সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের সব মামলায় জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
- আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা ৯টি মামলার সবগুলোতেই জামিন পেলেন তিনি। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর ফলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।
এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খায়রুল হকের জামিনের আদেশ দেন। তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলও জারি করেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সায়লা শাজনীন শান্তা।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালে ১৭ মে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের সপ্তাহখানেক পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন।
বছরখানেক পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওই রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
এরপর গত এক বছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, রায় ‘জালিয়াতি’ ও দুর্নীতির মোট ৯টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একাধিকবার তার নামে থাকা সবশেষ মামলায় জামিন পেলেও এর পরপরই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ফলে কারামুক্ত হতে পারেননি তিনি।
সবশেষ গত ৩০ জুন নিজের নামে থাকা অষ্টম মামলায় জামিন পেয়েছিলেন খায়রুল হক। সে দিনও তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, আগের সাতটি মামলায় আগেই জামিন পেয়ে যাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। তবে ২ জুলাই পুলিশ নতুন একটি মামলায় আবার তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানায়। পরে ৮ জুলাই শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুর রহমানের আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেন। ফলে কারাগার থেকে আর মুক্তি পাননি খায়রুল হক।
এক মাস পর সে মামলাতেও জামিন পেলেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। ফলে তার মুক্তিতে বাধা নেই বললেও পুলিশ আবার নতুন কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় জানিয়েছেন আইনজীবীরা।




















