জাপানে টাইফুন: ৫ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ধীরগতির অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় টাইফুন ‘ডলফিন’ জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসায় প্রলয়ংকারী বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল সমুদ্রের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে অনতিবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ক্যাটাগরি-১ মাত্রার এই টাইফুনটির বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে কিউশু অঞ্চল ও ওকিনাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যবর্তী দ্বীপগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ঝড়ো পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টয়োটা’ ওই অঞ্চলে অবস্থিত তাদের ৯টি কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, ঝড়টি ওকিনাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর সময়ও এর তীব্রতা বজায় রাখবে। এর ফলে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ভেঙে পড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ‘লিনিয়ার রেইন ব্যান্ড’ বা তীব্র বজ্রবৃষ্টিসহ সংকীর্ণ বৃষ্টিবলয় তৈরি হতে পারে, যা দ্রুত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।
টাইফুনের প্রভাবে দেশটির সর্বদক্ষিণের প্রধান দ্বীপ কিউশুর সিংহভাগ এলাকায় ইতোমধ্যেই ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কুমামোটো জেলাও রয়েছে, যা মাত্র গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় কুমামোটোর প্রায় ৬,৭০০ জন অধিবাসী এখনো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে নতুন করে টাইফুনের আঘাত আশ্রয়প্রার্থীদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
এছাড়া ঝড়ের পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে জানিয়ে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও আলাদা সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।



















