মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্ত চিন্ময় দাস
- আপডেট সময় : ১১:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হক পৌনে ৩টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণের প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মায়ের মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যে অংশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে মারা যান চিন্ময় কৃষ্ণের মা শ্রীমতী সন্ধ্যা রাণী ধর। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ হৃদরোগ, ফুসফুসে সংক্রমণ, নিম্ন রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সন্ধ্যা রাণী ধর। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে পুণ্ডরীক ধামে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
মায়ের মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যে অংশ নিতে চিন্ময় কৃষ্ণকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন তার ভাই রঞ্জন কুমার ধর। চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে করা ওই আবেদনে বলা হয়, সন্ধ্যা রাণী ধর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা গেছেন। মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্যে কারাগারে আটক ছেলের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, মায়ের জীবনের শেষ সময়ে পাশে থাকতে না পারার পর অন্তত শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ চিন্ময় কৃষ্ণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টির মানবিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি অথবা নিরাপত্তাসহ শেষকৃত্যে উপস্থিতির অনুমতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। এর সঙ্গে মৃত্যু সনদ ও আবেদনকারীর পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেওয়া হয়।
পুণ্ডরীক ধাম সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে সেখানেই সন্ধ্যা রাণী ধরের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিন্ময় কৃষ্ণের পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। ধর্মীয় দীক্ষা নেওয়ার পর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নাম গ্রহণ করেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
ওই বছরের অক্টোবরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ সময় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে তার সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় কৃষ্ণকে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা কয়েকটি মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করেন। পরে সাধারণ আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীরা তাদের ধাওয়া করেন। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনায় আইনজীবী আলিফের বাবার করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণের নাম না থাকলেও পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে প্রধান আসামি করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। হাইকোর্ট থেকে চারটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।


















