জল্পনার অবসান, মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছে বিএনপি। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলামকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন তারেক রহমান। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠক চলাকালেই দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ পদে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।’
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল কেন সবার পছন্দ?
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
এর আগে গত ১ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্বভার পেয়ে দলের চেয়ারম্যান এ কয়েকদিন ফোনে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নিয়েছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে তিনি ইতোমধ্যে প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছেন।
আজ বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মির্জা ফখরুলকেই প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করল বিএনপি। এ বৈঠক শুরুর আগে সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রবেশ করেন।
বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘দলের তরফ থেকে দুটি ফরম আমরা সংগ্রহ করেছি, সেগুলো নিয়ে এসেছি। আজকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এসেছেন। মাননীয় চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক রয়েছে বেলা ১২টায়। এখান থেকে আমরা মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাব।’
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার বিরোধী জামায়াত জোট এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে।
গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ অগাস্ট তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ২০ আগস্ট
সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।



















