে, তবে সেগুলোর সবকটিই হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরেই তাই এমন দারুণ পারফরম্যান্স বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
২০০৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার দুই ম্যাচের সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে নাজমুল হোসেনের দল। সেই ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই মূল সিরিজের প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ব্যাটিংয়ে ৯৬ রান তুলে দিন শেষ করা বাংলাদেশের জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের বিষয়।
বাংলাদেশ এই টেস্টে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নামে। একাদশে ছিলেন তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া একাদশে ছিলেন ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।
অস্ট্রেলিয়া দলে ছিল তিন বিশেষজ্ঞ পেসার, একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার এবং একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ম্যাচ শুরুর আগে সিরিজের ট্রফি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি। বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছেও পরিচিত এই সাবেক ক্রিকেটার ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। টেস্ট ইতিহাসে ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে সেটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। এ বছর সেই ইনিংসের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
মারারা স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচ হচ্ছে ২২ বছর পর। ফলে কন্ডিশন ও পিচের আচরণ অস্ট্রেলিয়া দলের কাছেও পুরোপুরি পরিচিত নয়। বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন টেস্টের পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের কণ্ঠেও ছিল বাংলাদেশ দলের প্রতি সমীহ। প্রথম দিনের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যয়েরই প্রতিফলন দেখা গেল।
প্রথম দিনের শেষে তাই বলতেই হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই স্বপ্নের। পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের দুই শ রানের নিচে আটকে দেওয়ার পর মুমিনুল ও তানজিদের ব্যাটে পাওয়া ৯৬ রান দ্বিতীয় দিন শুরুর আগে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে দারুণ এক অবস্থান। এখন সেই সুবিধাকে বড় লিডে রূপ দেওয়ার পালা।



















