দেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের তথ্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার
- আপডেট সময় : ০৪:১২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের দেওয়া পরিসংখ্যান সঠিক নয়; জাতিসংঘের নিবন্ধিত তথ্যই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে গ্রহণযোগ্য।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোয়ের বৈঠকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রেস বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে তৌফিক-উর-রহমান বলেন, সেখানে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এবং অন্যান্য কয়েকটি বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা জানতে জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত তথ্য বিবেচনা করার কথা বলেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয়ভাবে সম্মত চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গাদের যাচাই কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন বাংলাদেশের এই কর্মকর্তা। একই সঙ্গে যাচাইয়ের আওতায় শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
তৌফিক-উর-রহমান জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে। নতুন এই তথ্যগুলোও যেন যাচাই প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিবর্তে নিজস্ব জাতিগত পরিচয়সম্পন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ বলেছে, অতীতে মিয়ানমারও রোহিঙ্গাদের এই পরিচয় স্বীকার করেছে।
জবাবে রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো বলেন, ঢাকার উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো তিনি নেপিদোতে মিয়ানমার সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। যাচাই শেষ হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকারের কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে আবারও বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব কেবল রাখাইনে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে।




















