সমকামিতার’ অভিযোগ— ২ ঢাবি শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘সমকামিতা’র অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের দুজনের আসন বাতিল করেছে হল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (১২ আগস্ট) হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করে তাদের হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটি প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা। ঘটনা তদন্ত করে পরে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি তদন্তে হলের হাউজ টিউটর ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম সোহাগকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাবি প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ বলেন, অভিযুক্ত দুজনই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। আহমেদ আল সাবাহর দাবি, দুই শিক্ষার্থী অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে তাদের আসন বাতিল করে স্থানীয় অভিভাবকদের উপস্থিতিতে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আহমেদ আল সাবাহ আরও বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর একজন। তার দাবি, ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার রুমমেট কয়েক দিন ধরে তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ হওয়ায় গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হতো।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরও দাবি করেন, অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে যেসব ছবি ও ভিডিও দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তার রুমমেট ধারণ করেছেন এবং হল সংসদের জিএসের কাছে দিয়েছেন। রুমমেটের সঙ্গে জিএসের ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থীর পালটা অভিযোগ, ঘটনার পর তাকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবেও প্রচার করা হয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক বা ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এবং এর পেছনের কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



















