রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা বিএনপির
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জা ফখরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে এ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এ সময় ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
‘ঘোষণা ও বিবৃতিসহ’ বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সই, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, সই সম্বলিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন ভবনে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান; দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ প্রতিনিধি দল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানেই বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল।
বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। দুটি মনোনয়নপত্রই জমা দেওয়া হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলামের নামে। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারীর নাম দেওয়া হয়েছে বিএনপির নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান। সমর্থনকারী হলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ অগাস্ট তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার বিরোধী জামায়াত জোট এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে প্রার্থী করায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে।



















