ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা চুক্তিতে নতুন দেশের অন্তর্ভুক্তি এখনই নয়: পাকিস্তান

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আপাতত নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে আগে নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও পাকিস্তানের অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তানের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা বলেন। তিনি জানান, তিন দেশের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক, পরামর্শ ও যোগাযোগ চলছে। তবে এই মুহূর্তে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণ বা নতুন সদস্য নেওয়ার কোনো আলোচনা নেই।

সাজ্জাদ হায়দার আরও বলেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরাপত্তাগত প্রয়োজন রয়েছে— এমন অন্য দেশগুলোর জন্য চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তিন দেশের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি সইয়ের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, এটি ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। সে সময় পাকিস্তান বলেছিল, একই ধরনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিতে আগ্রহী অন্য দেশগুলোর জন্যও ভবিষ্যতে চুক্তিটি উন্মুক্ত হতে পারে।

এরপর বাংলাদেশে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

২৬ আগস্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি আরব বাংলাদেশকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে তখনও কোনো নীতিগত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

পরদিন সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি।

এর বিপরীতে আগস্টের শেষ দিকে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছিলেন, মক্কা চুক্তি নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত এবং কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে তা বিবেচনা করা হবে। আজকের বক্তব্যে প্রতীয়মান, সেই সম্ভাবনা অন্তত আপাতত স্থগিত থাকছে।

সাজ্জাদ হায়দার খানের বক্তব্যে মক্কা চুক্তির সামরিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পর পাকিস্তান চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা করেছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে চুক্তির আওতায় পাকিস্তান পদক্ষেপ নেবে।

চুক্তির তিন সদস্যের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে যখন বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা তৈরি হচ্ছে, তখন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটি আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার বার্তাই দিলো ইসলামাবাদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মক্কা চুক্তিতে নতুন দেশের অন্তর্ভুক্তি এখনই নয়: পাকিস্তান

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আপাতত নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে আগে নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও পাকিস্তানের অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তানের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা বলেন। তিনি জানান, তিন দেশের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক, পরামর্শ ও যোগাযোগ চলছে। তবে এই মুহূর্তে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণ বা নতুন সদস্য নেওয়ার কোনো আলোচনা নেই।

সাজ্জাদ হায়দার আরও বলেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরাপত্তাগত প্রয়োজন রয়েছে— এমন অন্য দেশগুলোর জন্য চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তিন দেশের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি সইয়ের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, এটি ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। সে সময় পাকিস্তান বলেছিল, একই ধরনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিতে আগ্রহী অন্য দেশগুলোর জন্যও ভবিষ্যতে চুক্তিটি উন্মুক্ত হতে পারে।

এরপর বাংলাদেশে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

২৬ আগস্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি আরব বাংলাদেশকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে তখনও কোনো নীতিগত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

পরদিন সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি।

এর বিপরীতে আগস্টের শেষ দিকে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছিলেন, মক্কা চুক্তি নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত এবং কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে তা বিবেচনা করা হবে। আজকের বক্তব্যে প্রতীয়মান, সেই সম্ভাবনা অন্তত আপাতত স্থগিত থাকছে।

সাজ্জাদ হায়দার খানের বক্তব্যে মক্কা চুক্তির সামরিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পর পাকিস্তান চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা করেছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে চুক্তির আওতায় পাকিস্তান পদক্ষেপ নেবে।

চুক্তির তিন সদস্যের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে যখন বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা তৈরি হচ্ছে, তখন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটি আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার বার্তাই দিলো ইসলামাবাদ।