৭০ অনুচ্ছেদ বহাল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রিট খারিজ
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আসন শূন্য হওয়ার বিধান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকছে এবং নির্ধারিত সময়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি সরাসরি খারিজের আদেশ দেন। এর আগে সোমবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আজ আদেশের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আদালত রিটটি সরাসরি খারিজ করেছেন। এর ফলে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকছে এবং আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনেও কোনো আইনি বাধা থাকল না। সংবিধান সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টি জাতীয় সংসদকে দেখার কথা জানিয়েছেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গত ১৩ আগস্ট রিটটি করেন। শুনানিতেও তিনি নিজেই আবেদনকারীর পক্ষে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর সঙ্গে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।
এর আগে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ওই তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে নিজের দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে। তবে এ কারণে ভবিষ্যতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অযোগ্যতা তৈরি হবে না।
রিটে মূলত এই অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই সঙ্গে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের জারি করা তফসিলও চ্যালেঞ্জ করা হয়।
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ৭০ অনুচ্ছেদকে কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছিল।
৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে এর আগেও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইউনুছ আলী আকন্দ। ২০১৮ সালের ওই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত আদেশ দেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল জারি করলেও অপর বিচারপতি রিটটি খারিজ করেন। পরে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তৃতীয় একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। ওই বছরের ১৮ মার্চ একক বেঞ্চও রিটটি খারিজ করে দেন।




















