ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্নগ্রাফির মামলায় ‘বয়ফ্রেন্ড’সহ গ্রেপ্তার ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া, আসামি বাবাও

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদকে (২৫) ও তার সহযোগী ‘বয়ফ্রেন্ড’ খাজা সাকলাইন ফারুককে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।

মেয়ের এই ‘অনৈতিক’ কার্যক্রম সম্পর্কে জেনেও তাতে সম্মতি দেওয়া এবং এ ধরনের কনটেন্ট থেকে পাওয়া অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও এ মামলার আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গত ১১ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সুমাইয়াকে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় খাজা সাকলাইন ফারুককে।

সুমাইয়া ও ফারুকের কাছ থেকে থেকে তিনটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, এসব ডিভাইসগুলো বিশ্লেষণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেছে।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, একটি চক্র পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ও ছবি তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলে অর্থের বিনিময়ে এসব কনটেন্ট বিক্রি করত। বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত।

এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

ডিবি জানিয়েছে, এ অপরাধে জড়িতদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক লেনদেন ও সহযোগীদের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য উদ্ঘাটনে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পর্নগ্রাফির মামলায় ‘বয়ফ্রেন্ড’সহ গ্রেপ্তার ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া, আসামি বাবাও

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদকে (২৫) ও তার সহযোগী ‘বয়ফ্রেন্ড’ খাজা সাকলাইন ফারুককে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।

মেয়ের এই ‘অনৈতিক’ কার্যক্রম সম্পর্কে জেনেও তাতে সম্মতি দেওয়া এবং এ ধরনের কনটেন্ট থেকে পাওয়া অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও এ মামলার আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গত ১১ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সুমাইয়াকে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় খাজা সাকলাইন ফারুককে।

সুমাইয়া ও ফারুকের কাছ থেকে থেকে তিনটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, এসব ডিভাইসগুলো বিশ্লেষণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেছে।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, একটি চক্র পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ও ছবি তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলে অর্থের বিনিময়ে এসব কনটেন্ট বিক্রি করত। বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত।

এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

ডিবি জানিয়েছে, এ অপরাধে জড়িতদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক লেনদেন ও সহযোগীদের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য উদ্ঘাটনে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।