ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দাপট, অস্ট্রেলিয়া সফরে স্বপ্নের সূচনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা বিএনপির জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিলো জামায়াত জোট নির্বাচনের আগে তরুণ ভোটারদের নিয়ে চাপে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়ে মন্ত্রিত্ব ও দলের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০০ হাসানের গতির ঝড়ে ১৯৮ রানেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া জল্পনার অবসান, মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট
সংবাদ শিরোনাম ::
বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দাপট, অস্ট্রেলিয়া সফরে স্বপ্নের সূচনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা বিএনপির জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিলো জামায়াত জোট নির্বাচনের আগে তরুণ ভোটারদের নিয়ে চাপে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়ে মন্ত্রিত্ব ও দলের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০০ হাসানের গতির ঝড়ে ১৯৮ রানেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া জল্পনার অবসান, মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

ম্যানেজিং কমিটিই হাতেই ফিরছে শিক্ষক নিয়োগ

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বেসরকারি স্কুল-কলেজে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিই শিক্ষক নিয়োগ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে এখনকার মতো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না।

২০০৫ সালে এনটিআরসিএর যাত্রা শুরু। ওই সময় তারা কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে সংস্থাটি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ দিতে শুরু করে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটি এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এনটিআরসিএর সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি চালু হওয়ায় নিয়োগে ঘুস বা তদবিরের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এবার এনটিআরসিএর সে সুপারিশ পদ্ধতি বাতিল হয়ে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরে গেলে শিক্ষক নিয়োগে ফের ঘুস, তদবির ও নিয়োগ বাণিজ্য ফিরে আসতে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সেই আশঙ্কা ফিরে এসেছে মূলত গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্তের সূত্র ধরে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান তার সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী এনটিআরসিএ যে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে আসছে গত ১১ বছর ধরে, সে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এনটিআরসিএ কেবল ২০০৫ সালের মূল আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। এ বিষয়ে কোনো ‘অপতথ্য’ প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এনটিআরসিএ ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত। এর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সভা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ও সভার কার্যবিবরণী নথি বলছে ভিন্ন কথা। ওই সূত্রটি জানায়, সভায় শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ শুরু করার পর থেকে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। এনটিআরসিএতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে এনটিআরসিএ তাদের মূল কাজ তথা শিক্ষকদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়নে ফিরে যাবে। আর তাদের প্রত্যয়নপত্রধারী শিক্ষকদের বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি।

শিক্ষামন্ত্রী সভায় বলেন, এই প্রক্রিয়ায় ফিরে গেলে বর্তমানে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান পাওয়া সম্ভব। সভার উপস্থিতিও শিক্ষামন্ত্রীর এমন ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।

এর আগের ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনেরও তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন বা জারি করতে হবে— এমন সিদ্ধান্তও হয়েছে সভায়। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যসহ ওই সভার সিদ্ধান্তগুলো সভার কার্যবিবরণীর নথিতেও সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ম্যানেজিং কমিটিই হাতেই ফিরছে শিক্ষক নিয়োগ

আপডেট সময় : ১০:৫০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বেসরকারি স্কুল-কলেজে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিই শিক্ষক নিয়োগ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে এখনকার মতো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না।

২০০৫ সালে এনটিআরসিএর যাত্রা শুরু। ওই সময় তারা কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে সংস্থাটি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ দিতে শুরু করে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটি এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এনটিআরসিএর সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি চালু হওয়ায় নিয়োগে ঘুস বা তদবিরের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এবার এনটিআরসিএর সে সুপারিশ পদ্ধতি বাতিল হয়ে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরে গেলে শিক্ষক নিয়োগে ফের ঘুস, তদবির ও নিয়োগ বাণিজ্য ফিরে আসতে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সেই আশঙ্কা ফিরে এসেছে মূলত গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্তের সূত্র ধরে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান তার সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী এনটিআরসিএ যে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে আসছে গত ১১ বছর ধরে, সে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এনটিআরসিএ কেবল ২০০৫ সালের মূল আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। এ বিষয়ে কোনো ‘অপতথ্য’ প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এনটিআরসিএ ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত। এর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সভা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ও সভার কার্যবিবরণী নথি বলছে ভিন্ন কথা। ওই সূত্রটি জানায়, সভায় শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ শুরু করার পর থেকে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। এনটিআরসিএতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে এনটিআরসিএ তাদের মূল কাজ তথা শিক্ষকদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়নে ফিরে যাবে। আর তাদের প্রত্যয়নপত্রধারী শিক্ষকদের বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি।

শিক্ষামন্ত্রী সভায় বলেন, এই প্রক্রিয়ায় ফিরে গেলে বর্তমানে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান পাওয়া সম্ভব। সভার উপস্থিতিও শিক্ষামন্ত্রীর এমন ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।

এর আগের ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনেরও তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন বা জারি করতে হবে— এমন সিদ্ধান্তও হয়েছে সভায়। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যসহ ওই সভার সিদ্ধান্তগুলো সভার কার্যবিবরণীর নথিতেও সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ রয়েছে।