আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এম্বোলোর লাল কার্ড ভুল ছিল, জানাল আইএফএবি
- আপডেট সময় : ০৫:১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। ম্যাচ রেফারিদের উদ্দেশে দেওয়া নতুন এক নির্দেশনায় সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই ম্যাচে এম্বোলোকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া উচিত হয়নি। একই সঙ্গে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, ভিএআর প্রোটোকলের ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ নিয়মটি ওই ঘটনায় প্রযোজ্য ছিল না।
গত মার্চ মাস থেকে ভিএআর প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার কাজ করছে জুরিখভিত্তিক আইএফএবি। সেই পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই এম্বোলোর লাল কার্ডের ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হয়। এ বিষয়ে সংস্থাটি গতকাল একটি ব্যাখ্যামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
আলভারেজ-লাউতারোতে স্বস্তি, সুইসদের কাঁদিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের ওই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ১-১ সমতা ফেরানোর কিছুক্ষণ পরই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। ম্যাচের ৭২ মিনিটে প্রতিপক্ষের ফাউলের অভিনয় (সিমুলেশন) করার অভিযোগে ভিএআর পর্যালোচনার পর এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। পরে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। তিনি বলেন, ‘রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি জানি তারা (ফিফা) তাদের রেফারিকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে। কিন্তু এই নিয়ম আজ আমাদের খেলাটা নষ্ট করে দিয়েছে। এভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়াটা ভীষণ কষ্টদায়ক।’
এম্বোলোর ঘটনাটি ছিল এমন— আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বাধায় মাঠে পড়ে যান তিনি। প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। পরে ভিএআর রেফারিকে জানায়, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। এরপর সিদ্ধান্ত বদলে এম্বোলোকে ফাউলের অভিনয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডে পরিণত হয়।
৯০ মিনিটে সমতায় আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড, খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে
তবে আইএফএবি এখন স্পষ্ট করেছে, ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ নিয়মের বর্তমান উদ্দেশ্য এটি নয়। এই নিয়মের কাজ হলো মূল ফাউলকারীকে কার্ড না দিয়ে ভুল করে অন্য কাউকে কার্ড দেওয়া হলে কেবল তা সংশোধন করা।
আইএফএবি আরও ব্যাখ্যা করেছে, ‘ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে শুধু ফাউলকারী সঠিক খেলোয়াড়কে শনাক্ত করা যাবে। মূল ফাউল বা অপরাধটি কী ছিল, তা পর্যালোচনা বা পরিবর্তন করা যাবে না।’
সংস্থাটির মতে, এই বিভ্রান্তির সূচনা হয়েছিল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই। তখন ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ নিয়মের পরিধি কিছুটা বাড়ানো হয়েছিল, যাতে খেলা চলাকালে স্পষ্ট ভুল সংশোধনে ভিএআর কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ক্ষমতা পান। সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচে টিম রিমের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে মিগুয়েল আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল।
‘নখদন্তহীন’ আর্জেন্টিনা, তারুণ্যের ডানায় ১৬ বছর পর স্পেনের বিশ্বজয়
তবে আইএফএবি জানিয়েছে, চলমান নিয়ম পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এম্বোলোর ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ নিয়ম প্রয়োগ করা যাবে না। ভবিষ্যতে অন্য কোনো টুর্নামেন্টে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য নিয়মটি সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
অবশ্য সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় বা সিমুলেশন রোধে ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ ধারাটির ব্যবহার সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
ফিফা মনোনীত কর্মকর্তা এবং ব্রিটিশ ফুটবলের চারটি ফেডারেশনকে নিয়ে গঠিত আইএফএবি প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি বা মার্চে বার্ষিক সাধারণ সভায় ফুটবলের আইন ও নিয়মকানুন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করে।




















