রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রয়োজনে আগস্টে বিশেষ সংসদ অধিবেশন, জানালেন আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার প্রয়োজন মনে করলে আগামী আগস্টেই জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার প্রয়োজন মনে করলে আগামী আগস্টেই জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ অধিবেশন নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সংবিধানে আছে রাষ্ট্রপতি যেদিন পদত্যাগ করবেন, তার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। প্রশ্ন এসেছিল— আমরা বিশেষ অধিবেশন ডাকব কি না।’
‘৯০ দিন যেহেতু সময় আছে এবং আমাদের পরবর্তী নিয়মিত অধিবেশন ৬০ দিনের মধ্যে— এই দুটি সময় ব্যাপ্তির মিল থাকায় বিশেষ অধিবেশনের আপাতত প্রয়োজন দেখছি না। তবে সরকার যদি জরুরি মনে করে, তবে নিশ্চয়ই বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে,’— বলেন আইনমন্ত্রী।
এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি।
নতুন রাষ্ট্রপতি: জুলাই অভ্যুত্থান প্রজন্মের প্রত্যাশা
গত শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন তার একান্ত সচিব। সংবিধান অনুযায়ী এর মাধ্যমে তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর এক বছর ৯ মাস মেয়াদ বাকি থাকতেই মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্বের অবসান ঘটে।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান বলছে, এবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে এ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ হয়নি: সিইসি
রাষ্ট্রপতি পদের এ নির্বাচনটি পরোক্ষ নির্বাচন, যেখানে সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। বাস্তবতা বলছে, বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে থকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হবেন।
এদিকে গত ১৫ জুলাই শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বিএনপি সরকারের এবারের মেয়াদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশনের পর আরেকটি অধিবেশনের সর্বোচ্চ দূরত্ব হতে পারে ৬০ দিন। সে হিসাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন অধিবেশন আয়োজন করতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনকে বঙ্গভবনে ‘গার্ড অব অনার’
হিসাব বলছে, নিয়মিত বিরতির মধ্যেই সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আয়োজন করা হলে তা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে না। তবে বিএনপি যদি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি পদে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের জায়গায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে দ্রুতই দায়িত্বে বসাতে চায়, তাহলে আগস্টেই বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে পারে সরকারি দলটি।
এর আগে ২০০২ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তৎকালীন স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার। সেবার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত জমিরউদ্দিন সরকারকে ৭৮ দিন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল।



















