শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী
- আপডেট সময় : ০১:২৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডেরর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রবি বা সোমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করবেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে একটি মামলায় হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান লতিফ সিদ্দিকী।
আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে পুলিশ তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আসামি করে। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাঁকে।
আজকের হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, সকালে তাঁকে জানানো হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি বলেন, আজ আদালতে না এলে মনে হতে পারত তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে তিনি সাধারণত আত্মগোপনে থাকেন না, বরং সব সময় প্রকাশ্যে থাকেন বলেই আদালতে হাজির হয়েছেন।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ওই সময় তিনি মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু শাপলা চত্বরের ঘটনা বা সে সময়কার কোনো বিষয় সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না।
এ সময় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, শেখ হাসিনা সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। ওই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত হন। তবে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন।
গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মঞ্চ-৭১ আয়োজিত একটি গোলটেবিল আলোচনায় একদল লোক প্রবেশ করে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়। পরদিন ওই ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান লতিফ সিদ্দিকী। পরে তিনি কারামুক্ত হন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৯ সালে তাঁকে মন্ত্রী করা হয়। হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ২০১৪ সালে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় এবং দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তাঁর সংসদ সদস্য পদও শেষ হয়।



















