সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর সুবিধা, বন্ডেজ সুবিধা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আরও কার্যকরের কাজও অব্যাহত আছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নভোথিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিটের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। সে লক্ষ্য পূরণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে এগিয়ে নিতে চলতি বাজেটে এর সঙ্গে জড়িতদের চাহিদা অনুযায়ী সব সুবিধা নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প তৈরির কাঁচামালের ওপর সব ধরণের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়য়েছে।
তারেক রহমান বলেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতকে সরকার একটি জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এই খাতের উন্নয়ন কোনও একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটি একটি সম্মিলিত জাতীয় মিশন। বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বাজার বর্তমানে দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং, ইলেকট্রিক ভেহিকল, স্মার্ট ডিভাইস, 5G এবং 6G যোগাযোগব্যবস্থা, ডাটা সেন্টার এবং অটোমেশন প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে চিপের চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তাই নিজেদের মেধা এবং উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বাংলাদেশের সামনেও সম্মানজনক অবস্থান তৈরির এখনই সময়।
তারেক রহমান বলেন, ২০৩০ সালের দিকে বিশ্বে গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাবে সংশ্লিষ্টরা এমনটিই ধারণা করেছিলেন। তবে ২০২৬ সালের মধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে। সুতরাং এই মার্কেটে প্রবেশ করার জন্য বাংলাদেশের সামনেও এক অপার সুযোগ এবং সম্ভাবনা বিদ্যমান। আমি আশা করি, ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প থেকে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে একটি মেধাভিত্তিক বাংলাদেশের সম্ভাবনার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। এই আয়োজন কোনও একটি সাধারণ সম্মেলন নয়। বরং তা আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম কারিগরদের মিলনমেলা হিসেবেই অভিহিত করতে চাই। প্রবাসী বাংলাদেশি যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, এমন অনেকেই নিজ উদ্যোগে আজকের এই জাতীয় গুরুত্ত্বপূর্ণ সামিটে অংশ নিয়েছেন। আমি আপনাদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। এই সামিটে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি বিশারদগণের সাগ্রহ উপস্থিতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জন্য অবশ্যই অনুপ্রেরণাদায়ক বলে আমি মনে করি।
তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি মিলেমিশে চতুর্থ এবং পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ভিত্তি রচনা করেছে। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শুধু একটি শিল্পই নয়, এটি আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি। প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার এই সময়ে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃষি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ডাটা সেন্টার কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আধুনিক কল কারখানা কিংবা মহাকাশের স্যাটেলাইট– প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য। সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে একটি সেমিকন্ডাক্টর বা মাইক্রো-চিপ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের তিন হাজারেরও বেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী বর্তমানে আমেরিকা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতার প্রমাণ রেখে চলেছেন। ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, গবেষক, ম্যানেজার, উদ্যোক্তা হিসেবে অবদান রাখছেন। প্রবাসে বিশ্বস্বীকৃত এসব মেধাবীদের বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার বিষয়েও সরকরি-বেসরকারি পর্যায় থেকেই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, টেস্টিং, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং– এইসব ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছে।
তারেক রহমান বলেন, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রফতানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকা স্টার্ট আপ অনুদান বরাদ্দ রেখেছে। কয়েকটি স্টার্ট আপ অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর সুবিধা এবং বন্ডেজ সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আরও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূলতা আর নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েই বাংলাদেশ বর্তমানে কৃষি, পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং ডিজিটাল সেবায় সফলতা দেখাচ্ছে। আমাদের মেধাবী তারুণ্য, দক্ষ এবং উদ্যমী জনশক্তির উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করে পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক গন্তব্য।



















