শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াই কেন অনশন ভাঙলেন, জানালেন সোনম ওয়াংচুক
- আপডেট সময় : ০৭:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যেন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়— এটিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। আর সে কারণেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াই ২৬ দিনের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর অনশন ভাঙেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দেয় যে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন মমতা
শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে ছিলেন ওয়াংচুক। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের জবাবদিহি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক সংগঠন সিজেপির সদস্যদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি এই অনশন শুরু করেছিলেন।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত না করেই অনশন ভাঙায় সমালোচনার মুখে পড়েন ওয়াংচুক।
শুক্রবার গভীর রাতে ইউটিউবে প্রকাশিত ২৪ মিনিটের এক ভিডিওতে হাসপাতালের শয্যা থেকে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় তিনি সেটিকে প্রধান দাবি করেননি, কারণ তার কাছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ ঠেকানোই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মোদির মন্ত্রিসভা থেকে রাভনীত সিং বিট্টুর পদত্যাগ
তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করাকে আমি নিজের জন্য অপরিহার্য মনে করিনি।’ ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য ‘তুচ্ছ’ একটি বিষয় হলেও পদত্যাগ না করায় সরকারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।
তার ভাষায়, ‘সারা দেশে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মানুষ ক্ষুব্ধ এবং ঘৃণায় ভরে উঠছে।’ তিনি জানান, আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টিও তুলেছিলেন। ওয়াংচুক বলেন, ‘তারা আরও সময় চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, এখনই এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না।’
তবে শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, কেন্দ্রীয় সরকার এভাবে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। আজ হোক বা কাল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র দিতেই হবে। যেহেতু এর ক্ষতি তাদেরই হচ্ছিল, তাই বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হবে বলে আমি মনে করেছি। সে কারণে এ নিয়ে আমি অতিরিক্ত চাপ দিইনি।’
ওয়াংচুক আরও বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল আইনি ব্যবস্থা ও এফআইআর। মন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করাই যে আমার ব্যক্তিগত দায়িত্ব, এমনটা আমি মনে করিনি।’ তবে তিনি বলেন, চলমান আন্দোলন এ দাবি আদায়ে চাপ অব্যাহত রাখবে।
ভারতে এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত, বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ
‘সমঝোতা’ করার অভিযোগ নিয়ে যা বললেন
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘সমঝোতা’ করেছেন— এমন অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা যেন সহিংসতা বা আইনি হয়রানির শিকার না হন।
তিনি বলেন, ‘গত রাতে মধ্যরাতের দিকে আমাকে জানানো হয়, মন্ত্রীরা লিখিত আশ্বাস দিতে রাজি হয়েছেন। তখন আমার খুব তাড়া ছিল। কারণ দিল্লির পরিস্থিতি এমন ছিল যে, বড় ধরনের দমন-পীড়নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সংবাদ দেখছিলাম আর ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের কথা মনে পড়ছিল, যখন পুলিশ ও সিআরপিএফ লাদাখের তরুণদের ওপর নির্মমভাবে গুলি চালিয়েছিল।’
ওয়াংচুক বলেন, ‘আমি আশঙ্কা করছিলাম, এখানেও তেমন কিছু ঘটতে পারে। তাই ভাবলাম, আমি যদি অনশন ভেঙে শান্তির আহ্বান জানাই, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হবে।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার জবাব দেন তিনি। ওয়াংচুক বলেন, যারা তার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা আন্দোলনস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা জানেন না।
তিনি বলেন, ‘যদি সমঝোতাই করতে হতো, তাহলে কি আমি ২৬ দিন অনশন করতাম? দিল্লির প্রচণ্ড গরমে অনশন না করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই তো সমঝোতা করা যেত।’
পদত্যাগ ‘বিবেচনায় নেই’, শিক্ষামন্ত্রীর ‘পাশেই রয়েছে’ মোদি সরকার
ওয়াংচুক জানান, গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তারা নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে সম্মত হন।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— এমন লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন।
ওয়াংচুকের ভাষায়, ‘প্রথমে তারা ক্ষতিপূরণ ও সংসদে আলোচনায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে না— এমন নিশ্চয়তা দিতে রাজি ছিল না। তারা শুধু মৌখিক আশ্বাস দিতে চেয়েছিল। আমি লিখিত আশ্বাসের ওপর অনড় ছিলাম এবং তারা রাজি না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান থেকে সরিনি।’
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য, ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য এবং লাদাখের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙার আশা করেছিলেন। কিন্তু তার দাবি, গভীর রাতে মন্ত্রীরা পৌঁছানোর আগে তাদের অনেককেই তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
ওয়াংচুক বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আমার সহযোদ্ধারা, শিক্ষার্থীরা এবং আমাকে সমর্থন জানাতে আসা সংসদ সদস্যরা অনশন ভাঙার সময় আমার পাশে থাকতে পারেননি।’



















