মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি: ১৩ বছর পর খালাসের আবেদন আযাদের
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা আবুল কালাম আযাদ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে খালাস চেয়েছেন। তার আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে করা হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। এটিই ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রথম রায়।
১৩ বছর আগে রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আযাদ পলাতক ছিলেন। ১৩ বছর পর গত ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান আত্মসমর্পণ করতে।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের রায় প্রকাশের এক মাসের মধ্যে আবেদন করার বিধান রয়েছে। এ অবস্থায় আবুল কালাম আযাদ ট্রাইব্যুনালের ১৩ বছর আগে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। এতে চার হাজার ৯১৫ দিন বিলম্ব মার্জনা (আপিল করতে দেরি হওয়ার জন্য মার্জনা) চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যদণ্ডের সাজা স্থগিতও চাওয়া হয়েছে।
গত ৬ জুলাই এ আপিল করেন আযাদ। পরে তার আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকসহ তিন বিচারপতির নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি সময় আবেদন করলে আপিল বিভাগ শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, আপিল আবেদনের সঙ্গে বিলম্ব মার্জনা ও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে আপিল আবেদনটি করা হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগেই তার দেশে ফেরার খবর আসে। জানা গেছে, আত্মসমর্পণের শর্তে নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করেছিলেন তখনকার রাষ্ট্রপতি।



















