ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তার দাবি ৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুপস্থিত-পলায়ন: বিপ্লব, রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত পুলিশে বড় রদবদল, ২৩ কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন ৭ ধরনের মামলায় মধ্যস্থতার ক্ষমতা পেল সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস সাঁকো ভেঙে নদীতে জামায়াত নেতাকর্মীরা, রক্ষা পেলেন এমপি সমকামিতার’ অভিযোগ— ২ ঢাবি শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রূপান্তরের যুগে তরুণরাই সভ্যতার মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বরিশালে আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা জোরদার ভারত থেকে আসছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৯টি নতুন কোচ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তার দাবি ৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুপস্থিত-পলায়ন: বিপ্লব, রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত পুলিশে বড় রদবদল, ২৩ কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন ৭ ধরনের মামলায় মধ্যস্থতার ক্ষমতা পেল সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস সাঁকো ভেঙে নদীতে জামায়াত নেতাকর্মীরা, রক্ষা পেলেন এমপি সমকামিতার’ অভিযোগ— ২ ঢাবি শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রূপান্তরের যুগে তরুণরাই সভ্যতার মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বরিশালে আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা জোরদার ভারত থেকে আসছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৯টি নতুন কোচ

৭ ধরনের মামলায় মধ্যস্থতার ক্ষমতা পেল সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে মধ্যস্থতার (মেডিয়েশন) মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম।

সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আল ইমরান খানের সই করা ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি আইনের আওতাভুক্ত মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর), বিশেষ করে মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

আইনগুলো হলো— পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩; পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০; দণ্ডবিধি, ১৮৬০; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম বলেন, লিগ্যাল এইডে ‘প্রি-কেস’ অর্থাৎ মামলা দায়েরের আগের মধ্যস্থতা এবং ‘পোস্ট-কেস’ অর্থাৎ মামলা দায়েরের পর মধ্যস্থতা— দুই ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে প্রি-কেস মিডিয়েশনের সুযোগ নেই; সেখানে কেবল পোস্ট-কেস মিডিয়েশন হবে।

তিনি জানান, গুরুতর বা কগনিজেবল অপরাধ এ ধরনের মধ্যস্থতার আওতায় আসবে না। মূলত পারিবারিক বিরোধ বা সাধারণ মারামারির মতো ছোটখাটো বা পেটি নেচারের মামলায় মধ্যস্থতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

পারিবারিক বিরোধ

সার্কুলারে বলা হয়েছে, পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ৫ ধারার আওতায় বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, খোরপোষ এবং শিশুসন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত-সংক্রান্ত মামলা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা যাবে। আইনটির ৫ ধারায় এই পাঁচ ধরনের বিষয়ে পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইমতিয়াজ বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি সংসার টিকে গেলে সেটি ইতিবাচক বিষয়। আপসের ক্ষেত্রে দুই পক্ষকে বসিয়ে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সংসারে ফেরানোর চেষ্টা করা যায়, যা সাধারণত আদালতে হয় না। এ ছাড়া দেনমোহর বা পাওনা অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রেও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা যায়।

বাবা-মায়ের ভরণপোষণ

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫ ধারার মামলাও মধ্যস্থতার আওতায় রাখা হয়েছে।

কোনো সন্তান বাবা-মায়ের দেখভাল না করলে বাবা বা মা সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। এমন মামলা আপিল বা রিভিশনে হাইকোর্টে এলে আদালত চাইলে তা লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে পারে।

এ বিষয়ে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ইমতিয়াজ বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে বসব, বসে কথাবার্তা বলে যদি আপস করে দিতে পারি, আমি রিপোর্ট পাঠিয়ে দেব যে এটা এই এই শর্তে আপস হয়ে গেছে।’

তিনি জানান, লিগ্যাল এইড অফিস নিজে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করে না। আপস হোক বা না হোক, এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়। পরে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে।

যৌতুক ও নারী নির্যাতন

যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ও ৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারার মামলাও এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

ইমতিয়াজ জানান, কেউ যৌতুক দাবি করলে কিন্তু মারধর না করলে তা যৌতুক নিরোধ আইনের আওতায় পড়ে। আর যৌতুকের দাবিতে সাধারণ বা ‘সিম্পল’ আঘাত করা হলে তা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারার মামলা হয়। তবে হত্যা, ধর্ষণ বা দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারার মতো গুরুতর ও আপস-অযোগ্য অপরাধ এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না।

দণ্ডবিধির যেসব ধারা

সার্কুলার অনুযায়ী, দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৩ ধারায় বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়ার শাস্তি, ৪৪৭ ধারায় অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, ৪৪৮ ধারায় গৃহে অনধিকার প্রবেশ, ৩২৩ ধারায় স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, ৩২৪ ধারায় বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপকরণ দিয়ে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা এবং ৩২৫ ধারায় স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করার অপরাধের মামলা মধ্যস্থতার আওতায় নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া ৩৫৪ ধারায় নারীর ‘শালীনতা’ নষ্ট করার অভিপ্রায়ে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ৩৭৯ ধারায় চুরি, ৩৮০ ধারায় বাসগৃহ, ভবন, তাঁবু বা জলযানে চুরি এবং ৩৮১ ধারায় কর্মচারী বা ভৃত্যের চুরির মামলাও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ থাকছে।

সার্কুলারে দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারার অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ৪১৭ ধারার প্রতারণা, ৪২০ ধারায় প্রতারণা করে সম্পত্তি প্রদান করানোর শাস্তি, ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনর্বিবাহ, ৫০০ ধারায় মানহানি এবং ৫০১ ধারায় মানহানিকর বিষয় মুদ্রণ বা খোদাই-সংক্রান্ত মামলাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৫১১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার চেষ্টার মামলাও সার্কুলারে রাখা হয়েছে। তবে কোনো মামলায় একাধিক ধারা থাকলে পুরো মামলাটি মধ্যস্থতার আওতায় আসবে কি না, তা মামলার সামগ্রিক প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান এবং সার্কুলারে নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

দেওয়ানি ও অন্যান্য মামলা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৮ ও ৯ ধারায় সম্পত্তির দখল ফিরে পাওয়া, ১২ ধারায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন, ৩৯ ধারায় দলিল বাতিল, ৪২ ধারায় মালিকানা বা অধিকার সম্পর্কে ঘোষণামূলক ডিক্রি এবং ৫৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞার মামলাও মধ্যস্থতার আওতায় রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার চেক ডিজঅনারের মামলাও এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। ওই ধারায় ব্যাংকে অপর্যাপ্ত অর্থ বা নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থের কারণে চেক অনাদায়ী হওয়ার বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে। আদালতে কোনো মামলা নিষ্পত্তি হতে পাঁচ-সাত বছর লাগতে পারে। কিন্তু লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিষয়টি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

আদালতের রায়ে সাধারণত একটি পক্ষ জেতে এবং অন্য পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়। তবে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমঝোতা হলে দুই পক্ষই সন্তুষ্ট হতে পারে বলে মনে করেন ইমতিয়াজ। তিনি এটিকে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। লিগ্যাল এইডের এ সেবার জন্য কোনো টাকা-পয়সা লাগে না বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

৭ ধরনের মামলায় মধ্যস্থতার ক্ষমতা পেল সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে মধ্যস্থতার (মেডিয়েশন) মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম।

সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আল ইমরান খানের সই করা ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি আইনের আওতাভুক্ত মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর), বিশেষ করে মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

আইনগুলো হলো— পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩; পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০; দণ্ডবিধি, ১৮৬০; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম বলেন, লিগ্যাল এইডে ‘প্রি-কেস’ অর্থাৎ মামলা দায়েরের আগের মধ্যস্থতা এবং ‘পোস্ট-কেস’ অর্থাৎ মামলা দায়েরের পর মধ্যস্থতা— দুই ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে প্রি-কেস মিডিয়েশনের সুযোগ নেই; সেখানে কেবল পোস্ট-কেস মিডিয়েশন হবে।

তিনি জানান, গুরুতর বা কগনিজেবল অপরাধ এ ধরনের মধ্যস্থতার আওতায় আসবে না। মূলত পারিবারিক বিরোধ বা সাধারণ মারামারির মতো ছোটখাটো বা পেটি নেচারের মামলায় মধ্যস্থতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

পারিবারিক বিরোধ

সার্কুলারে বলা হয়েছে, পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ৫ ধারার আওতায় বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, খোরপোষ এবং শিশুসন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত-সংক্রান্ত মামলা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা যাবে। আইনটির ৫ ধারায় এই পাঁচ ধরনের বিষয়ে পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইমতিয়াজ বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি সংসার টিকে গেলে সেটি ইতিবাচক বিষয়। আপসের ক্ষেত্রে দুই পক্ষকে বসিয়ে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সংসারে ফেরানোর চেষ্টা করা যায়, যা সাধারণত আদালতে হয় না। এ ছাড়া দেনমোহর বা পাওনা অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রেও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা যায়।

বাবা-মায়ের ভরণপোষণ

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫ ধারার মামলাও মধ্যস্থতার আওতায় রাখা হয়েছে।

কোনো সন্তান বাবা-মায়ের দেখভাল না করলে বাবা বা মা সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। এমন মামলা আপিল বা রিভিশনে হাইকোর্টে এলে আদালত চাইলে তা লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে পারে।

এ বিষয়ে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ইমতিয়াজ বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে বসব, বসে কথাবার্তা বলে যদি আপস করে দিতে পারি, আমি রিপোর্ট পাঠিয়ে দেব যে এটা এই এই শর্তে আপস হয়ে গেছে।’

তিনি জানান, লিগ্যাল এইড অফিস নিজে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করে না। আপস হোক বা না হোক, এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়। পরে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে।

যৌতুক ও নারী নির্যাতন

যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ও ৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারার মামলাও এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

ইমতিয়াজ জানান, কেউ যৌতুক দাবি করলে কিন্তু মারধর না করলে তা যৌতুক নিরোধ আইনের আওতায় পড়ে। আর যৌতুকের দাবিতে সাধারণ বা ‘সিম্পল’ আঘাত করা হলে তা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারার মামলা হয়। তবে হত্যা, ধর্ষণ বা দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারার মতো গুরুতর ও আপস-অযোগ্য অপরাধ এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না।

দণ্ডবিধির যেসব ধারা

সার্কুলার অনুযায়ী, দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৩ ধারায় বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়ার শাস্তি, ৪৪৭ ধারায় অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, ৪৪৮ ধারায় গৃহে অনধিকার প্রবেশ, ৩২৩ ধারায় স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, ৩২৪ ধারায় বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপকরণ দিয়ে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা এবং ৩২৫ ধারায় স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করার অপরাধের মামলা মধ্যস্থতার আওতায় নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া ৩৫৪ ধারায় নারীর ‘শালীনতা’ নষ্ট করার অভিপ্রায়ে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ৩৭৯ ধারায় চুরি, ৩৮০ ধারায় বাসগৃহ, ভবন, তাঁবু বা জলযানে চুরি এবং ৩৮১ ধারায় কর্মচারী বা ভৃত্যের চুরির মামলাও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ থাকছে।

সার্কুলারে দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারার অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ৪১৭ ধারার প্রতারণা, ৪২০ ধারায় প্রতারণা করে সম্পত্তি প্রদান করানোর শাস্তি, ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনর্বিবাহ, ৫০০ ধারায় মানহানি এবং ৫০১ ধারায় মানহানিকর বিষয় মুদ্রণ বা খোদাই-সংক্রান্ত মামলাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৫১১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার চেষ্টার মামলাও সার্কুলারে রাখা হয়েছে। তবে কোনো মামলায় একাধিক ধারা থাকলে পুরো মামলাটি মধ্যস্থতার আওতায় আসবে কি না, তা মামলার সামগ্রিক প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান এবং সার্কুলারে নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

দেওয়ানি ও অন্যান্য মামলা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৮ ও ৯ ধারায় সম্পত্তির দখল ফিরে পাওয়া, ১২ ধারায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন, ৩৯ ধারায় দলিল বাতিল, ৪২ ধারায় মালিকানা বা অধিকার সম্পর্কে ঘোষণামূলক ডিক্রি এবং ৫৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞার মামলাও মধ্যস্থতার আওতায় রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার চেক ডিজঅনারের মামলাও এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। ওই ধারায় ব্যাংকে অপর্যাপ্ত অর্থ বা নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থের কারণে চেক অনাদায়ী হওয়ার বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে। আদালতে কোনো মামলা নিষ্পত্তি হতে পাঁচ-সাত বছর লাগতে পারে। কিন্তু লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিষয়টি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

আদালতের রায়ে সাধারণত একটি পক্ষ জেতে এবং অন্য পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়। তবে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমঝোতা হলে দুই পক্ষই সন্তুষ্ট হতে পারে বলে মনে করেন ইমতিয়াজ। তিনি এটিকে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। লিগ্যাল এইডের এ সেবার জন্য কোনো টাকা-পয়সা লাগে না বলেও জানান তিনি।