কলকাতা নিউমার্কেট এলাকার ১১ হোটেল বন্ধ, ১৭টিকে শোকজ
- আপডেট সময় : ০৬:২২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। ওই হোটেলটি যেখানে অবস্থিত, সেই নিউমার্কেট এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস। অভিযানে ১১টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস আরও ১৭টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, যার জবাব দিতে সময় দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টা। জবাব সন্তোষজনক না হলে এসব হোটেলও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
কলকাতার সংবাদপত্র আনন্দবাজার অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউমার্কেট এলাকায় ওই যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সহায়তা করতে পুলিশও সঙ্গে ছিল। অভিযানে ২৩ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিটের সাতটি ও ২৫ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিটের তিনটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় হোটেল পরিদর্শন করে যেগুলোকেই অনুপযোগী পাওয়া গেছে, সেগুলো তৎক্ষণাৎ নোটিশ সেঁটে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অবস্থানরতদের বের করে দেওয়া হয়েছে কোথাও কোথাও। অবিলম্বে হোটেল খালিও করতে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। আবাসিকদের সরিয়ে হোটেল পুরোপুরি খালি করার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে প্রশাসন।
কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ এ অভিযান সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকার প্রায় কোনো হোটেলেই নিয়ম মানা হয়নি। লাইসেন্স ছাড়া হোটেল চালানো হচ্ছিল।
সূত্রের খবর, এর আগে বৃহস্পতিবার এসব হোটেলের মালিকদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। তার সন্তোষজনক জবাব না পেলে শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় অভিযান।
তেমনই এক হোটেলের রিসেপশনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী আনন্দবাজারকে বলেন, আমাদের এখানে নোটিশ লাগিয়ে দিয়ে গেছে। বলেছে, খালি করতে হবে। আমাদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে। তবে ফায়ার অ্যালার্ম নেই। আগুন নেভানোর আর কোনো ব্যবস্থাও নেই। তবে আমাদের ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে, সেটি ২০২৪ সালের পর আর রিনিউ করা হয়নি। এখন এখানে পাঁচ-ছয়জন আবাসিক রয়েছেন। খালি করে দেবো।
বাংলাদেশ থেকে কলকাতা সফরে গেছেন ফাহিমসহ কয়েকজন। শুক্রবার দুপুরে তারা কলকাতায় পৌঁছান। তারা যে হোটেল বুক করে রেখেছিলেন, সেটিও অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হোটেলে পৌঁছে তারা জানতে পারেন সে কথা।
ফাহিম বলেন, বাংলাদেশ থেকে এই মাত্র এসেছি। কলকাতায় ঘুরতে এসেছি। এখানে উঠেছিলাম। চলে যেতে বলল। বুকিং করা ছিল আগে থেকেই। এখন দেখি কোথায় যাওয়া যায়, কী পাওয়া যায়।
নিউমার্কেট এলাকার যেসব হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, অধিকাংশের বিরুদ্ধেই লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার অভিযোগ রয়েছে। ছোটখাটো আগুন নেভানোর ব্যবস্থা এই হোটেলগুলোতে রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেই, যা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সময় কাজে লাগবে। কোথাও পানির পাম্প খারাপ, কোথাও পাইপ নেই। পানির লাইন থাকলেও তা ব্যবহারযোগ্য নয়।
এদিকে নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি হোটেলকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এসব হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
এর আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটে শিখ ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার একই সড়কের ৯টি গেস্ট হাউজ ও চারটি রেস্তোরাঁকে শোকজ করা হয়। শুক্রবার সে তালিকায় যুক্ত হলো আরও ১৭টি হোটেলের নাম। এর মধ্যে মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেল রয়েছে ১০টি, পাঁচটি মির্জা গালিব স্ট্রিটের। বাকি দুটি হোটেল এসএন ব্যানার্জি ও তপসিয়া রোডে অবস্থিত।
শিখা ইন হোটেলের ওই অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে ওই হোটেলের রিসেপশনে আগুন লাগে। সেখান থেকে ঘরগুলোতে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। হোটেলে ঢোকা ও হোটেল থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তা ছিল ওই রিসেপশনেরই পাশে। ফলে হোটেলে থাকা অতিথিদের কেউ বের হতে পারেননা।
পরে শিখা ইন পরিদর্শনের পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সেখানে মাত্র ১১০০ বর্গফুট জায়গায় পাঁচটি ঘর ও প্রতিটির সঙ্গে লাগোয়া বাথরুম তৈরি করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। হোটেলটি মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কাছ থেকে লিজ নিয়ে পরিচালনা করছিলেন আবু জাফর। তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মালিক বীরেশ্বর এখনো পলাতক।



















