পাঠে বিশ্বসেরা সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা, গণিত-বিজ্ঞানে চীন
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়নে দাপট দেখিয়েছে এশিয়ার দেশগুলো। এ ক্ষেত্রে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ার দক্ষতায় (রিডিং) বিশ্বসেরা হয়েছে সিঙ্গাপুর। অন্যদিকে গণিত ও বিজ্ঞানে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীনের শিক্ষার্থীরা। তিন ক্ষেত্রেই বিশ্বের সেরা পারফর্মারদের তালিকায় রয়েছে এশিয়ার একাধিক দেশ।
সিঙ্গাপুরের গণমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, অরগানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সবশেষ ‘প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্টপ (পিসা) ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৯১টি দেশ ও অর্থনীতির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ তালিকায় নেই বাংলাদেশ।
পিসা ২০২৫-এর তিন প্রধান সূচকের মধ্যে রিডিং তথা পাঠে প্রথম হয়েছে সিঙ্গাপুর। ছয় হাজার ৫৫১ শিক্ষার্থী ১৫৭টি স্কুল থেকে এই মূল্যায়নে অংশ নেয়।
ওইসিডির শিক্ষা ও দক্ষতা বিভাগের পরিচালক আন্দ্রেয়াস শ্লেইখার সিঙ্গাপুরের রিডিং দক্ষতাকে দেশটির অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঠের দক্ষতা হলো সব দক্ষতার মা। আপনি যদি পড়তে না পারেন, অন্য কোনো ক্ষেত্রেই সফল হওয়া কঠিন।’
অন্যদিকে গণিত ও বিজ্ঞানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন। ফলে তিনটি প্রধান শিক্ষাক্ষেত্রের মধ্যে একটিতে সিঙ্গাপুর ও দুটিতে চীনের শিক্ষার্থীরা বিশ্বসেরা হয়েছে। এই দুটি দেশই অবশ্য তিনটি বিভাগেই সেরা দুইয়ে রয়েছে। অর্থাৎ পাঠে সিঙ্গাপুর বিশ্বসেরা হলেও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। অন্যদিকে গণিত ও বিজ্ঞানে চীন বিশ্বসেরা হলেও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর।
তালিকার শীর্ষ ১০-এ তিন ক্ষেত্রেই জায়গা করে নিয়েছে এস্তোনিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ম্যাকাও, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্য। রিডিংয়ে শীর্ষ দশের বাকি দুই দেশ আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড; গণিতে হংকং ও সুইজারল্যান্ড; এবং বিজ্ঞানে কানাডা ও নিউজিল্যান্ড।
এবারের পিসাতে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি সূচক— কম্পিউটেশনাল প্রবলেম-সলভিং। অর্থাৎ জটিল বাস্তব সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা, ডেটা ব্যবহার করা এবং প্রযুক্তি ও অ্যালগরিদমের সাহায্যে সমাধান বের করার সক্ষমতা। এ সূচকে প্রথম হয়েছে ম্যাকাও, দ্বিতীয় হয়েছে সিঙ্গাপুর।
এ পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মডেলিং ও প্রোগ্রামিং টুল ব্যবহার, পরীক্ষা পরিচালনা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন কম্পিউটেশনাল উপকরণ তৈরি ও ত্রুটি সংশোধনের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। যেমন— রোবটিক ক্ল ব্যবহার করে বিভিন্ন বস্তু আলাদা করার মতো বাস্তব সমস্যার সমাধানও করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
পিসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্পিউটার বিজ্ঞানকে শুধু ভবিষ্যতের সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় হিসেবে দেখাটা ভুল। এর বড় মূল্য হলো যুক্তিভিত্তিক চিন্তা, প্যাটার্ন শনাক্ত করা এবং জটিল সমস্যাকে সহজ অংশে ভেঙে সমাধান করার অভ্যাস তৈরি করা।
তবে শীর্ষ দেশগুলোর সাফল্যের পাশাপাশি পিসা ২০২৫ বিশ্ব শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক একটি চিত্রও তুলে ধরেছে। এবারের পরীক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত ও রিডিং— তিন ক্ষেত্রেই ওইসিডি দেশগুলোর গড় ফলাফল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিচে নেমেছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত এক দশকে বিজ্ঞানের স্কোর ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৮ সালের পর গণিতের ফলাফলেও বড় পতন দেখা গেছে। আর রিডিংয়ে সবচেয়ে বড় অবনতি হয়েছে— যেখানে ফলাফল ২০১২ সালের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা তথ্য যাচাই, একাধিক উৎসের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি এবং সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করার দক্ষতা কমছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ‘হ্যাস্টি রিডার’ তথা দ্রুত পড়ে ভুল উত্তর দেওয়া শিক্ষার্থীদের অনুপাতও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ফলাফলগুলো শিক্ষার্থীদের জটিল সমস্যা সমাধানে জ্ঞান প্রয়োগ এবং শেখার প্রতি আগ্রহের শক্তি তুলে ধরেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী কম্পিউটেশনাল প্রবলেম-সলভিংয়ে শীর্ষ পারফর্মার, যেখানে ওইসিডি দেশগুলোর গড় মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
তবে একই সঙ্গে পিছিয়ে থাকা এবং তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।


















