ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তথ্যচিত্রে আবু সাঈদ ও খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় আক্ষেপ রাষ্ট্রপতির

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই শহিদ আবু সাঈদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ভুল তো মানুষ করেই। নিশ্চয়ই ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল ছিল। প্রথম ভুল আমি যে দেখেছি, সেখানে তো আবু সাঈদের ছবিই নেই। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে তো এটা কোনো ডকুমেন্টারি হলো না। সেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও নেই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত ওই তথ্যচিত্রটিতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে ফুটে ওঠেনি এবং বিশেষ করে ৩ আগস্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহকে পুরোপুরি অনুপস্থিত রাখা হয়েছে— এমন অভিযোগে উপস্থিত অতিথিদের একাংশ ক্ষুব্ধ হন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে হইচই শুরু করলে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তাৎক্ষণিক বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে আপনারা এই ডকুমেন্টারি দেখে মনে কষ্ট পেয়েছেন। এই জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান আমাদের সবার। তথ্যচিত্রে ৩ আগস্টের বিষয়সহ যে সব অসঙ্গতি রয়েছে, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব এবং দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেব।’

তথ্যচিত্রে ভুল থাকা এবং এ নিয়ে তৈরি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কাম্য নয় মোটেই কাম্য ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভুল হলে আমরা তা সংশোধন করতে চাই। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, হাওয়া থেকে উড়ে এসে বসেনি।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকার ভুল করলে জনগণ তা শুধরে দেওয়ার সুযোগ দেবে।’ একই সঙ্গে তিনি সবাইকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে হট্টগোল প্রসঙ্গে বলেন, “রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের সম্মান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘মা তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছেন। তার ছেলেটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চোখ হারিয়েছে। আজ যদি তারা মর্যাদা না পান, ছোটখাটো চাওয়া-পাওয়ার জন্য মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, সেটি জাতির জন্য লজ্জার।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অতীতের খুন, গুম, নির্যাতন, মানি লন্ডারিং ও আয়নাঘর প্রসঙ্গের পরও দলটির মধ্যে অনুশোচনা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে ডিসেম্বর মাসে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে। দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাআল্লাহ রাজপথে।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি; এখন ৮২ বছর বয়সেও দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাব।’

আবু সাঈদের মতো সাহসী মানুষ পৃথিবীতে বিরল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা— যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তথ্যচিত্রে আবু সাঈদ ও খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় আক্ষেপ রাষ্ট্রপতির

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই শহিদ আবু সাঈদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ভুল তো মানুষ করেই। নিশ্চয়ই ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল ছিল। প্রথম ভুল আমি যে দেখেছি, সেখানে তো আবু সাঈদের ছবিই নেই। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে তো এটা কোনো ডকুমেন্টারি হলো না। সেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও নেই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত ওই তথ্যচিত্রটিতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে ফুটে ওঠেনি এবং বিশেষ করে ৩ আগস্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহকে পুরোপুরি অনুপস্থিত রাখা হয়েছে— এমন অভিযোগে উপস্থিত অতিথিদের একাংশ ক্ষুব্ধ হন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে হইচই শুরু করলে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তাৎক্ষণিক বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে আপনারা এই ডকুমেন্টারি দেখে মনে কষ্ট পেয়েছেন। এই জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান আমাদের সবার। তথ্যচিত্রে ৩ আগস্টের বিষয়সহ যে সব অসঙ্গতি রয়েছে, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব এবং দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেব।’

তথ্যচিত্রে ভুল থাকা এবং এ নিয়ে তৈরি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কাম্য নয় মোটেই কাম্য ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভুল হলে আমরা তা সংশোধন করতে চাই। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, হাওয়া থেকে উড়ে এসে বসেনি।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকার ভুল করলে জনগণ তা শুধরে দেওয়ার সুযোগ দেবে।’ একই সঙ্গে তিনি সবাইকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে হট্টগোল প্রসঙ্গে বলেন, “রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের সম্মান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘মা তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছেন। তার ছেলেটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চোখ হারিয়েছে। আজ যদি তারা মর্যাদা না পান, ছোটখাটো চাওয়া-পাওয়ার জন্য মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, সেটি জাতির জন্য লজ্জার।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অতীতের খুন, গুম, নির্যাতন, মানি লন্ডারিং ও আয়নাঘর প্রসঙ্গের পরও দলটির মধ্যে অনুশোচনা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে ডিসেম্বর মাসে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে। দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাআল্লাহ রাজপথে।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি; এখন ৮২ বছর বয়সেও দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাব।’

আবু সাঈদের মতো সাহসী মানুষ পৃথিবীতে বিরল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা— যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবে।’